অল্পে তুষ্টি

আজকের পৃথিবীতে আমাদের অশান্তির মূল কারণ কী? অভাব? না, বরং আমাদের অশান্তির মূল কারণ হলো ‘অতৃপ্তি’। আমরা যা পাই, তার চেয়ে যা পাইনি তা নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকি। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে ‘ অল্পে তুষ্টির দর্শন, যা একজন মানুষকে প্রকৃত ধনী করে তোলে।

কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি

আল্লাহ তাআলা সূরা ইব্রাহীমে একটি চিরন্তন সত্য ঘোষণা করেছেন:

“যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তবে আমি তোমাদের (নেয়ামত) অবশ্যই বাড়িয়ে দেব…” (সূরা ইব্রাহীম, আয়াত: ৭)

অর্থাৎ, আপনার যা আছে তা নিয়ে যদি আপনি সন্তুষ্ট ও কৃতজ্ঞ থাকেন, তবে আল্লাহ আপনার রিজিকে বরকত দান করবেন। আর অকৃতজ্ঞতা মানুষের শান্তি কেড়ে নেয়।

ইমামগণের জীবনদর্শন

আমাদের প্রথম ইমাম, ইমাম আলী (আ.) এর একটি কথা আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তিনি বলেছেন:

“তৃপ্তির (কানাআত) চেয়ে বড় কোনো সম্পদ নেই এবং অল্পে তুষ্টির চেয়ে বড় কোনো সুখ নেই।” (সূত্র: নাহজুল বালাগা)

তিনি আরও বলতেন, সেই ব্যক্তিই প্রকৃত স্বাধীন যে তার লালসাকে (লোভ) নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। আমাদের ইমামগণ কোটি কোটি টাকার মালিক ছিলেন না, কিন্তু তারা ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ, কারণ তাদের অন্তর ছিল আল্লাহর প্রেমে পূর্ণ।

সুখী হওয়ার ৩টি সহজ ধাপ

১. নিচের দিকে তাকানো: রাসূল (সা.) বলেছেন, দুনিয়াবী বিষয়ে নিজের চেয়ে নিচে যারা আছে তাদের দিকে তাকাও। তাহলে তোমার যা আছে তাকে তুচ্ছ মনে হবে না। ২. বরকতের জন্য দোয়া: সম্পদ অনেক থাকলেই শান্তি আসে না যদি তাতে ‘বরকত’ না থাকে। অল্প সম্পদে বরকত থাকলে তা দিয়েও সুখে থাকা সম্ভব। ৩. প্রতিযোগিতা ত্যাগ করা: কে কত বড় বাড়ি বা গাড়ি করলো—এই প্রতিযোগিতায় নামলে শান্তি কোনোদিন আসবে না। আপনার প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত নিজের নফসের সাথে।

সংকলন: ইয়াসিন

Related posts

প্রতিবেশীর অধিকার: সামাজিক সম্প্রীতি

পরোপকার ও সহমর্মিতা: মানবিকতার মূল ভিত্তি ও ঈমানের দাবি

নম্রতা ও বিনয়: আত্মিক প্রশান্তির চাবিকাঠি

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More