সূরা তাগাবুনের তাফসীর

ধর্ম পালনে আল্লাহর পরম জ্ঞানের উপর বিশ্বাসের ভূমিকা
লক্ষ্য করুন, যদি কোনো ব্যক্তি তার সমস্ত সত্তা সহকারে আল্লাহকে সর্বজ্ঞ বলে মনে করে, তাহলে আল্লাহর পরম জ্ঞানের উপর এই বিশ্বাস—যা মানুষের জন্য সঠিক ও মধ্যমপন্থার জীবনযাপনের পথে অটল থেকে আল্লাহর বন্দেগি ও উপাসনায় বিশেষ প্রভাব ফেলে—বিশ্বপ্রতিপালকের পক্ষ থেকে মানুষের জন্য যে জীবন বিধান জারি করা হয়েছে সে বিধানের প্রতি আনুগত্য এবং আত্মসমর্পণের কারণ হয়| অধিকাংশ বিচ্যুত ও বিপথগামী লোকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তারা ঐশী আইনের কাছে বশ্যতা স্বীকার করেনি; বরং তারা নিজেদের মনে কিছু লালন করেছিল এবং এটাকে ঐশী বিধান ও আল্লাহর আদেশ হিসেবে বিবেচনা করেছিল| এই কারণেই কুরআনে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে যাতে আমরা আল্লাহর বিধানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করি| নবী-রাসূলগণ (আ.) যেসব ফায়সালা ও দিকনির্দেশনা দেন সেগুলো যথাযথভাবে মান্য করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব| এখানে আত্মসমর্পণের অর্থ হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের প্রতি জারিকৃত বিধানাবলিকে ঐশী বিধান হিসেবে গ্রহণ করা এবং সেগুলোর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করা| এমন অনেক লোক আছে—অবশ্য আজকের পৃথিবীতে এ ধরনের অনেক মানুষ আছে এবং অতীতেও ছিল—যারা তাদের নিজস্ব মনঃপুত, আবেগতাড়িত এবং যেসব বিষয় নিজেদের কাছে ভালো ও উপযুক্ত মনে হয় সেগুলোকে আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য প্রণীত বিধানাবলির উপর তুলনামূলক বেশি প্রাধান্য দেয়| এমনটির মুখ্য কারণ হচ্ছে তারা এ সৃষ্টিজগতের যাবতীয় বিষয়াদি সম্পর্কে সৃষ্টিজগতের প্রতিপালকের গভীর ও সম্যক জ্ঞানকে যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারেনি; এ বিষয়টি তাদের নিকট সুস্পষ্ট হয়নি কিংবা তাদের কাছে সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি| অন্যথায়, যদি মানুষ বুঝতে পারে এবং তার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, মহাবিশ্বের সমস্ত কণা এবং মানব অস্তিত্বের সমস্ত ˆবশিষ্ট্য এবং গোপনীয়তা সম্পর্কে আল্লাহর অপরিসীম জ্ঞান রয়েছে; এমনকি বিশ্বপ্রতিপালক মানুষের জন্য কল্যাণের বিষয়ে তার নিজের চেয়েও ভালো জানেন—কারণ, তিনি মানুষের স্রষ্টা—তাহলে মানুষ ঐশী আদেশের কাছে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করতে দ্বিধাবোধ করত না| আপনারা লক্ষ্য করবেন, ইতিহাসে যারা নবীদের সামনে একগুঁয়ে ছিল, তাদের সে একগুঁয়ে মানসিকতা তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থাৎ তাদেরকে সত্য থেকে বঞ্চিত করেছে|
সুতরাং আমরা যদি আলোচ্য সূরার প্রথম আয়াত থেকে এ পর্যন্ত, অর্থাৎ এ দু’তিনটি আয়াতের প্রতি দৃষ্টিপাত করি তাহলে দেখতে পাব যে, এ দুই বা তিনটি আয়াতে উল্লিখিত শিক্ষা ও জ্ঞানসমূহ এ বাস্তবতার প্রতি আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে যে, আমরা যদি আমাদের জীবন ও কল্যাণকে সুরক্ষিত করতে চাই, তাহলে অবশ্যই ঐ সব শিক্ষা ও জ্ঞানকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে| কাজেই মানব জীবনে কেবল তখনই সফলতা আসবে যখন মানুষ এ বিশ্বদৃষ্টি এবং এ আয়াতগুলোতে উল্লেখিত শিক্ষা-দীক্ষাকে নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করবে|

Related posts

সূরা তাগাবুনের তাফসীর

সূরা তাগাবুনের তাফসীর

সূরা তাগাবুনের তাফসীর

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More