প্রতিবাদী অন্ধ বীর আজদি: জিয়াদ ও তার বাবাকে অভিশাপ দিয়েছেন মহানবী (সা)

by Syed Tayeem Hossain

১৩৮১ চন্দ্রবছর আগে ৬১ হিজরির এই দিনে (১৩ মহররম) কুফার জালিম গভর্নর ইবনে জিয়াদের নির্দেশে শহীদ করা হয় নবী-পরিবারের প্রেমিক অন্ধ-বীর আবদুল্লাহ ইবনে আফিফ আজদি (রা) কে।

কারবালায় নবী-পরিবারের ওপর পরিচালিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ করা এবং কারবালা বিপ্লবের মহান নেতা, ইমাম হুসাইন (আ)সহ বিশ্বনবী (সা)’র আহলে বাইতের প্রশংসা করার কারণে তাঁকে শহীদ করা হয় নৃশংসভাবে।
১২ মহররম কারবালার শহীদদের ছিন্ন মস্তকগুলো আনা হয় ইয়াজিদের গভর্নর ইবনে জিয়াদের কাছে। ইবনে জিয়াদ এ সময় কুফার মসজিদে যায় এবং মুসুল্লিদের সমাবেশে বক্তব্য রাখে। সে মসজিদের মিম্বরে উঠে বলেছিল যে, ’আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি মিথ্যাবাদী ও তার সন্তানকে তথা আলী (আ.) ও তাঁর সন্তান হুসাইন (আ.)-কে হত্যা করেছেন’ (নাউজুবিল্লাহ)। এ কথা শুনেই সেখানে উপস্থিত আজদ্ গোত্রের বৃদ্ধ বীর আবদুল্লাহ ইবনে আফিফ আজদি (রা) ইবনে জিয়াদের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
(আজদি সিফফিন ও জামাল যুদ্ধে আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.)’র পক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন। এ দু’টি যুদ্ধে তার দু’টি চোখ একে একে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।)
ইবনে জিয়াদের সামনেই আজদি ঘোষণা করেন যে, নবী-পরিবারকে স্বয়ং আল্লাহ সব অপবিত্রতা থেকে দূরে রেখেছেন আর জিয়াদ ও তার বাবা-উভয়ই আল্লাহর রাসূল (সা.)’র মাধ্যমে অভিশপ্ত হয়েছে এবং জিয়াদ আল্লাহর শত্রু ও হুসাইন (আ.)-কে হত্যার পরও সে (জিয়াদ) নিজেকে আর মুসলমান বলে দাবি করতে পারে না।
তিনি জিয়াদকে সম্বোধন করে বলেন, ‘তুমি মিথ্যাবাদী ও মিথ্যাবাদীর সন্তান এবং যে (ইয়াজিদ) তোমাকে নিয়োগ দিয়েছে সে ও তার পিতাও (মুয়াবিয়া) মিথ্যাবাদীর সন্তান। হে ব্যাভিচারী নারীর সন্তান! তুমি হত্যা করেছ নবীর সন্তানকে যে পরিবারকে স্বয়ং আল্লাহ সব অপবিত্রতা থেকে দূরে রেখেছেন। আর তারপরও তুমি নিজেকে মুসলমান বলে দাবি করছ! এই জালিমের কাছ থেকে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য কোথায় (মহানবীর-সা. সাহাবি) মুহাজির ও আনসারদের পুত্ররা! এ হচ্ছে সেই জালিম যাকে ও যার বাবাকেও অভিশাপ দিয়ে গেছেন মহানবী মুহাম্মাদ (সা)।’
এসব কথা শুনে ইবনে জিয়াদ ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে হত্যার নির্দেশ দেয়। কিন্তু আজদির গোত্রের লোকেরা তাঁকে রক্ষা করেন এবং এমনকি এ জন্য ছোটোখাটো যুদ্ধও সংঘটিত হয়। কিন্তু পরে জিয়াদের সেনারা গভীর রাতে আজদিকে তাঁর ঘর থেকে ধরে আনে। জিয়াদের নির্দেশে তারা তাঁকে হত্যা করে এবং তাঁর মাথা ঝুলিয়ে রাখে একটি লবন-হ্রদের পাশে।
ঐতিহাসিক বর্ণনায় এসেছে, ইবনে জিয়াদের সেনারা আজদির বাড়িতে হানা দিলে অন্ধ বৃদ্ধ বীর তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত হন। তাঁর মেয়েই তাঁর হাতে ধরিয়ে দেন ‘বাবার’ প্রিয় তরবারি। এরপর সাহসী সেই নারী বাবাকে বলতে থাকেন, ‘বাবা তোমার অমুক দিক থেকে হামলা করতে আসছে একজন, …এবার ডান দিক থেকে আসছে, … এবার বাম দিক থেকে আসছে…।’ অবশেষে বেশ কিছুক্ষণ তাদেরকে ঠেকিয়ে রাখলেও শেষ পর্যন্ত ক্লান্ত শ্রান্ত বৃদ্ধ অন্ধ বীরকে বন্দি করতে সক্ষম হয় জালিম জিয়াদের ইয়াজিদপন্থী সেনারা।
জিয়াদ তাঁকে হত্যার নির্দেশ দিলে আজদি জিয়াদকে বলেন, ‘আমি বিশ্ব-জগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি! কারণ শাহাদাতের মর্যাদা পেতে আমি বহু বছর ধরে আমার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করছিলাম। এ প্রার্থনা ছিল সেই সময় থেকে যখন তোমার মা তোমাকে জন্মও দেয়নি। আর আমি আল্লাহকে বলছিলাম আমি যেন এমন একজনের হাতে শহীদ হই যাকে তুমি সবচেয়ে বেশি ঘৃণা কর ও যার ওপর তোমার অভিশাপ সবচেয়ে বেশি।’ ###

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔