নামায যদি ঐশী নেতাগণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে অত্যাচার ও খোদাদ্রোহীতার মূলোৎপাটন ঘটাবে। ইমাম রেযার (আ.) ঈদের নামায এমন শানশওকত ও মহত্তে¡র সঙ্গে আরম্ভ হয়েছিল যে, স্বৈরাচারী সরকারের হুকুমত স্বয়ং কেঁপে উঠেছিল এবং বুঝতে পেরেছিল যে, যদি এ নামায এভাবে সম্পাদিত হয় তবে আব্বাসীয় বংশের রাষ্ট্রক্ষমতারও কবর রচিত হবে। আর এ কারণেই মামুন হুকুম দিয়েছিল যে, মধ্য পথ হতে ইমামকে যেন ফিরানো হয়।
আজকের মুসলমানদের নামাযগুলির কোনো প্রভাব না থাকার কারণ এই যে, কুরআনের কিয়দংশের প্রতি আমল করা হচ্ছে এবং কিয়দংশের কথা ভুলে গেছে। কারণ কুরআন বলছে: “ওয়া আক্বীমুস্ সালাতা ওয়া আতুয্ যাকাতা ওয়া আত্বী’র্য়ু রসুল্।(সূরা: নূর, ৫৬তম আয়াত।)” অর্থাৎ নামায প্রতিষ্ঠা কর, যাকাত প্রদান কর এবং আল্লাহর রসুলের পদাঙ্ক অনুসরণ কর।
কিন্তু আজ অনেকে নামায আদায় করে অথচ যাকাত প্রদান করে না, আবার অনেকে নামায আদায় ও যাকাত প্রদানকারীর অন্তর্ভুক্ত কিন্তু কাফিরদের বেলায়েতকে গ্রহণ করেছে। অন্য কথায়, আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে কিন্তু তাগুতকে অস্বীকার করে না। আর এ হচ্ছে ঘাটতিযুক্ত ঈমান।
যেখানে মহান আল্লাহ বলছেন: “ফা মায়্ ইয়াক্ফূর বিত্্ ত্বাগুতি ওয়া ইয়ুমিন্ বিল্লাহি ফাক্বাদিস্ তাম্সাকা বিল্ উরওয়াতিল্ উছ্কা।(সূরা: বাকারাহ, ২৫৬তম আয়াত)” অর্থাৎ যারা তাগুতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তারা আল্লাহর রশিকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করেছে।
অর্থাৎ তাগুতকে অস্বীকার করা এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা আবশ্যক। কিন্তু আজকাল মুসলমানরা কুফর ও তাগুতগুলির সঙ্গে সম্পর্কোচ্ছেদ করার কথা ভুলে গেছে। তাই যারা তাগুতের নিকট রুজু করে তাদের ব্যাপারে কুরআন বলছে: তারা ধারণা করে যে, তারা মুমিন; “আলাম্ তারা ইলাল্ লাযীনা ইয়ায্’উমূনা আন্নাহুম আ’মানূ।( সূরা: নিসা, ৬০তম আয়াত)”।
ফজর/ ইয়াসিন
( সূত্র : তাফসীরে নামায গ্রন্থ থেকে)
