সূরা তাগাবুনের তাফসীর

নবীদের (আ.) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পার্থিব ও পরকালীন শাস্তি
আয়াতে যে বর্ণিত হয়েছে, ‘তারা তাদের কৃতকর্মের সাজা আস্বাদন করেছিল।’ এ শাস্তি হচ্ছে মূলত পার্থিব শাস্তি। কেননা, আয়াতের এ অংশের পরেই উল্লেখ করা হচ্ছে, ‘আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ সম্ভবত এ যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি বলতে পরকালীন শাস্তিকে বুঝানো হয়েছে। কিন্তু কেন? কারণ, তারা নিজেরাই নিজেদেরকে শাস্তির উপযোগী করেছে। কেন তাদের জন্য এমন কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি অপেক্ষা করছে? কেন তারা দুনিয়া ও পরকালে এত কষ্ট, দুর্দশা ও কঠিন শাস্তি ভোগ করবে? এ সব প্রশ্নের উত্তরও পরবর্তী আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এটা এ কারণে যে, তাদের নিকট তাদের রাসূলগণ স্পষ্ট প্রমাণসহ আসতেন’; কিন্তু তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। এখানে এ শব্দের অর্থ হচ্ছে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও নিদর্শনাদি।
নবীগণের (আ.) দাওয়াতের স্পষ্টতা ও অকাট্যতা
নবীদের (আ.) কথা সর্বদা স্পষ্ট; সন্দেহ করা যায় এমন কোনো কথা নেই; যেমন নবীগণ (আ.) ও তাঁদের বিপ্লবসমূহের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে তাঁদের বক্তব্য ও স্লোগান সুস্পষ্ট, সবাই তা বোঝে। নবীগণের (আ.) বক্তব্য হচ্ছে— তোমরা তোমাদের মতো একজন মানুষের দাসত্ব ও বন্দেগি করা থেকে বিরত থাক। পৃথিবীতে এর চেয়ে স্পষ্ট আর কিছু কি আছে? আপনি এমন একজন মানুষ যার শরীর, মন, আত্মা, ইচ্ছাশক্তি, ক্ষমতা প্রভৃতি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে যতটুকু ও যেমন আছে, অন্য একজন ব্যক্তিও ঠিক আপনার মতো, হয়তো কখনও কখনও আপনার চেয়ে নীচুও হতে পারে; তাহলে কেন আপনি তার দাসত্ব স্বীকার করবেন? কেন? কোন্্ উপলক্ষ্যে? এটি ছিল নবীদের (আ.) বাণী: কোনো মানুষের দাসত্ব মেনে নিও না। আমাদেরকে কার দাসত্ব ও আনুগত্য স্বীকার করা উচিত? মানুষের মহান স্রষ্টার দাসত্ব ও আনুগত্য স্বীকার করতে হবে; আর এটাই সঠিক ও যথোপযুক্ত। একজন ব্যক্তি স্বীয় স্রষ্টার কর্তৃত্বাধীন হবে, এটাই স্বভাবিক— যে সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি ও ক্ষমতার কাছে আমার অস্তিত্ব, আমার সত্তা ঋণী এবং এখনও আমি সে শক্তির নিয়ন্ত্রনাধীন, যিনি সমস্ত পরিপূর্ণতা, সৌন্দর্য, কল্যাণের মূর্ত প্রতীক এবং আমি তাঁর সত্তার শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাসী। মহাবিশ্বের প্রভু সমস্ত পরিপূর্ণ গুণের মূর্ত প্রতীক। আর এমনই সত্তার সামনে মাথা নত করা, সেজদাবনত হওয়া, নিজেকে উৎসর্গ করা আমাদের জন্য যথোপযুক্ত। কিন্তু তাঁর তুলনায় কম শ্রেষ্ঠত্বের কাছে কেন মাথা নত করা হবে? তাঁর সুমহান প্রতিদানের চেয়ে কম গুরুত্বের প্রতিদান কেন গ্রহণ করা হবে?

Related posts

সূরা তাগাবুনের তাফসীর

সূরা তাগাবুনের তাফসীর

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More