৫, ৬ ও ৭। শেষে হায়েয নির্ণয়ের মাপকাঠ : (যদি ধরা হয় যেকোন স্ত্রীলোক ওয়াক্তীয়া অথবা মুবতাদিয়া কিম্বা মুযতারিবা মাসিকের অধিকারীনি আর তার রক্তস্রাব ১০ দিন অতিক্রম করে যায়)
যে মহিলা মুবতাদিয়া অথবা মুযতারিবা মাসিকের অধিকারিনী অথচ তার ঋতুস্রাব ১০ দিন অতিক্রম করে যায় তাকে প্রথমত লক্ষণ ও চিহ্নাবলীর প্রতি লক্ষ্য করতে হবে। যে ক’দিন হাযেয়ের লক্ষণ ও চিহ্ন বজায় থাকবে সে ক’দিন হায়েয ধার্য্য করবে। আর যদি সবটাই একধারা লক্ষণ সম্পন্ন হয় যেমন-১৫দিন রক্তস্রাব হল এবং সেগুলোর সবটাই হায়েযের লক্ষণ সম্পন্ন হয়-তাহলে আত্মীয় স্বজনের যেমন বোন, মা, ফুফু, খালা প্রমুখের মাসিক মেয়াদকালের খবর নিতে হলে এবং তাদের মাসিক মেয়াদকালকে মাপকাঠি হিসেবে নির্ধারণ করতে হবে। আর বাদবাকীটা ইস্তিহাযা হিসেবে ধার্য্য করতে হবে। তবে যদি আত্মীয়-স্বজনদের মেয়াদকাল ভিন্ন ভিন্ন হয় তাহলে সাতদিনকে হায়েয এবং বাদ বাকীকে ইস্তিহাযা ধার্য্য করতে হবে।(যাদের মাসিক মেয়াদকাল একে অপর থেকে ভিন্ন সেটা যদি এতই কম ব্যবধানের হয় যা ধর্তব্যের মদ্যে পড়ে না তাহলে অধিকাংশের যে মেয়াদকাল সেটাকেই হায়েযের মেয়াদকাল হিসেবে নির্ধারণ করতে হবে।) (তৌযিহুল মাসায়েল, মাঃ ৪৮৯)
কিন্তু হযরত ইমাম খোমেনী (রহ.) মুযতারিবা সম্পর্কে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের মাসিক মেয়াদকালের প্রতি শরণাপন্ন হওয়ার পর যদি দেখা যায় দিনের সংখ্যার দিক থেকে এক হয় তাহলে বলেন ঃ সেক্ষেত্রে সাত দিনকেও মাপকাঠি নির্ধারণ করবে আর যদি আত্মীয় স্বজনদের অভিন্ন মেয়াদকাল সাতদিনের কম ও বেশি থাকে তাহলে ঐ কম বা বেশি দিন কয়টিকে এহতিয়অতে ওয়াজিবের ভিত্তিতে মুস্তাহাব ব্যক্তির করণীয়সমুহ এবং হায়েয ব্যক্তির নিষেধসমূহের মধ্যে সমন্বয় করে পালন করবে। আর সে মহিলা শুধুই ওয়াক্তীয়া মাসিকের অধিকারীনি তার করণীয় হল ওয়াক্তের (বা সময়ের) ক্ষেত্রে তার মাসিক মেয়াদকালের প্রতি লক্ষ্য করবে আর আদাদ (বা দিন সংখ্যা) নির্ধারণ করার প্রশ্নে প্রথমতঃ লক্ষণ ও চিহ্নাবলীর প্রতি আর যদি লক্ষ্য করা সম্ভব না থাকে তাহলে আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি অন্যথায় ৭ দিনকে হায়েয ধার্য্য করবে। (উরওয়াতুল উছকা, ফি হুকমি তাজাউযিদ্দাম, মাঃ ১ ও ৬, তাহরীরুল উসিলা, খঃ ১, মাঃ ১৯ ও ২১, পৃঃ ৪৮)
সুত্রঃ আহকামে মুমিনাত বই থেকে সংগ্রহীত