আল্লাহর পথে পরিচালিত হওয়ার সুফলাদি
আপনারা প্রত্যক্ষ করবেন যে, আজ আমাদের যুবকরা, আমাদের পিতামাতা ও বয়োজ্যেষ্ঠরা এবং যারা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করছে; তারা যতই আল্লাহর পথে অগ্রসর হবে ততই তাদের আত্মা বিকশিত এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। টগবগে এক নব যুবক যে এখনও জিহাদের ময়দানে যায় নি। অতি সাধারণ এক যুবক, যে জিহাদের প্রতি আগ্রহ নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে গমন করে অত্যন্ত বীরত্ব ও সাহসিকতার সাথে বাতিলপন্থীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, সব বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে আল্লাহর বিধানকে কার্যকর করতে শাহাদতের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়; সে আত্মিক ও মানসিক দিক থেকে অধিকতর পরিপক্কতা অর্জন করে এবং একই সাথে নিজেকে নৈতিকভাবে গড়ে তোলারও সুযোগ পায়।( ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ আল উযমা সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী তাঁর ধারাবাহিক তাফসীর আলোচনার এ অংশে ইরান ও ইরাকের মধ্যে আট বছরের (১৯৮০-১৯৮৮ সন পর্যন্ত) প্রতিরক্ষা যুদ্ধের প্রতি ইশারা করেছেন। যেহেতু এ যুদ্ধ ছিল ইরানের ইসলামি শাসন ব্যবস্থা প্রতিরক্ষা এবং দেশটির উপর ইরাকের তদানীন্তন স্বৈরশাসক সাদ্দামের চাপিয়ে দেয়া অসম যুদ্ধ; সেহেতু সেটি প্রতিরক্ষা জিহাদ হিসেবে বিবেচিত। তাই এ যুদ্ধে যারা অংশ নিয়েছেন তারা ঈমানি চেতনায় উদ্দীপ্ত ও আল্লাহর পথে জিহাদকারী; তাই তাদের সম্মান ও মর্যাদা বিশেষভাবে সমাদৃত। (অনুবাদক))
এজন্য ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি ইমাম খোমেনী (রহ.) স্বীয় বাণীতে আল্লাহর পথে এভাবে জিহাদ ও আত্মত্যাগকে -আল্লাহর পছন্দনীয়- বিশেষ (খাস) আমল এবং এ আমল সম্পন্নকারীদেরকে আল্লাহর নিকট বিশেষ (খাস) ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেনঃ এ মহান ব্যক্তিরা চাই শহীদ হোক কিংবা না হোক, চাই তারা ক্ষতির -দৈহিক অথবা আর্থিক- শিকার হোক কিংবা না হোক, চাই তারা বিজয়ী হোক কিংবা না হোক; বরং তারা যে এভাবে আল্লাহর পথে আত্মনিবেদনে এগিয়ে এসেছে এটাই তাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের পরিচায়ক। কিন্তু কেন? কারণ তাদের এমন উত্তম আমল, তাদের এমন এগিয়ে আসা, তাদের এমন আত্মত্যাগ ও আত্ম নিবেদন; মানুষের অন্তরকে করে আলোকিত এবং আল্লাহর বাণীসমূহ অনুধাবনে মানুষ উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত হয়। আর এ বিষয়টি মানুষের ঈমানের বিশেষত্বের পরিচায়ক। বস্তুত আল্লাহর আদেশাবলি পালনে এ বিশেষত্ব এবং খোদায়ী দিকনির্দেশনা পালনের এমন তৌফিক মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাদের প্রতি বিশেষ নেয়ামতের অন্তর্ভুক্ত।