এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা সঙ্গত। ওহাবীগণ এবং আহলে সুন্নাতের অনেক আলেম আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.) ও পবিত্র আহলে বাইতের ফযীলতের হাদীসের মুখোমুখী হন তখন তারা শুধুমাত্র রাবিগণ শিয়া হওয়ার অজুহাতে হাদিসসমূহ নির্ভরযোগ্য এবং সহীহ হওয়া সত্তে¡ও সেগুলোকে দুর্বল মনে করেন। যদিও সুন্নতের কিছু বড় মুহাদ্দিসগণ স্বীকার করেছেন যে, সুন্নীরা যদি শিয়া রাবিদের হাদিসসমূহকে উপেক্ষা করে, তাহলে আল্লাহর রাসূলের (সা.) সুন্নাতের কিছুই তাদের কাছে অবশিষ্ট থাকবে না।
যাহাবী বলেন: যদি শিয়া বর্ণনাকারীদের হাদিস প্রত্যাখ্যান করা হয়, তাহলে আল্লাহর রাসূল (সা.) থেকে বর্ণিত অনেক হাদিস নষ্ট হয়ে যাবে এবং এটা হবে সুস্পষ্ট দুর্নীতির কারণ। (সিয়ার আলামুন নুবালা, খন্ড১, পৃ. ৫৯; মিজান আল-এতেদাল, খন্ড ১, পৃ. ৬, হা. ২)
বুখারীর শিক্ষক আলী বিন মাদিনী বলেন: শিয়াদের কারণে কুফিদের হাদিস বর্জন করলে কিতাবগুলো ধ্বংস হয়ে যাবে। খতিব বাগদাদী বলেছেন: ইবনে মাদিনীর কথায় “বইগুলো ধ্বংস হয়ে যাবে” বলতে যা বোঝায় তা হল “হাদিসগুলো অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাবে।” (আল কিফায়া ফিল ইলমির রেওয়ায়াত, পৃ. ১৫৭)
এসব স্বীকারোক্তির মাধ্যমে সুন্নি মাযহাবে শিয়া বর্ণনাকারীদের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আর যাদের লক্ষ্য আহলে বাইতের আলো নিভিয়ে দেওয়া, মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং আহলে বাইতের অবস্থান সম্পর্কে অন্যদেরকে বে-খবর রাখা, তারা সমস্ত শিয়া বর্ণনাকারীকে দুর্বল করে দেয়ার এবং তাদের বর্ণনা গ্রহণ না করার পাঁয়তারা করতে চায়! এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আহলে বাইতের ফযীলতের বর্ণনায় তারা কি আসলেই এমন কাজ করতে পারে? উত্তর অবশ্যই নেতিবাচক; কারণ তারা জানে যে, তারা যদি এমন পদ্ধতি অবলম্বন করে তাহলে তাদের অনেক হাদিস যার মধ্যে সহীহ বুখারী ও মুসলিমের অনেক হাদিসকে বাদ দিতে হবে!
আমাদেরকে পবিত্র কুরআনের এই সম্মানিত আয়াতের দৃষ্টান্ত হওয়া উচিত হবে না যেখানে বলা হয়েছে: “তারা কিতাবের কিছু অংশকে বিশ্বাস করে এবং কিছু অংশকে প্রত্যাখ্যান করে।” সুতরাং হয় শিয়া বর্ণনাকারীদের সব হাদিস ত্যাগ করা উচিত নয়তো সবগুলোকেই গ্রহণ করা উচিত।