সুতরাং যখন পরিশ্রম, চেষ্টা ও সাধনার অপরিহার্যতা রয়েছে, তখন অবশ্যই এ পথে পরিশ্রম অব্যাহত রাখা এবং পুঁজি বিনিয়োগ করা জরুরী। কাজেই যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করে; তারা এক্ষেত্রে আল্লাহর আদেশকে কোন অবস্থায় উপেক্ষা করতে পারে না। যদি কেউ তা অমান্য করে তবে এটা প্রমাণিত হয় যে, সে আল্লাহর প্রতি যথাযথ ঈমান আনয়ন করে নি। রাসূলের (সা.) জীবদ্দশাতেও এমন লোক ছিল। যখন তাদেরকে বলা হত শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ কর, তখন তারা অজুহাত তুলে বলত, ‘আমাদের গৃহগুলো অরক্ষিত পড়ে আছে’ , সূরা আহযাব : ১৩
অর্থাৎ আমাদের বাড়ী-ঘর দেখাশোনার কেউ নেই। কিন্তু কুরআন তাদের অজুহাতকে নাকচ করে বলছে, ‘অথচ গৃহগুলো অরক্ষিত ছিল না’ ; বস্তুত তাদের এমন অজুহাতের কারণ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে, ا ‘বরং এক্ষেত্রে তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে কেবল পলায়ন করা।’ অর্থাৎ তারা শুধু জিহাদ থেকে পলায়নের উদ্দেশ্যে এমন টালবাহানা করত। তারা কখনও বলত যে, এখন গ্রীষ্মকাল অত্যন্ত গরম আবার কখনও বলত যে, এখন শীতকাল প্রচণ্ড ঠাণ্ডা তাই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা যাবে না।
দ্বিতীয় সম্ভাব্য বিষয়টি হচ্ছে- এ আয়াতে ঐ সব লোকদের প্রতি এমন আদেশ দেয়া হয়েছে যে, হে লোকসকল! তোমরা যারা ঈমান আনয়ন করেছ এবং মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছ; কিন্তু এখনও জিহাদে অংশ গ্রহণ কর নি তোমরা জিহাদের ক্ষেত্রে আল্লাহর উপর ঈমান পোষণ কর। অর্থাৎ তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের কথায় বিশ্বাস পোষণ করে জিহাদের অপরিহার্যতার বিষয়টি অনুধাবন কর।