তারা বুদ্ধি-বিবেচনা ও চিন্তা-ভাবনা না করে এবং ঐশী বার্তাবাহী নবী-রাসূলগণের সুস্পষ্ট ও অকাট্য প্রমাণাদি গ্রহণ করার পরিবর্তে নিজেদের অজ্ঞতা ও পক্ষপাতদুষ্ট অনুভূতির উপর নির্ভর করেছে। আর এক্ষেত্রে তাদের উক্তি ছিأ ‘কিন্তু তারা বলত, ‘মানুষ কি আমাদেরকে পথ প্রদর্শন করবে?’ তারা এতই গোঁড়া মানসিকতার শিকার ছিল যে, এমনটি সহ্য করতে ও মেনে নিতে সম্মত ছিল না যে, তাদের মতোই কেউ তাদেরকে পথ প্রদর্শন করবে। বস্তুত তারা নবী-রাসূলগণের (আ.) সুউচ্চ মর্যাদা ও আধ্যাত্মিকতাকে বুঝতেই পারেনি, এজন্য তারা মন্তব্য করেছিল যে, ‘আমাদের ন্যায় মানুষ!’ তারা কতইনা সংকীর্ণমনা ও অদূরদর্শী ছিল যে, আল্লাহর মনোনীত নেক বান্দাকে চিনতে পারেনি এবং তাঁর পবিত্র মুখ থেকে যে ঐশী বাণী ও দাওয়াত প্রচারিত হয়েছিল সেগুলো তারা অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে তারা নবীকে উদ্দেশ্য করে বলত যে, সে তো একজন মানুষ। ফলে তাদের পরিণতি সম্পর্কে আয়াতে উল্লেখ করা হচ্ছে,‘অতঃপর তারা অবিশ্বাস করল ও বিমুখ হয়ে গেল।’ অর্থাৎ তারা সত্যকে অস্বীকার ও গোপন করল এবং নবীর (আ.) ঐশী বাণী ও দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করল এবং আল্লাহর বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল। তাদের এহেন আচরণের প্রতি ইশারা করে বলা হচ্ছে, ‘এতে আল্লাহর কিছু আসে যায় না।’ অর্থাৎ তাদেরই ঐশী নির্দেশনার প্রয়োজন রয়েছে, সর্বশক্তিমান আল্লাহর তাদের কোনো প্রয়োজন নেই। তারা যখন মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখন আল্লাহও তাদের প্রতি বিরাগভাজন হন; অর্থাৎ এমনটি তাদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। যখন তারা আল্লাহর ঐশী বিধানকে অস্বীকার করবে, তখন সে ঐশী বিধানের কল্যাণ থেকেও তারা বঞ্চিত হবে। আয়াতের শেষাংশে উল্লেখ করা হচ্ছে, ‘আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, প্রশংসিত।’ অর্থাৎ এমনটি নয় যে, কেউ কল্পনা করবে যে, মানুষ ঐশী শিক্ষা ও আদেশ-নিষেধ উপেক্ষা করবে, অথচ একই সাথে ভালো জীবনযাপন করবে। না, আদৌ এমনটি নয়; যখন কেউ ঐশী আইন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখন ঐশী নেয়ামত ও কল্যাণও তার থেকে দূরে সরে যাবে। বস্তুত এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি চিরন্তন সতর্কীকরণ যে, নবীদের উপর ঈমান আনয়নকারীরা যেন সর্বদা সতর্ক থাকে যাতে উদাসীনতা ও ঐশী আইনের প্রতি অবহেলা এবং তাকওয়া হারানোর কারণে আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহ যেন তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে না নেয়। আর তারা যেন কাফিরদের মতো একই খারাপ পরিণতির শিকার না হয়।
27
আগের পোস্ট
