হযরত মুহাম্মাদ (সা.)’র শাহাদাত উপলক্ষে
খুলনায় কাসরে হোসাইনী ইমামবাড়ীতে শোক মজলিস
১১ আগষ্ট ২০২৬ (মঙ্গলবার), রাত ৮-০০ ঘটিকায় শোক মজলিসের সূচনা হয় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও মার্সিয়া পাঠ-এর মাধ্যমে|
মজলিসে ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহিম খলিল রাজাভী বক্তব্য রাখেন| তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মের প্রচার, প্রসার এবং বিশ্বব্যাপী এর প্রতিষ্ঠার পেছনে হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর সুমান আখলাক বা চরিত্র মাধুর্য সব থেকে বড় ভূমিকা পালন করেছেন| “আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত|” পবিত্র কোরআনে সুরা আল-কালাম-এ ৪নং আয়াতে আল্লাহ স্বয়ং এই ঘোষণা দিয়েছেন| মানুষের মন জয় করার সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম হলো সদ্ব্যবহার ও সুন্দর চরিত্র| আরবের তৎকালীন সমাজে অন্যায়, অবিচার, হিংসা, অহংকার এবং কুসংস্কারের অন্ধকার গ্রাস করেছিল| কিন্তু রাসুল (সা.)-এর অতুলনীয় নম্রতা, ভদ্রতা, সত্যবাদিতা এবং আমানতদারি দেখে মক্কার কাফেরেরাও তাঁকে ‘আল-আমিন বা বিশ্বাসী’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল| যদি তাঁর আচরণে কঠোরতা থাকত, তবে তৎকালীন নিষ্ষ্ঠুর ও পাষাণ হৃদয়ের আরববাসীরা তাঁর ডাকে সাড়া দিত না এবং ইসলাম কখনো প্রতিষ্ঠিত হতে পারত না| যে কুরাইশরা তাঁকে এবং তাঁর সাহাবিদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছিল, মক্কা বিজয়ের দিন তাদের সামনে তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ঘোষণা করেছিলেন, “আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই| যাও, আজ তোমরা সবাই মুক্ত স্বাধীন|”-এই ধরনের চরম উদারতা ও মহানুভবতা দেখে শত্রুরা মুগ্ধ হয়ে দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করেছিল| ইসলাম ধর্মে কোন আরব-অনাববের ওপর বা সাদার ওপর কালোর কালো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি কেবল তাকওয়া বা নৈতিকতা|
হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর তাবুত খুলনা কাসরে হোসাইনী ইমামবাড়ীর সামনে কয়েকবার প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইমামবাড়ীতে প্রবেশ করে| এই শোকসভার আয়োজনে মুসলমানদের স্তত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও মানবতার বার্তার প্রতি তাঁদের ভালোবাসার বহি:প্রকাশ| মজলিসের শেষে জিয়ারত এবং তাবারুক বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে|
