যারা প্রতিরক্ষা যুদ্ধে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মজ্জা বিচ্ছিন্নের শিকার হয়েছে (আমি যুদ্ধাহতদের আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে এমন অবস্থা প্রত্যক্ষ করেছি); অনেক তরুণ, কর্মচঞ্চল ও টগবগে যুবক এমন কষ্টকর অবস্থার শিকার হয়ে বছরের পর বছর দিন কাটাচ্ছে, তারা নামে মাত্র জীবনযাপন করছে, শুধু মাথা একটু নাড়াতে পারে আর ঘাড় থেকে নিচের দিকে শরীরের সমস্ত অঙ্গ নিস্তেজ হয়ে গিয়েছে, তারা শুধু প্রাণেই বেঁচে আছে এবং প্রতিনিয়ত মৃত্যুর অপেক্ষায় রয়েছে কিংবা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ কামনা করছে। তারা যেসব পরিস্থিতির মোকাবেলা করছে সেগুলো অত্যন্ত কষ্টকর ও অসহনীয় এবং দুনিয়ার জীবনে এগুলো কষ্ট ও পরিশ্রম ছাড়া কিছুই না; কিন্তু পরকালে মহান আল্লাহর নিকট এগুলোর বিশেষ প্রতিদান রয়েছে। আপনারা লক্ষ্য করুন, দুনিয়াতে এমন প্রতিদানযোগ্য কত অগণিত ও অপরিসীম কর্ম রয়েছে। এখন আমি ও আপনি যারা নিজেদেরকে ঈমানদার হিসেবে দাবি করি, এ ধরনের প্রতিদানের কতটি কর্ম সম্পাদন করতে পেরেছি? একজন যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান করেছে, কিন্তু কোনো ক্ষতির শিকার হয়নি আবার একজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; কেউ স্বল্প দিন যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান করেছে আবার কেউ দীর্ঘ দিন দায়িত্ব পালন করেছে। আমরা যদি একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখতে পাব যে, এ পৃথিবীতে সওয়াব অর্জন ও প্রতিদান গ্রহণের কত বিস্তীর্ণ ক্ষেত্র বিদ্যমান; এখানে ইহলৌকিক ও পারলৌকিকভাবে লাভবান হওয়ার অগণিত সুযোগ রয়েছে। রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে যে, কিয়ামতের দিন যখন মু’মিনরা লক্ষ্য করবে দুনিয়াতে যারা আল্লাহর রাস্তায় কিছু পরিমাণ কষ্টের কারণে কত অপরিসীম নেয়ামত ও স্বর্গীয় সুখ-শান্তি ভোগ করছে, তখন তারা আফসোস করে বলবে হায়! যদি দুনিয়াতে আমাদের শরীর আল্লাহর শত্রুদের কর্তৃক কাঁচি দিয়ে খ–বিখ- করা হতো। বিষয়টি খুবই বিস্ময়কর ও কষ্টদায়ক। কাজেই এখন যারা পরকালে রয়েছে তাদের অবস্থা আমরা জানি না। কিন্তু আমরা যারা দুনিয়াতে আছি আমাদের জন্য বিষয়টি বিবেচনা করা খুবই কষ্টকর যে, মানুষের শরীর কাঁচি দিয়ে টুকরা টুকরা করা হবে! মানুষ কিয়ামতের দিন এমন কামনা করবে যে, হায়! যদি আমি দুনিয়াতে আল্লাহর পথে অধিক কষ্ট সহ্য করতাম, এমনকি আমার শরীরকে কাঁচি দিয়ে টুকরা টুকরা করা হতো! যাতে আমি এখানে আল্লাহর পক্ষ থেকে মু’মিনদের জন্য প্রস্তুতকৃত অপরিসীম নেয়ামত ও অনুগ্রহ অধিক পরিমাণে ভোগ করতে পারতাম। এখন যেহেতু আমি টুকরা টুকরা হইনি তাহলে কিয়ামতের দিন ক্ষতির শিকার কিংবা তুলনামূলক কম লাভবান হব। এ কারণেই কিয়ামতের দিনের অপর নাম হচ্ছে يَوْمَ الْحَسْرَةِ ‘ইয়াওমুল হাসরাত’( সূরা মারিয়াম, আয়াত নং ৩৯ )