পক্ষান্তরে কিছুসংখ্যক লোক মনে করে মানুষকে ঠকিয়ে ও অবৈধভাবে টাকা-পয়সা কামিয়ে লাভবান হওয়া যায়| আবার অপরশ্রেণি ধারণা করে, ˆবধ উপায়ে ও সুস্থ পদ্ধতিতে যদি জীবন নির্বাহ করা হয় তাহলে লাভবান হওয়া যাবে| প্রত্যেক শ্রেণিই নিজ নিজ মানসিকতা ও ধারণা মতে চিন্তাভাবনা করে; এক্ষেত্রে কারও ধারণা সঠিক আবার কারও ধারণা ভুল| এমনটি নয় যে, তাদের সবার ধারণাই সঠিক কিংবা ভুল|
সুতরাং এগুলো হচ্ছে মানুষের বিভিন্ন শ্রেণির মাপকাঠি ও মানদণ্ড| তারা প্রত্যেকেই এ ভূপৃষ্ঠে ও জীবন-জীবিকার জগতে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করে লাভবান হয়েছে| এরা কিয়ামতের দিনে যখন উপস্থিত হবে, তখন উভয় পক্ষই দেখবে তারা তো প্রবঞ্চনা ও ক্ষতির শিকার হয়েছে; এমনকি ঈমানদাররাও| কাফিররা প্রত্যক্ষ করবে যে, তারা প্রতারিত ও ক্ষতির শিকার হয়েছে; দিনটি (কিয়ামতের দিন) তো ভিন্ন রকমের, জগতটি যেন ভিন্ন রকমের, বাস্তবতা অন্য কিছু, কোনো কিছুই তাদের পক্ষে নেই| কাজেই তারা নিজেদের জীবনকে বিফলে কাটিয়ে দিয়েছে, তারা তাদের সুযোগ-সুবিধাগুলোকে হাতছাড়া করেছে| শুধু হাতছাড়াই করেনি; বরং সেগুলোর মাধ্যমে নিজেদের ক্ষতিই ডেকে এনেছে| সেগুলোর মাধ্যমে আগুন ক্রয় করেছে| অর্থ দিয়ে আগুন কিনেছে| যেমন: কেউ অর্থ ব্যয় করে মন্দকর্ম সম্পন্ন করে এবং মন্দকর্মের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে| নিজের শক্তি ও সামর্থ্য ব্যয় করে কিয়ামতের আযাব, জাহান্নামের আগুন ও আল্লাহর ক্রোধকে ক্রয় করেছে; এভাবে সে যে ক্ষতির শিকার হয়েছে তা হচ্ছে প্রকাশ্য ক্ষতি| অপরদিকে মু’মিন ব্যক্তি দেখে তার সম্মুখে বিস্তীর্ণ ক্ষেত্র প্রস্তুত; সে চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালাতে থাকে, কিন্তু তার আরো অধিক চেষ্টা-প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের প্রয়োজন ছিল| বস্তুত চেষ্টা-প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের ক্ষেত্র এতই বিশাল ও বিস্তীর্ণ যে, মানুষ যতই চেষ্টা অব্যাহত রাখে তদুপরি অনুভব করে চেষ্টার পরিমাণ কম হয়েছে| কাজেই মু’মিনরাও এক্ষেত্রে ক্ষতি ও ঘাটতি অনুভব করে| উদাহরণ¯^রূপ, মনে করুন, আপনাকে কোনো মূল্যবান হীরা ও মুক্তার খনিতে পাঠানো হলো—পার্থিব বস্তুর উদাহরণ তুলে ধরি যাতে বিষয়টি আমাদের নিকট সুস্পষ্ট ও সহজেই অনুধাবনযোগ্য হয়—আপনি উক্ত খনিতে প্রবেশ করে সেখানকার বদ্ধ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ থেকে তড়িঘড়ি করে কিছু সংগ্রহ করে নিয়ে আসলেন; আপনি হয়তো ভাববেন যে, অনেক মূল্যবান কিছু আনতে পেরেছেন ও লাভবান হয়েছেন| অতঃপর এ খনির অভ্যন্তরীণ অবস্থার চিত্র যখন আপনার সামনে তুলে ধরা হবে তখন বিস্ময়াভিভূত হয়ে পড়বেন যে, আপনি কী ভেবেছিলেন আর বাস্তব অবস্থা কিরূপ! এমতাবস্থায় আমরা বুঝতে পারব যে, কী পরিমাণ প্রবঞ্চিত ও ক্ষতির শিকার হয়েছি| তখন আমরা অনুভব করতে পারব যে, কতইনা অবহেলা করেছি এবং কতইনা কম পরিমাণে সংগ্রহ করেছি| মু’মিনের ক্ষতি এটাই যে, সে তখন বুঝবে কত কম অর্জন করতে পেরেছে! আল্লাহর পথে পরিশ্রম ও চেষ্টা-প্রচেষ্টা: যারা আল্লাহর পথে চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালায়, যারা কোনো না কোনোভাবে আল্লাহর রাস্তায় পরিশ্রম করে, জিহাদ করে— রাতের পর রাত এবং দিনের পর দিন ঠাণ্ডা-গরম উপেক্ষা করে শত্রুর মোকাবেলায় জাগ্রত থাকে যাতে কেউ ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতি করতে না পারে, শত্রুরা যদি কখনও হামলা করে তবে যাতে তাদের প্রতিহত করতে পারে; যারা হালাল রুজি অর্জনে বিভিন্ন কর্মে মশগুল রয়েছে, মাসের পর মাস পরিবার, পিতামাতা, স্ত্রী-সন্তানদের থেকে দূরে রয়েছে; নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সব ধরনের কষ্ট সহ্য করছে; অনেকে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর প্রতিরক্ষা যুদ্ধে ব্যস্ত থাকায় ঘর-বাড়ি ও পরিবার-পরিজন থেকে দূরে অবস্থান করে— এগুলো সবই আল্লাহর পথে পরিশ্রম ও চেষ্টা-প্রচেষ্টার নমুনারূপ|