মৃত্যুকে নিয়ে ভাবলে তা আশা আকাঙ্ক্ষাকে হত্যা করে , কথা গ্রাহ্য না করার শিকড়কে কেটে ফেলে এবং অন্তর শক্তিশালী হয় আখেরাতের জীবন সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার প্রতিশ্রুতিতে।
এটি প্রকৃতিকে পরিশুদ্ধ করে এবং কামনা-বাসনার চিহ্নগুলো ভেঙ্গে ফেলে , লোভের আগুনকে নিভিয়ে ফেলে এবং পৃথিবীকে ঘৃণ্য বানিয়ে দেয় ; এটিই হলো রাসূলুল্লাহর (সা.) কথার অর্থঃ‘‘ এক ঘন্টার জন্য ভাবা এক বছরের ইবাদাতের চেয়ে উত্তম।’’ ঐ এক ঘন্টার ভাবনা হলো সেই মুহূর্ত যখন তুমি এ পৃথিবীর সাথে তোমাকে বেঁধে রাখা রশিগুলো খুলে ফেলবে এবং সেগুলোকে আখেরাতের সাথে বেঁধে নিবে। যখন মৃত্যুকে এভাবে স্মরণ করা হয় , আকাশ থেকে রহমত বর্ষণ কখনোও বন্ধ হয় না। যদি কোন ব্যক্তি মৃত্যুর বিষয় এবং এ থেকে তার নিজের পালানোর উপায়ের অভাবের বিষয় , তার বিরাট অক্ষমতার বিষয় , কবরে কত লম্বা সময় ধরে সে থাকবে এবং কেয়ামতের সময় তার কিংকর্তব্যবিমূঢ়তার বিষয় না ভাবে তাহলে তার ভেতরে ভালো কিছু নেই।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ‘‘ আনন্দ ফুর্তির ধ্বংসকারীকে স্মরণ রেখো।’’ যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো সেটি কী , তিনি বললেনঃ‘‘ মৃত্যু। যখনই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কোন বান্দাহ তা করে যখন সে ধনী তখন এ পৃথিবী তার জন্য সংকীর্ণ হয়ে যায়। যখন সে একে স্মরণ করে কষ্টের সময় তখন তা তার জন্য প্রশস্ত হয়ে যায়।’’ মৃত্যু হলো পরবর্তী পৃথিবীর প্রথম ষ্টেশন এবং এ পৃথিবীর শেষ ষ্টেশন। রহমতপ্রাপ্ত সে যে নিজের প্রতি উদারতা দেখায় এবং উপকার লাভ করে শুরুতে এবং রহমতপ্রাপ্ত সে যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে শেষে।
আদম সন্তানের সবচেয়ে নিকট সাথী হলো মৃত্যু। যদিও সে স্বপ্ন দেখে যে তা সবচেয়ে দূরে । মানুষ নিজেকে কতই না আঘাত করে। এর চেয়ে দূর্বল আর কোন প্রাণী আছে ? মৃত্যুতেই নিহিত আছে মুখলেস (আন্তরিক) লোকদের উদ্ধার এবং অন্যায়কারীদের ধ্বংস।
এজন্যই কিছু মানুষ মৃত্যুকে চায় যখন অন্যরা একে ঘৃণা করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ‘‘ যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সাথে সাক্ষাত করে তাহলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তার সাথে সাক্ষাত করতে ভালোবাসেন এবং যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সাথে সাক্ষাত করাকে ঘৃণা করে তাহলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তার সাথে সাক্ষাত করাকে ঘৃণা করেন।’’
