অন্যান্য মুসলমানদের মত ইমাম হাসান মুজতাবা’র (আ.) মসজিদে আসতেন। মসজিদে ওয়াজিব নামাজ ও কখনো কখনো মুস্তাহাব নামাজ আদায় করতেন। তবে, মসজিদে প্রবেশের সময় অন্যান্য ব্যক্তির তুলনায় এ মহৎ ব্যক্তির কিছু স্পষ্ট পার্থক্য ছিল। কারণ মসজিদের ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ অনুভূতি ছিল। ইমাম হাসান মুজতাবা (আ.) যখনই মসজিদে প্রবেশ করতেন, মাথা আকাশের দিকে উঁচু করে বলতেন: হে আল্লাহ! আপনার মেহমান আপনার ঘরে (মসজিদে) এসেছে, হে মহান স্রষ্টা। অধম বান্দা আপনার কাছে এসেছে। অতএব, হে দয়ালু! আপনার মহত্বের মাধ্যমে আমার মন্দ কাজগুলো ক্ষমা করে দিন।
হ্যাঁ! ইমাম হাসান মুজতাবা (আ.) মসজিদকে নেক ও পুণ্যবান ব্যক্তিদের জন্য মহান আল্লাহর মেহমানখানা মনে করেন। মসজিদে যারা প্রবেশ করেন ও নামাজ আদায় করেন, তাদেরকে আল্লাহ তায়ালার মেহমান হিসেবে উল্লেখ করেন। এমতাবস্থায়, ইমাম হাসান (আ.) মসজিদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে আল্লাহর দরবারে অত্যন্ত বিনয়ী হয়ে বলেন: হে আল্লাহ! আপনার মেহমান আপনার ঘরে (মসজিদে) এসেছে; অর্থাৎ এখন তাঁর জন্য দরজা খুলে দিয়ে তাকে গ্রহণ করুন। মেহমানের আপ্যায়ন সম্পর্কে এভাবে উল্লেখিত হয়েছে, আমি পাপী বান্দা এবং আপনার নিকট যা কিছু রয়েছে সব কিছুই সুন্দর ও উত্তম। আপনার নিকট যে সকল ভালো ও উত্তম রয়েছে তার ওসিলায় আমার মন্দ ও পাপ কর্মগুলো ক্ষমা করে দিন। এছাড়াও এ বিষয়টি শেখ নাসির ইবনে মুহাম্মাদ সামারকান্দী হানাফিও তার রচিত তাম্বিহাতুল গাফেলিন গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: যখন হযরত হাসান ইবনে আলী (আ.) মসজিদের দরজায় পৌঁছাতেন, তখন তিনি আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে নীচের এ বাক্যটি পড়তেন: ا
হে আল্লাহ! আপনার বান্দা আপনার ঘরে (মসজিদে) প্রবেশ করেছে, হে মহান! গোনাহগার বান্দা আপনার নিকটে এসেছে। আপনি অনুগ্রহকারী এবং আমি পাপী বান্দা। অতএব, আপনার সদাচার ও মহত্বের মাধ্যমে আমার মন্দ কাজগুলো ক্ষমা করে দিন।
হ্যাঁ ইমাম হাসান মুজতাবা (আ.) মসজিদকে আল্লাহর সৎকর্মশীল বান্দাদের ঘর হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং নামাজীদের আল্লাহর মেহমান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একারণেই তিনি মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে ক্রন্দনরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে মিনতী করে বলতেন, হে আল্লাহ! আপনার মেহমান আপনার বাড়ীতে এসেছে অর্থাৎ এখন আপনি তার জন্য দরজা খুলে দিন এবং তাকে গ্রহণ করুন। অতঃপর তিনি মেহমানকে আপ্যায়ন করার জন্য বলছেন, আমি অধম ও গোনাহগার বান্দা আর আপনি হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ পালনকর্তা। সুতারং আপনার মহানুভতা ও দয়ার মাধ্যমে এই গোনাহগার বান্দাকে ক্ষমা করে দিন। এ দোয়া শেষ হওয়ার পর তিনি মসজিদে প্রবেশ করতেন।