সূরা তাগাবুনের তাফসীর

পক্ষান্তরে কিছুসংখ্যক লোক মনে করে মানুষকে ঠকিয়ে ও অবৈধভাবে টাকা-পয়সা কামিয়ে লাভবান হওয়া যায়| আবার অপরশ্রেণি ধারণা করে, ˆবধ উপায়ে ও সুস্থ পদ্ধতিতে যদি জীবন নির্বাহ করা হয় তাহলে লাভবান হওয়া যাবে| প্রত্যেক শ্রেণিই নিজ নিজ মানসিকতা ও ধারণা মতে চিন্তাভাবনা করে; এক্ষেত্রে কারও ধারণা সঠিক আবার কারও ধারণা ভুল| এমনটি নয় যে, তাদের সবার ধারণাই সঠিক কিংবা ভুল|
সুতরাং এগুলো হচ্ছে মানুষের বিভিন্ন শ্রেণির মাপকাঠি ও মানদণ্ড| তারা প্রত্যেকেই এ ভূপৃষ্ঠে ও জীবন-জীবিকার জগতে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করে লাভবান হয়েছে| এরা কিয়ামতের দিনে যখন উপস্থিত হবে, তখন উভয় পক্ষই দেখবে তারা তো প্রবঞ্চনা ও ক্ষতির শিকার হয়েছে; এমনকি ঈমানদাররাও| কাফিররা প্রত্যক্ষ করবে যে, তারা প্রতারিত ও ক্ষতির শিকার হয়েছে; দিনটি (কিয়ামতের দিন) তো ভিন্ন রকমের, জগতটি যেন ভিন্ন রকমের, বাস্তবতা অন্য কিছু, কোনো কিছুই তাদের পক্ষে নেই| কাজেই তারা নিজেদের জীবনকে বিফলে কাটিয়ে দিয়েছে, তারা তাদের সুযোগ-সুবিধাগুলোকে হাতছাড়া করেছে| শুধু হাতছাড়াই করেনি; বরং সেগুলোর মাধ্যমে নিজেদের ক্ষতিই ডেকে এনেছে| সেগুলোর মাধ্যমে আগুন ক্রয় করেছে| অর্থ দিয়ে আগুন কিনেছে| যেমন: কেউ অর্থ ব্যয় করে মন্দকর্ম সম্পন্ন করে এবং মন্দকর্মের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে| নিজের শক্তি ও সামর্থ্য ব্যয় করে কিয়ামতের আযাব, জাহান্নামের আগুন ও আল্লাহর ক্রোধকে ক্রয় করেছে; এভাবে সে যে ক্ষতির শিকার হয়েছে তা হচ্ছে প্রকাশ্য ক্ষতি| অপরদিকে মু’মিন ব্যক্তি দেখে তার সম্মুখে বিস্তীর্ণ ক্ষেত্র প্রস্তুত; সে চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালাতে থাকে, কিন্তু তার আরো অধিক চেষ্টা-প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের প্রয়োজন ছিল| বস্তুত চেষ্টা-প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের ক্ষেত্র এতই বিশাল ও বিস্তীর্ণ যে, মানুষ যতই চেষ্টা অব্যাহত রাখে তদুপরি অনুভব করে চেষ্টার পরিমাণ কম হয়েছে| কাজেই মু’মিনরাও এক্ষেত্রে ক্ষতি ও ঘাটতি অনুভব করে| উদাহরণ¯^রূপ, মনে করুন, আপনাকে কোনো মূল্যবান হীরা ও মুক্তার খনিতে পাঠানো হলো—পার্থিব বস্তুর উদাহরণ তুলে ধরি যাতে বিষয়টি আমাদের নিকট সুস্পষ্ট ও সহজেই অনুধাবনযোগ্য হয়—আপনি উক্ত খনিতে প্রবেশ করে সেখানকার বদ্ধ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ থেকে তড়িঘড়ি করে কিছু সংগ্রহ করে নিয়ে আসলেন; আপনি হয়তো ভাববেন যে, অনেক মূল্যবান কিছু আনতে পেরেছেন ও লাভবান হয়েছেন| অতঃপর এ খনির অভ্যন্তরীণ অবস্থার চিত্র যখন আপনার সামনে তুলে ধরা হবে তখন বিস্ময়াভিভূত হয়ে পড়বেন যে, আপনি কী ভেবেছিলেন আর বাস্তব অবস্থা কিরূপ! এমতাবস্থায় আমরা বুঝতে পারব যে, কী পরিমাণ প্রবঞ্চিত ও ক্ষতির শিকার হয়েছি| তখন আমরা অনুভব করতে পারব যে, কতইনা অবহেলা করেছি এবং কতইনা কম পরিমাণে সংগ্রহ করেছি| মু’মিনের ক্ষতি এটাই যে, সে তখন বুঝবে কত কম অর্জন করতে পেরেছে! আল্লাহর পথে পরিশ্রম ও চেষ্টা-প্রচেষ্টা: যারা আল্লাহর পথে চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালায়, যারা কোনো না কোনোভাবে আল্লাহর রাস্তায় পরিশ্রম করে, জিহাদ করে— রাতের পর রাত এবং দিনের পর দিন ঠাণ্ডা-গরম উপেক্ষা করে শত্রুর মোকাবেলায় জাগ্রত থাকে যাতে কেউ ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতি করতে না পারে, শত্রুরা যদি কখনও হামলা করে তবে যাতে তাদের প্রতিহত করতে পারে; যারা হালাল রুজি অর্জনে বিভিন্ন কর্মে মশগুল রয়েছে, মাসের পর মাস  পরিবার, পিতামাতা, স্ত্রী-সন্তানদের থেকে দূরে রয়েছে; নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সব ধরনের কষ্ট সহ্য করছে; অনেকে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর প্রতিরক্ষা যুদ্ধে ব্যস্ত থাকায় ঘর-বাড়ি ও পরিবার-পরিজন থেকে দূরে অবস্থান করে— এগুলো সবই আল্লাহর পথে পরিশ্রম ও চেষ্টা-প্রচেষ্টার নমুনারূপ|

Related posts

সমসাময়িক মানুষের প্রতি নবীগণের (আ.) আহ্বানের পুনরাবৃত্তি

সূরা তাগাবুনের তাফসীর

সূরা তাগাবুনের তাফসীর

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More