পূর্বগামী জাতিসমূহের কুফরের শাস্তি থেকে শিক্ষা গ্রহণের অপরিহার্যতা
বিষয়টি বিশেষভাবে অনুধাবনযোগ্য। বলা হয় যে, যেভাবে পূর্বগামীরা—অতীত কাফিররা—যারা সত্যদ্বীনকে অস্বীকার করার কারণে সময়ের আবর্তে শাস্তি ভোগ করেছে, চড়-থাপ্পড় খেয়েছে, দুর্ভাগ্য সহ্য করেছে, ক্ষতির শিকার হয়েছে, তারা পরকালেও কঠিন আযাবের শিকার হবে। আমাদের অবস্থাও অনুরূপ অর্থাৎ আমরাও যদি সত্যকে অস্বীকার করি, ঐশী শিক্ষাকে উপেক্ষা করি তবে আমাদেরকেও তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে। এ কারণে তো বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমাদের নিকট কি পূর্বগামীদের বার্তা পৌঁছায়নি? এখানে অতীত জাতিসমূহের কোনো সাধারণ খবরের ও বার্তার কথা বলা হয়নি; বরং তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ কোনো বার্তা। এ বার্তা হচ্ছে অতীত জাতিসমূহের মধ্যে যারা সত্যধর্মকে অস্বীকার করেছিল এবং কাফির হয়েছিল তাদের সম্পর্কে। সে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি হলো যে, একজন নবী (আল্লাহর পক্ষ থেকে) এসে তাদেরকে সংশোধন, সমৃদ্ধি, ন্যায়সঙ্গত ও মর্যাদাপূর্ণ মানব জীবনের পথ দেখিয়েছেন—অবশ্য এ পথ অতিক্রম করতে তাঁকে অনেক সংগ্রাম, চেষ্টা-প্রচেষ্টা, ইচ্ছাশক্তি, কষ্ট-দুঃখ ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে—কিন্তু তারা সে পথকে অস্বীকার করেছে; ফলে কঠিন আযাবের শিকার হয়েছে। এ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা কি তোমাদের নিকট পৌঁছায়নি?
লক্ষ্য করুন, এ বার্তাটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ; কেননা, একটি জাতি তাদের প্রতি প্রদত্ত জ্ঞান, অন্তর্দৃষ্টি ও বোধগম্যতাকে উপেক্ষা করে এবং সেগুলোর উপর আমল করা থেকে বিরত থাকে; অতঃপর এহেন উদাসীনতার ফলে তারা হতাশা ও বিপদগ্রস্ত ও অসহায়ত্বের শিকার হয়। এ বিষয়টি কোনো সাধারণ খবর বা বার্তা নয়; বরং অনুধাবনযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এ কারণেই তো বলা হয়েছে,‘তোমাদের নিকট কি পূর্ববর্তী কাফিরদের বৃত্তান্ত (গুরুত্বপূর্ণ বার্তা) পৌঁছায়নি?’ এর পর তাদের কুফর বা সত্য অস্বীকারের কঠিন পরিণতির কথা উল্লেখ করা হয়েছ ‘তারা তাদের কৃতকর্মের সাজা আস্বাদন করেছিল।’ বিষয়টি এমনই।
হযরত মূসা (আ.) আগমন করেন এবং সাথে এক স্পষ্ট অলৌকিক নিদর্শন নিয়ে আসেন; তখন উপস্থিত দর্শক ও পর্যবেক্ষকদের মধ্যে কোনো ধরনের সন্দেহের অবকাশ ছিল না যে, এ নিদর্শন মহান আল্লাহর কাছ থেকে এসেছে। তিনি বলেন : হে লোকসকল! তোমরা ফেরাউনকে খোদা হিসেবে বিশ্বাস কর না, সে তোমাদের উপর অবিচার করছে। তিনিই আল্লাহ, যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। তোমরা আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ কর যাতে জীবনে শান্তি ও কল্যাণ খুঁজে পেতে পার এবং আল্লাহ যেন তোমাদেরকে ক্ষমা করেন। যাইহোক, সে লোকগুলো তো তা প্রত্যক্ষ করছিল, তাদের তো চোখও ছিল, তারা বুঝতেও পেরেছিল, কিন্তু কেন তারা সে সত্য গ্রহণ করেনি? কেন তারা সত্যের কাছে আত্মসমর্পণ করা থেকে বিরত ছিল? একটি দল ফেরাউনের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিল; ফলে তাদের উপর সে দুর্দশা নেমে এসেছিল এবং ফলে তারা পানিতে ডুবে গিয়েছিল। আবার তাদের কেউ কেউ ফেরাউনের সমাজের কালো অধ্যায়ের মধ্যে রয়ে গিয়েছিল। বিষয়টি এমনই ছিল।