প্রতিটি যুগে আল্লাহর সাহায্যকারীদের অমরত্ব ও চিরস্থায়িত্ব
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, হযরত ঈসার (আ.) যুগে যে বিশাল জনগোষ্ঠী ছিল তাদের মধ্যে শুধুমাত্র হাওয়ারীগণ -যারা ছিল হযরত ঈসার ঘনিষ্ঠ সহচর এবং যাদের সংখ্যা ছিল মাত্র বার জন- তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিল ও তাঁকে সাহায্য করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিল; বিষয়টি সত্যিই লক্ষণীয় এবং এ থেকে বুঝা যায় যে, হকের সাহায্য সহজসাধ্য কোন কাজ নয়| আর সে কাজটি তারা ঐ যুগে সম্পন্ন করেছিল; অর্থাৎ যখন রোমান সাম্রাজ্য ও ইসরাইলি কাফির শাসকযন্ত্রের চাপিয়ে দেয়া শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে হযরত ঈসার (আ.) সহচররা সব ধরনের জুলুম, ফ্যাসাদ, অবাধ্যতা ও কুফরের (নাস্তিক্যবাদ) মোকাবেলায় আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে তাঁর সাহায্যে এগিয়ে এসেছিল| তারা সে পরিস্থিতিতেও এমন কষ্টকর ও কঠিন কাজটি সম্পন্ন করেছিল| সুতরাং আমাদেরকেও তেমনভাবে আল্লাহর দ্বীনের সাহায্যের কাজে এগিয়ে আসতে হবে| এ কারণে আলোচ্য আয়াতে ‘যেমন মারইয়াম-তনয় ঈসা তার সহচরগণকে (হাওয়ারীদের) বলেছিল’ এ বাক্যের মাধ্যমে যেমনভাবে ঈসা নবী ঈমানদারদেরকে আল্লাহর পথে সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছিলেন, তেমনভাবে সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদের (সা.) আহ্বানেও সাড়া দিয়ে সে পথে এগিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে| যেমনভাবে ঐ যুগে সে কাজটি ছিল অতিশয় কষ্টকর ও কঠিন, তেমনভাবে এ যুগেও এ কাজটি অধিকতর কষ্টদায়ক ও দুরূহ| যেমনভাবে সেদিনের কাজটি ছিল তাৎপর্যবহ, তেমনভাবে আজকের কাজটিও ফজিলতপূর্ণ| যেমনভাবে সেদিন ঐ কাজটি সম্পন্নকারীরা ছিলেন খৃষ্টধর্মের ¯^রণীয়, বরণীয় ও উজ্জ্বল নক্ষত্রতুল্য ব্যক্তিত্ববর্গ-যেমন: ইউহান্না, ম্যাথিউ, সেন্ট লুক, সেন্ট পিটার এবং হযরত ঈসার (আ.) ঘনিষ্ট সহচরবৃন্দ-, তেমনভাবে যারা ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠায় রাসূলুল্লাহর (সা.) পাশে থেকে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন তারাও ইতিহাসে স্মরণীয় ও বরণীয় ব্যক্তিত্ব হওয়ার উপযুক্ত ছিলেন এবং সেটা তাঁরা হয়েছেনও বটে| আমরা যদি ইসলামের ইতিহাসের প্রতি দৃষ্টিপাত করি তাহলে দেখতে পাব যে, যারা সেদিন আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় হযরত মুহাম্মাদকে (সা.) সাহায্য ও সহযোগিতা করেছিলেন, তারা আজ ইতিহাসের অত্যুজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যায় দীপ্তিমান| অনুরূপভাবে আজও যদি আমরা আল্লাহর ধর্মের বিস্তার সাধনে সাহায্য ও সহযোগিতা করি, তবে আমাদের অবদানও ইসলামের প্রাথমিক যুগের মুজাহিদদের ন্যায় স্বর্ণাক্ষরে খচিত থাকবে| আমরাও হযরত ঈসা নবীর খাস হাওয়ারী তথা ঘনিষ্ট সহচরদের অনুরূপ হতে পারি| প্রতিটি যুগে আল্লাহর দ্বীনের স্বরুপ এক ও অভিন্ন এবং আল্লাহর দ্বীনের সাহায্যের ফজিলতও এক ও অভিন্ন; অনুরূপভাবে এ কাজের তাৎপর্য ও কল্যাণের মধ্যেও তেমন কোন তারতম্য নেই|