যদি কোন ব্যক্তিকে তার নিজের হিসাব নিতে কোন কিছুই বাধ্য না করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সামনে উপস্থিত হওয়ার লজ্জা এবং গোপন বিষয়গুলোর উপর থেকে পর্দা ছিঁড়ে নেয়ার বেইযযতি ছাড়া , তাহলে মানুষ পাহাড়ের চুড়া থেকে নিজেকে নীচে ফেলে দিতো এবং কোন বাড়িতে আশ্রয় নিতো না , সে খেতোও না পানও করতো না এবং ঘুমাতোও না শুধুমাত্র নিজের জীবন বাঁচানোর প্রয়োজন ছাড়া। এরকম আচরণই করে মানুষ প্রত্যেক শ্বাস গ্রহণের সাথে যখন সে কিয়ামত (পুনরুত্থান) দেখতে পায় এর আতংক ও দুঃখ-কষ্টসহ। সে তার অন্তরের ভিতরে সে সময়টিকে দেখতে পায় যখন সর্ব-বাধ্যকারী খোদার সামনে সে দাঁড়াবে এবং যখন সে নিজের হিসাব নেয় তখন সে যেন দেখতে পায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সামনে তাকে ডাকা হয়েছে উপস্থাপনের জন্য এবং তাকে যেন মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেনঃ
‘‘ যদি সরিষা দানার ওজনেও হয় , তাও আমরা উপস্থিত করবো এবং আমরা হিসাব নেয়ার জন্য যথেষ্ট।’’ (সূরা আম্বিয়াঃ ৪৭)
ইমামদের একজন (আ.) বলেছেনঃ‘‘ নিজের হিসাব নাও তোমাকে হিসাব দেয়ার জন্য ডাকার আগেই। তোমার কাজকর্মকে তোমার লজ্জা পাওয়ার ভয়ের দাঁড়িপাল্লায় ওজন করো , তোমার জন্য তা ওজন করার আগেই।’’
আবু যার বলেছেনঃ‘‘ জান্নাতের উল্লেখ হচ্ছে মৃত্যু এবং জাহান্নামের আগুনের উল্লেখ করাতেও তাই। কী আশ্চর্য যে একজন ব্যক্তির সত্তা বাস করে দুটি মৃত্যুর মাঝে।’’
বর্ণিত আছে ইয়াহইয়া (আ.) পুরো রাত ভাবতেন জান্নাত ও জাহান্নাম নিয়ে , এতে তার রাত কাটতো জাগ্রত অবস্থায় এবং তিনি ঘুমাতেন না। এরপর সকাল বেলায় তিনি বলতেনঃ‘‘ হে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা , মানুষ কোথায় পালাবে ? কোথায় মানুষ থাকতে পারে ? হে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা , মানুষ পালাতে পারে শুধু তোমার কাছে।’