বর্ণনাকারী বলে যে, ইমাম হোসেইন (আ.) এর শাহাদাতের পর তারা তার পোশাক লুট করে নিয়ে যায়। তার গায়ের জামা নিয়ে যায় ইসহাক বিন হেইওয়াহ হাযরামি, সে তা পরার পর তার কুষ্ঠ রোগ দেখা দেয় এবং তার চুল পড়ে যায়।
বর্ণিত আছে যে, তার জামা একশত বা তার বেশী তীর, বর্শা এবং তরবারির আঘাতের চিহ্ন বহন করছিলো।
ইমাম জাফর সাদিক্ব (আ.) বলেন যে, ইমাম হোসেইন (আ.) এর দেহ-তে তেত্রিশটি বর্শার আঘাত ও চৌত্রিশটি তরবারির আঘাত ছিলো। তার পাজামা নিয়ে যায় বাহর বিন কা‘ আব তামিমি এবং বর্ণিত আছে যে, সে শয্যাশায়ী হয়ে গিয়েছিলো এবং তার পাগুলো অবশ হয়ে গিয়েছিলো। তার পাগড়ি কেড়ে নেয় আখনাস বিন মুরসিদ হাযরামি যে তা মাথায় পড়েছিলো এবং অন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। তার স্যান্ডেলগুলো কেড়ে নেয় আসাদ বিন খালিদ এবং তার আংটি নেয় বাজদুল বিন সালীম কালবি যে তার আঙ্গুল কেটে তা নিয়ে যায় (আল্লাহর অভিশাপ তার ওপরে) । যখন মুখতার তাকে (বাজদুলকে) গ্রেফতার করলো সে তার হাত ও পা কেটে ফেলেছিলো, সে তার রক্ত প্রবাহিত হতে দিয়েছিলো যতক্ষণ না তার মৃত্যু হয়। ইমামের গোসলের পর পড়ার জন্য পশমের তৈরী লম্বা জামা ছিলো তা লুট করে নিয়ে যায় ক্বায়েস বিন আল আশআস। তার বর্ম নিয়ে যায় উমর বিন সা’ আদ এবং যখন তাকে হত্যা করা হয় মুখতার তা উপহার দেয় তার হত্যাকারী আবি উমরোহকে। তার তরবারি নিয়ে যায় জামী ’ বিন খালক আউদী, আবার এও বর্ণিত হয়েছে যে, এক তামিমি ব্যক্তি আসাদ বিন হানযালাহ অথবা ফালাফিস মুনশালি তা নিয়ে যায়। তার বিদ্যুৎগতি তরবারিটি যুলফিক্বার ছিলো না, ছিলো অন্য একটি যা ছিলো নবুয়ত ও ইমামতের একটি আমানত এবং তার বিশেষ আংটিও যা তার পরিবারের নিরাপত্তা হেফাযতে ছিলো।
শেইখ সাদুক্ব থেকে মুহাম্মাদ বিন মুসলিম বর্ণনা করেন যে, ইমাম জাফর আস সাদিক্ব (আ.)কে প্রশ্ন করা হয়েছিলো ইমাম হোসেইন (আ.) এর আংটি সম্পর্কে যে, কে তা নিয়েছে যখন তার পোশাক লুট করা হয়েছে। ইমাম (আ.) উত্তর দিলেন,“যে রকম বলা হয় তেমন নয়। ইমাম হোসেইন (আ.) ওসিয়ত করে দিয়ে যান তার সন্তান ইমাম আলী যায়নুল আবেদীন (আ.) এর কাছে এবং হস্তান্তর করে গিয়েছিলেন তার আংটি এবং ইমামতের জিনিসপত্র যা এসেছিলো আল্লাহর রাসূল (সা.) থেকে আমিরুল মুমিনীন আলী (আ.) এর কাছে। ইমাম আলী (আ.) তা ইমাম হাসান (আ.) এর কাছে হস্তান্তর করেন এবং ইমাম হাসান (আ.) তা ইমাম হোসেইন (আ.) এর কাছে দিয়ে যান, যা পরবর্তীতে আমার পিতা (ইমাম মুহাম্মাদ আল বাকির (আ.)-এর কাছে আসে এবং তা আমার কাছে পৌঁছেছে। এটি আমার কাছে আছে এবং আমি জুমআর দিন পড়ি এবং তা পড়ে নামায পড়ি।” মুহাম্মাদ বিন মুসলিম বলেন যে, আমি শুক্রবার দিন তার সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলাম এবং তার সাথে নামায পড়লাম। যখন তিনি নামায শেষ করলেন তিনি তার হাত আমার দিকে লম্বা করলেন এবং আমি আংটিটি দেখলাম তার আঙ্গুলে যাতে খোদাই করে লেখা আছে “আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আল্লাহ সাথে সাক্ষাতে প্রস্তুত আছি।” তখন ইমাম বললেন, “এটি হলো আমার প্রপিতামহ আবু আব্দুল্লাহ হোসেইন (আ.) এর আংটি।”
শেইখ সাদুক্বের ‘আমালি’ ও ‘রাওযাতুল ওয়ায়েযীন’ -এ বর্ণিত আছে যে, ইমাম হোসেইন (আ.) এর ঘোড়া তার কেশর ও কপালকে তার রক্তে রঞ্জিত করে নেয় এবং দৌঁড়াতে শুরু করে ও চিৎকার করতে থাকে। যখন নবীর নাতনীরা তার চিৎকার শুনতে পেলেন তারা তাঁবু থেকে বেরিয়ে এলেন এবং ঘোড়াটিকে দেখলেন তার আরোহী ছাড়া, এভাবে তারা জানতে পারলেন ইমাম হোসেইন (আ.) শহীদ হয়ে গেছেন।
ইবনে শহর আশোব তার ‘মানাক্বিব’ -এ এবং মুহাম্মাদ বিন আবি তালিব বলেন যে, ইমাম হোসেইন (আ.) এর ঘোড়া সেনাবাহিনীর ঘেরাও থেকে পালিয়ে এলো এবং তার কপালের চুল রক্তে ভেজালো। সে দ্রুত নারীদের তাঁবুর দিকে ছুটে গেলো এবং চিৎকার করতে লাগলো। এরপর সে তাঁবুর পিছনে গেলো এবং তার মাথাকে মাটিতে আঘাত করতে লাগলো যতক্ষণ না মৃত্যুবরণ করলো। যখন সম্মানিতা নারীরা দেখলেন ঘোড়াটিতে আরোহী নেই তারা বিলাপ শুরু করলেন এবং সাইয়েদা উম্মে কুলসুম (আ.) তার মাথাতে হাত দিয়ে আঘাত করতে লাগলেন এবং উচ্চ কণ্ঠে বললেন, “হে মুহাম্মাদ, হে নানা, হে নবী, হে আবুল ক্বাসিম, ও আলী, ও জাফর, ও হামযা, ও হাসান, এই হলো হোসেইন, যে মরুভূমিতে পড়ে গেছে এবং তার মাথা ঘাড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তার পাগড়ী ও পোষাক লুট করে নিয়ে গেছে।” এ কথা বলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন।
সুপরিচিত যিয়ারতে নাহিয়াতে আছে, “এবং আপনার ঘোড়া তাঁবুর দিকে চলে গেলো, ডাক দিতে দিতে এবং কাঁদতে কাঁদতে, এরপর যখন আপনার পরিবারের নারী সদস্যরা আপনার ঘোড়াকে আরোহী ছাড়া দেখলেন এবং ঘোড়ার জিনকে বাঁকা দেখলেন, তারা তাঁবু থেকে বাইরে বেরিয়ে এলেন, আগোছালো চুল নিয়ে, তাদের চেহারাতে আঘাত করে মাথার চাদর ছাড়া, বিলাপ করে, কাঁদতে কাঁদতে, সম্মানিত হওয়ার পর হতাশ অবস্থায়, তারা শাহাদাতের জায়গাটিতে দৌঁড়ে গেলেন এবং শিমর (অভিশপ্ত) আপনার বুকের উপর বসেছিলো, তার তরবারি চালাচ্ছিলো (আপনার ঘাড়ে) আপনাকে জবাই করার জন্য এবং আপনার চুল তার মুঠিতে ধরা ছিলো, সে আপনাকে জবাই করছিলো তার ভারতীয় তরবারি দিয়ে, আপনার নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেলো এবং আপনার শ্বাস প্রশ্বাস থেমে গেলো (আপনার মাথা বিচ্ছিন্ন করা হলো) এবং আপনার মাথা বর্শার আগায় তোলা হল । (মাদিনাতুল মা’ আজিয’ -এ ইবনে শাহর আশোব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আবু মাখনাফ বর্ণনা করেছে জালুদি থেকে যে: যখন ইমাম হোসেইন (আ.) মাটিতে পড়ে গেলেন, তার ঘোড়া তাকে রক্ষা করতে লাগলো। সেটি ঘোড় সওয়ারদের উপর লাফ দিয়ে উঠতে লাগলো এবং তাদেরকে জিন থেকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দিলো। সেটি তাদেরকে তার পায়ের তলায় পিষলো এবং চক্কর দিতে থাকলো যতক্ষণ না চল্লিশ জনকে হত্যা করলো। এরপর সে নিজেকে ইমাম হোসেইন (আ.) এর রক্তে ভিজিয়ে নিলো এবং তাঁবুর দিকে ছুটে গেলো। সে উচ্চকণ্ঠে ডাকতে লাগলো এবং মাটিতে খুর দিয়ে আঘাত করতে লাগলো।)
35
