হজ্বের অধিকার
হজ্বের অধিকার হচ্ছে এই যে, তোমাকে জানতে হবে যে, এ হচ্ছে তোমার প্রভুর অভিমুখে এক যাত্রা এবং গুনাহসমূহ হতে তাঁর দিকে পলায়ন। আর এই হজ্বের মাধ্যমেই তোমার তওবা কবুল হবে এবং এমন এক ওয়াজিব কর্ম সম্পাদন করছ যা আল্লাহ্পাক তোমার উপর ফরজ করেছেন।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক বলছেন: নিঃসন্দেহে সর্বপ্রথম যে ঘর মানুষের জন্যে নির্ধারিত হয়েছে সেটিই হচ্ছে এ ঘর যা মক্কায় অবস্থিত এবং সারা জাহানের (মানুষের) জন্যে হেদায়েত ও বরকতময়। এতে রয়েছে মাকামে ইব্রাহীমের মত প্রকৃষ্ট নিদর্শন। আর যে লোক এর ভেতরে প্রবেশ করেছে সে নিরাপত্তা লাভ করেছে। আর এ ঘরে হজ্ব করা মানুষের উপর আল্লাহর প্রাপ্য, যে লোকের সামর্থ্য রয়েছে এ পর্যন্ত পৌছার। আর যে লোক তা মানে না (তার জেনে রাখা উচিত যে,) নিশ্চয়ই আল্লাহ্ বিশ্বজগতের (সব কিছু) থেকে অমুখাপেক্ষী।( সূরা: আলে ইমরান, ৯৬-৯৭তম আয়াত। )
আর মানুষের মাঝে হজ্বের ঘোষণা কর! তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সর্বপ্রকার কৃশকায় উটের পিঠে সওয়ার হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে। যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থান পর্যন্ত পৌছে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে তাঁর দেয়া চতুষ্পদ জন্তু যবেহ করার সময়। অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার কর এবং দুঃস্থ-অভাবগ্রস্তকে আহার করাও। এরপর তারা যেন দৈহিক ময়লা দূর করে, তাদের মানত পূর্ণ করে এবং এই সুসংরক্ষিত (প্রাচীন) গৃহের তাওয়াফ করে। (সূরা: হজ্ব, ২৭-২৯তম আয়াত।)
আর স্মরণ কর সেই সময়ের কথা যখন ইব্রাহীম ও ইসমাঈল কাবাগৃহের ভিত্তি স্থাপন করছিল। তখন তারা দোয়া করেছিল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দোয়া কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ। ( সূরা: বাকারাহ্, ১২৭তম আয়াত )
সূত্র : ( ইমাম সাজ্জাদ (আ.)-এর রিসালাতুল হুকুক (অধিকার বিষয়ক সন্দর্ভ )