নবীগণ (আ.); আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বিনয়ী বান্দা
স্বয়ং নবীগণও (আ.) মহান আল্লাহর দাস ও বান্দা; এই কারণেই আমরা নবীগণের আনুগত্য করি। কারণ, তাঁরা নিজেরাই আল্লাহর বান্দা। নামাযের তাশাহহুদে আমরা কী পাঠ করি? অর্থাৎ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল; প্রথমটি হলো ‘আল্লাহর বান্দা’, আমাদের নবী আল্লাহর বান্দা। যেহেতু তিনি আল্লাহর একজন বান্দা, কারণ, তিনি আল্লাহর বন্দেগি ও ইবাদত করেন, তিনি আল্লাহর আদেশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন, এ কারণে আমরা তাঁকে ভক্তি ও শ্রদ্ধা করি। যে ব্যক্তি যত বেশি আল্লাহর আনুগত্য ও বন্দেগি করে, আমরা তাকে তত বেশি মূল্যায়ন করি। মুসলিম সমাজে যে ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি তাকওয়াসম্পন্ন ও ধার্মিক অর্থাৎ আল্লাহর আদেশের প্রতি যে ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি মনোযোগী, আল্লাহর প্রতি সবচেয়ে বেশি নিবেদিতপ্রাণ সে ব্যক্তি আমাদের উপর কর্তৃত্ব রাখেন। আমরা তাঁকে একজন নেতা ও পথপ্রদর্শক হিসেবে গ্রহণ করি। অতএব, ইসলামে নেতৃত্বের শর্ত কী? জ্ঞান ও তাকওয়া তথা ধার্মিকতা। দ্র. শেইখ কুলাইনী, উসূলে কাফী, খণ্ড ১, পৃ. ৪০৭ এবং তুহাফুল উকুল, পৃ. ২৩৮)। আজ যখন আমরা বিশ্বের মানুষের মুখোমুখি হই, তখন আমরা গর্ব করি না যে, আমাদের নেতার এত সম্পদ আছে; যেমন কিছু শাসকের কিংবদন্তি সম্পদ ছিল; উদাহরণস্বরূপ, কারুন যার অজস্র ও পাহাড়সম সম্পদ ছিল। আমরা যা নিয়ে গর্ব করি তা হলো, আমাদের নেতা জ্ঞানী ও ধার্মিক, তিনি জ্ঞান ও ধার্মিকতার মূর্ত প্রতীক। এর অর্থ কী? এর অর্থ হলো আমরা জ্ঞান ও ধার্মিকতাকে সম্মান করি। যে জাতি জ্ঞান ও ধার্মিকতাকে সম্মান করে তারা স্বাভাবিকভাবেই জ্ঞান ও ধার্মিকতার দিকে এগিয়ে যায়। হ্যাঁ, একজন ব্যক্তি এমন কাউকে সম্মান করে যিনি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মূর্ত প্রতীক, বস্তুত সে উক্ত বৈশিষ্ট্যধারীর প্রতি সম্মান জ্ঞাপনের মাধ্যমে সে বৈশিষ্ট্যকেই সম্মান দিয়েছে। কাজেই আমরা যারা নবী-রাসূলগণের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও আনুগত্য প্রকাশ করি, তা এ কারণে যে, তাঁরা হলেন আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও বন্দেগির অত্যুজ্জ্বল নিদর্শন, তাঁরা আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ ও বিনম্রতার মূর্ত প্রতীক। অতএব, আমরা আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণের দিকেই এগিয়ে যাই।
25
আগের পোস্ট
