সূরা তাগাবুনের তাফসীর

আল্লাহ— মানুষের বিবর্তনীয় গতির গন্তব্য
 ‘আর (সকল কিছুর) পরিণাম তো তাঁর (আল্লাহর) দিকেই|’ অর্থাৎ মানুষের বিবর্তনীয় গতি আল্লাহর দিকে|’ যখন এ সৃষ্টি একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সম্পন্ন হয়েছে, যখন আমরা ধরে নিই যে, সর্বশক্তিমান আল্লাহ সমগ্র বিশ্বজগতকে একটি উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টি করেছেন; যেমন একজন কারখানার নির্মাতা যিনি এই কারখানাটি একটি উদ্দেশ্য নিয়ে ˆতরি করেছিলেন, তিনি আদৌ কারখানার অংশগুলো এলোমেলোভাবে, গণনা ছাড়াই এবং কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই স্থাপন করেননি এবং এ কারখানার জন্য এমন একটি গুণগত মান বেছে নেন যাতে এই মানের উপর ভিত্তি করে একটি ফলাফল অর্জন করা যায়, যা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল| এমনিভাবে আল্লাহ যখন এ সৃষ্টিকে এইভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনাকে একজন মানুষ হিসেবে এবং এই ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এমনভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে যাতে আপনি সেই ফলাফল এবং লক্ষ্যের কাছাকাছি আসতে পারেন, তখন এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, আপনার কাছে গঠন ও অস্তিত্বগত সামঞ্জস্যের দিক থেকে সর্বোত্তম সময় এবং সর্বোত্তম কাঠামো রয়েছে| যার অর্থ হলো আপনি এই ব্যবস্থার সাথে ঠিক খাপ খাইয়ে নেন এবং আল্লাহ আপনাকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যাতে সেই বুদ্ধি, সেই অনুভূতি, সেই আবেগ, সেই শারীরিক সক্ষমতার সাহায্যে আপনি মহাবিশ্বে বিদ্যমান নিয়ম-শৃঙ্খলার সাথে সমš^য় সাধন করে আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারেন এবং এ জন্য কাঙ্ক্ষিত ফলাফলে উপনীত হতে পারেন| যখন এটি স্পষ্ট হয়ে যাবে তখন প্রশ্ন উত্থাপিত হবে যে, সে দিকটি কী? আয়াতের শেষ বাক্যে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে—  ‘আর (সকল কিছুর) পরিণাম তো তাঁর (আল্লাহর) দিকেই|’ এটাই তোমাদের চলার পথ এবং মানুষ সৃষ্টির ফলাফল হলো ‘আল্লাহ’| অর্থাৎ সর্বশক্তিমান আল্লাহ মানুষকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যাতে এ মহাবিশ্বের সমগ্র অংশে তারা সঠিক ও যথাযথ বিবর্তনীয় গতিতে প্রতিপালকের দিকে অগ্রসর হতে পারে| আর এটাই হচ্ছে মানবজাতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা— যা আল্লাহ ও মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক এবং মানুষ ও সৃষ্টি জগতের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিদ্যমান|

Related posts

সূরা তাগাবুনের তাফসীর

সূরা তাগাবুনের তাফসীর

সূরা তাগাবুনের তাফসীর

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More