ইবনে আব্দুলবের “আল ইস্তেয়ার” গ্রন্থে হযরত আয়েশা হতে বর্ণনা করেনঃ রাসূলের (সা.) সাথে কথাবার্তা, চেহারা, আচরণ এবং ভাবগাম্ভীর্যের দিক থেকে ফাতেমা যাহরার (আ.) ন্যায় সাদৃশ্যপূর্ণ অন্য কাউকে দেখিনি। যখন তিনি রাসূলের (সা.) সাথে সাক্ষাতের জন্য আসতেন, তখন রাসূল (সা.) তাঁর হাতে চুম্বন দিতেন এবং তাঁকে স্বীয় আসনে উপবেশন করাতেন। (আইয়ানুশ শিয়া, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩০৭)
আমি এ হাদীসটি সুন্নী সম্প্রদায়ের নির্ভরযোগ্য রাবীর উদ্ধৃতি দিয়ে এজন্য বর্ণনা করেছি, যাতে এখানে নিরপেক্ষতার বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে যায়। এ হাদীসটি আমাদেরকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি নির্দেশ করে, যথাঃ
এক- রাসূলের (সা.) সত্তার সাথে ফাতেমা যাহরার (আ.) সত্তা এমন গভীরভাবে মিশে গিয়েছিল যে, তাঁদের উভয়ের মধ্যে সর্বদিক থেকে সাদৃশ্যতা বিদ্যমান ছিল। অপর একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছেঃ ফাতেমা যাহরা (আ.) রাসূলের (সা.) ন্যায় পথ চলতেন। (প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩০৭)
রাসূল (সা.) ছিলেন একই সাথে তাঁর পিতা, মুরুব্বী ও শিক্ষাগুরু। তিনি প্রতিনিয়ত রাসূলের (সা.) মহিমান্বিত চরিত্র ও আধ্যাত্মিকতায় পরিপূর্ণ পবিত্র আত্মা থেকে নব নব শিক্ষা-দীক্ষা অর্জন করতেন। রাসূল (সা.) ছিলেন মক্কায় ফাতেমার (আ.) সমগ্র জীবন এবং মদীনায় সর্বক্ষণ তাঁর জীবনের অংশবিশেষ। তাঁরা উভয়ে দিবারাত্র একান্ত আলাপে রত থাকতেন। এমন প্রতিভাময়ী কন্যা পিতা রাসূলুল্লাহর (সা.) নিজস্ব তত্ত্বাবধানে সর্বোত্তম শিক্ষায় সুশিক্ষিত হয়েছেন।
দুই- রাসূল (সা.) ও ফাতেমা যাহরার (আ.) মধ্যকার সুনিবিড় সম্পর্ক ছিল সম্পর্ণ ব্যতিক্রম। কেননা রাসূল (সা.) অন্য কারও প্রতি এমন সম্মান প্রদর্শন করেন নি। অর্থাৎ ফাতেমা (আ.) তাঁর নিকট আসলে তিনি দাঁড়িয়ে তাঁর হাতে চুম্বন দিতেন এবং তাঁকে স্বীয় আসনে উপবেশন করাতেন। অনুরুপভাবে ফাতেমা যাহরাও (আ.) তাঁর পিতা ব্যতিত অন্য কারও প্রতি এমন সম্মান প্রদর্শণ করেন নি। সুতরাং তাদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক আদৌ বাহ্যিক ছিল না। বরং তা ছিল উভয়ের সত্তা ও অস্তিত্বের গভীরে প্রোথিত।