মানুষ সর্বাবস্থায় সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী, আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ ছাড়া এক মূহুর্তও এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। দোয়ার মাধ্যমে বান্দার সাথে প্রতিপালকের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অন্যভাবে বলা যায় যে, দোয়া ও প্রার্থনা হচ্ছে স্রষ্টার সাথে বান্দার সম্পর্কের সেতুবন্ধন স্বরূপ। প্রার্থনার মাধ্যমে বান্দারা দয়াময় আল্লাহর প্রতি তাসের ইবাদত ও উপাসনার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। মূলতঃ দোয়া ও প্রার্থনার মাধ্যমে মানুসের ইবাদত ও বন্দেগীর গভীরতা লাভ করে। পবিত্র রমযান মাস হচ্ছে মু’মিনদের জন্য দোয়া ও প্রার্থনার বসন্তকাল। হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী এ মাসে রোযাদারের প্রার্থনা ‘আল্লাহর দরবারে কবুল হয়। যেহেতু দোয়া ও প্রার্থনার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে বান্দার গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাই, স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাও চান তার বান্দারা এভাবে দোয়ার মাধ্যমে স্রষ্টার সাথে সম্পর্ক অব্যাহত রাখুক। এ কারণেই পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহর নিকট দোয়া ও প্রার্থনার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এখন আমরা এ সম্পর্কিত কিছু আয়াত এখানে উল্লেখ করছি- “তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন, ‘তোমরা আমার নিকট প্রার্থনা কর, আমি তোমাদের প্রার্থনা গ্রহণ করব। যারা আমার উপাসনা হতে সদম্ভে বিমুখ থাকে তারা শিঘ্রই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত হয়ে।(সূরা মু’মিন : ৬০ )
“(হে রাসূল!) যখন আমার বান্দা আমার সম্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞেস করে তখন (বলে দাও) আমি তাদের সন্নিকটেই আছি এবং যখনই কেউ আমার নিকট প্রার্থনা করে তখন আমি প্রার্থনাকারীর প্রার্থনার উত্তর দেই (যা সমীচীন তা কবুল করি)। সুতরাং, তাদের আমার আহ্বানে সাড়া দেওয়া এবং আমার প্রতি বিশ্বাস পোষণ করা উচিত; যাতে তারা সঠিক পথ পায়।”(সূরা বাকারা। ১৮৬)
আল্লাহ মানুষের একমাত্র স্রষ্টা। তাই তিনিই মানুষের অন্তরের খবরাদি ও যাবতীয় চাহিদাদি সম্পর্কে সম্যক অবহিত। এ সম্পর্কে তিনি পবিত্র কুরআনে ইশারা করেছেন, “নিঃসন্দেহে আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি এবং তার প্রবৃত্তি তাকে যা কিছু প্ররোচনা দেয় সে সম্বন্ধে আমি অবহিত এবং আমরা তো তার গ্রীবাস্থিত ধমনী অপেক্ষা নিকটতর।”।( সূরা কাফ:১৬)”
“তিনি চক্ষুসমূহের অবিশ্বস্ততা (বিশ্বাস ঘাতকতা) এবং অন্তরসমূহ যা গোপন করে সে সম্বন্ধেও অবহিত।(“সুরা মুমিন: ১৯ )
” নবী-রাসূলগণ (আ.) মহান আল্লাহর নিকট কিভাবে দোয়া করতেন সে সম্পর্কে আল কুরআনে আমাদেরকে শিক্ষা দেয়া হয়েছে। হযরত মুসা (আ.) আল্লাহর দরবারে এভাবে প্রার্থনা করেছেন, “হে আমার প্রতিপালক। (এখন) তুমি যে কল্যাণই আমার ওপর অবতীর্ণ কর নিশ্চয় আমি তার মুখাপেক্ষী।”(সুরা কাসাস। ২৪)
” অন্যত্র তিনি আল্লাহপ্রদত্ত অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে এভাবে প্রার্থনা করেছেন: সে (মুসা আরও) বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক। যেহেতু তুমি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছ, সুতরাং আমি কখনও কোন অপরাধীর সাহায্যকারী হব না।” আল্লাহ পবিত্র কুরআনে স্বীয় রাসূলকে (সা.) এভাবে প্রার্থনার শিক্ষা দিয়েছেন: বল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি কর।(সূরা ত্বোহা: ১১৪) এবং বল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে তোমার নিকট আশ্রয় কামনা করি।(‘সূরা মু’মিনুন: ৯৭)
হ্যাঁ, পবিত্র কুরআনের আলোকে রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর আহলে বাইতগণ (আ.) আমাদেরকে এভাবে দোয়া ও প্রার্থনার শিক্ষা দিয়েছেন। আমরা এসব দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর অতুলনীয় গুণাবলির সাথে পরিচিত হই। কুরআনে নবী-রাসূলগণের (আ.) কৃত দোয়া ও প্রার্থনার মাধ্যমে আমরা তাদের জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে অবহিত হতে পারি। আমরা নিজেদের জীবনের নানাবিধ ঘটনাপ্রবাহে যখন কোন বিপদাপদের মুখোমুখি হই, তখন তা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে মুনাজাত ও প্রার্থনা করি। আবার যখন আমাদের জীবনে খোদাপ্রদত্ত কোন নেয়ামত ও অনুগ্রহের শুকরিয়া জ্ঞাপন করার ইচ্ছাপোষণ করি, তখন আল্লাহর দরবারে প্রার্থনার মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকি। মূলতঃ দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে আমরা নিজেদের বাস্তব ও অভ্যন্তরীণ অবস্থা দয়াময় আল্লাহর নিকট প্রকাশ করি।