কিয়ামতের দিনকে ‘ইয়াওমুত্তাগাবুন’ নামকরণের কারণ
আমরা যদি একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখতে পাব যে, সূরা তাগাবুনে বে’সাত ও কিয়ামতের বিষয়াদিতে অধিকতর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সূরার নামকরণও এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত বহন করে। এ সূরার ক্ষেত্রে যে নামটি ব্যবহৃত হয়েছে, সেটি কিয়ামতের নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কিয়ামতের অন্যতম নাম হচ্ছে يَوْمُ ٱلتَّغَابُن ‘ইয়াওমুত্তাগাবুন’ অর্থাৎ উভয়পক্ষের প্রবঞ্চনার দিন; يَوْمُ ‘ইয়াওমু’ শব্দের অর্থ দিন এবং ٱلتَّغَابُن ‘তাগাবুন’ শব্দের অর্থ হচ্ছে উভয়পক্ষ প্রতারিত ও প্রবঞ্চিত হওয়া। এখন আমরা এ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা তুলে ধরব
পবিত্র কুরআনে যখন কিয়ামত সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়, তখন কিয়ামতের দিবসের অনেক নাম উল্লেখ করা হয়। যেমন- يَوْمُ الْبَعْثِ ‘ইয়াওমুল বা’আস’ অর্থাৎ পুনরুত্থান দিবস ( সূরা রূম, আয়াত নং ৫৬ )
এবংيَومُ الحَشر ‘ইয়াওমুল হাশর’ অর্থাৎ হাশরের দিন, এমন আরও কয়েকটি নাম। কোথাও কোথাও এ নাম দ্বিপাক্ষিক ও পারস্পরিক অর্থেও এসেছে; যেমন- يَوْمَ التَّنَادِ ‘ইয়াওমাত্তানাদি’ অর্থাৎ পরস্পরের ফরিয়াদের দিন অথবা يَوْمُ ٱلتَّغَابُن ‘ইয়াওমুত্তাগাবুন’ অর্থাৎ উভয় পক্ষের প্রবঞ্চনার দিন কিংবা যেদিন উভয় পক্ষ পরস্পরকে প্রবঞ্চিত করবে। এখানে প্রশ্ন আসতে পারে যে, উভয় পক্ষ কিভাবে পরস্পরকে প্রবঞ্চিত করবে? এ দু’পক্ষ কারা? এক্ষেত্রে বিভিন্ন গ্রন্থাবলিতে সম্ভাব্য উত্তর তুলে ধরা হয়েছে, তা হচ্ছে এ দু’পক্ষ হলো মু’মিন ও কাফির। উভয় পক্ষেরই কিছু নিজস্ব মানদ- ও পদ্ধতি রয়েছে। মু’মিনরা তাদের নিজস্ব মাপকাঠিতে চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালায় যাতে কিছু সুফল অর্জন করতে পারে; এক্ষেত্রে তাদের পদ্ধতিও সঠিক। পক্ষান্তরে কাফিরদেরও কিছু মানদ- ও পদ্ধতি রয়েছে। তারা তাদের সে পদ্ধতি অনুযায়ী চেষ্টা চালায় কিছু সুবিধা অর্জনের জন্য; অবশ্য তাদের উক্ত পদ্ধতি হচ্ছে বাতিল ও ভ্রান্ত।