সূরা তাগাবুনের তাফসীর

by Syed Yesin Mehedi

৫) তোমাদের নিকট কি পূর্ববর্তী কাফিরদের বৃত্তান্ত পৌঁছায়নি? তারা তাদের কৃতকর্মের সাজা আস্বাদন করেছিল এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (৬) এটা এ কারণে যে, তাদের নিকট তাদের রাসূলগণ স্পষ্ট প্রমাণসহ আসত, কিন্তু তারা বলত, ‘মানুষ কি আমাদের পথ প্রদর্শন করবে?’ বস্তুত তারা অবিশ্বাস করল ও বিমুখ হয়ে গেল। এতে আল্লাহর কিছু আসে যায় না; আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, প্রশংসিত।
নবী-রাসূলগণের (আ.) পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব
আলোচ্য সূরায় ইসলামের মৌলিক শিক্ষাগুলো আলোচনা করার পর, এ আয়াতসমূহের মূল শ্রোতারা যারা মূলত এগুলো নাজিলের সময় উপস্থিত ছিল, তাদেরকে এ সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা প্রসঙ্গে কিছু বিশ্লেষণ করব। কেননা, সর্বশক্তিমান আল্লাহর পক্ষ থেকে যখন কোনো সত্য বিধান আমাদের সম্মুখে তুলে ধরা হবে, তখন সে সত্য বিধানকে অনুধাবন করা ও মেনে নেওয়া আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু আমরা যদি তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিই কিংবা উপেক্ষা করি তবে আমাদেরকে অবশ্যই তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ, মনে করুন, কেউ ভ্রমণে যাচ্ছে, যারা এই পথ চেনে, যাতায়াত করেছে, বিপদ-আপদ সম্পর্কে জানে, সম্ভাবনা জানে, তারা তাকে বলল, জনাব! রাতে এই রাস্তায় গাড়ি চালানো উচিত নয়; একটি নির্দিষ্ট গতির বেশি গাড়ি চালাবেন না; যখন আপনি একটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছবেন, সেখানে রাত কাটাবেন; এগুলো হচ্ছে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও তথ্যের ভিত্তিতে কিছু দিকনির্দেশনা। যদি আমরা যাত্রা করি এবং এ বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ না করি, না দেখি, না শুনি এবং জ্ঞানী ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি আমাদেরকে যে পরামর্শ দেন সেগুলো মান্য না করি, তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে এমন কিছু পরিণতি ভোগ করতে হবে যেগুলো হচ্ছে অনিবার্য ও অবশ্যম্ভাবী। যদি আমরা না জেনে কোনো কাজ সম্পন্ন করি, তাহলে অবশ্যই আমরা ভুল পথে চালিত হব। কিন্তু আমরা নিজেরা জেনেবুঝে তো এমনটি করিনি, আমরা আমাদের নিজস্ব সম্পদ ইচ্ছা করে নষ্ট করিনি। তবে আমাদের জানা উচিত যে, এই সমস্যাগুলো বিদ্যমান, এই বিপদগুলো বিদ্যমান, এই ক্ষতিগুলো বিদ্যমান, কিন্তু এতদসত্ত্বেও যদি আমরা কোনো পদক্ষেপ নিই, তাহলে এক্ষেত্রে আমাদের জন্য একটি পরিণতি ভোগ করতে হবে, যা ক্ষতিকর। কারণ, আমরাই তো এই ক্ষতির কারণ ছিলাম, আমরা নিজেরাই আমাদের সুযোগ-সুবিধা হারিয়েছি। আমরা অবিশ্বাস করেছি— অবিশ্বাস বলতে কী বুঝায়? এর অর্থ হলো আড়াল করা, গোপন করা— আমরা যে জ্ঞান, সত্য এবং বাস্তবতা জানতাম তা উপেক্ষা করেছি, গোপন করেছি, আড়াল করেছি এবং তার উপর কাজ করিনি। তাই আমরা ক্ষতি সহ্য করার পাশাপাশি অপরাধও করেছি। কেননা, আমরা নিজের হাতে এই ক্ষতি করেছি। আমরা আসলে মানবতার ক্ষতি করেছি, আমরা প্রাকৃতিক জগতের ক্ষতি করেছি। অতএব, আমরা অপরাধ করেছি। যে ব্যক্তি নবীদের শিক্ষা এবং তাঁদের প্রদত্ত দিকনির্দেশনা উপেক্ষা করে, তাদেরকে অমান্য করে, অবিশ্বাস করে, অর্থাৎ একগুঁয়েমি দেখায়, গোপন করে, নবীদের দেখানো স্পষ্ট পথ উপেক্ষা করে এবং চোখ বন্ধ করে যাতে সে তা দেখতে না পায়, স্বীয় কামনা-বাসনার অনুসরণ করে এবং সত্যের অনুসরণ করে না, সুতরাং যেহেতু এ ব্যক্তি স্বেচ্ছায় এহেন পদক্ষেপ নিয়েছে, সেহেতু সে উক্ত অন্যায় কাজ করার ক্ষতিও ভোগ করবে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যায়ে লিপ্ত হওয়ার শাস্তিও আস্বাদন করবে; অর্থাৎ দুনিয়া ও আখেরাতের পাপ এবং দুনিয়া ও আখেরাতের ক্ষতি।

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔