তাত্ত্বিক ভিত্তিসমূহ

তাত্ত্বিক ভিত্তিসমূহ
শহীদ সর্বোচ্চ নেতা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী
অনুবাদ: ড. এম. এ. কাইউম
মানবজাতির সব যুগের সব প্রয়োজন ও প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামের সক্ষমতা
হযরত ইমাম খোমেইনী (রহ.) স্বীয় নির্বাসনকাল থেকেই শিয়া ফিকহকে এমন এক দিকে পরিচালিত করেছিলেন যেখানে তা কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সামাজিক, রাষ্ট্রীয় এবং এমন এক ফিকহে রূপ পরিগ্রহ করে যা জাতির জীবনব্যবস্থাকে পরিচালনা করতে চায় এবং মানুষের ছোট-বড় সব সমস্যার জবাব দিতে সক্ষম হয়| এটি ঠিক সেই গোঁড়ামির বিপরীত দিক যার কথা আমরা ইতিপূর্বে বলেছি|
এমনকি, ইমামের (রহ.) জীবনের শেষ বরকতময় বছরগুলোতেও কিছু বিষয় সামনে আসে যেগুলো বাহ্যত ছোট মনে হতে পারে; কিন্তু যেহেতু সেগুলো শিয়া আলেমদের জন্য এক দিকনির্দেশনা ও পথপ্রদর্শক ছিল তাই সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে| তিনি আবারও দেখিয়ে দেন যে, যে ব্যক্তি একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায় – যে ফিকহ একটি জাতি বা বৃহৎ মানবসমষ্টিকে পরিচালনা করতে চায় – তাকে অবশ্যই সময়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং প্রতিটি প্রয়োজনের যথাসময়ে যথাযথ উত্তর দিতে সক্ষম হতে হবে| রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং মানুষের জীবনের সব ক্ষেত্রেই কোনো বিষয়কে উত্তরবিহীন রেখে দেওয়া চলবে না|
সব বিরোধী চিন্তার উপর ইসলামের দৃঢ় ভিত্তির প্রাধান্য ও বিস্তার লাভ
এই মতপার্থক্যের কিছু অংশ কল্পনা ও সংশয় থেকে উদ্ভূত; এসব ভুল ধারণা সংশোধন করা জরুরি| ভুল মতের মোকাবিলা দৃঢ়তার সঙ্গে করতে হবে, তবে তা যেন যুক্তির ভিত্তিতে হয়| মহান আল্লাহ বলেন: “তিনি সেই সত্তা যিনি তাঁর রসুলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি এটিকে সব ধর্মের উপর প্রাধান্য দেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে|”
এই আয়াতের প্রেক্ষিতে যে বিষয়টি আমি বলতে চাই তা হচ্ছে: মহান আল্লাহ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তাঁর দ্বীন – সত্য দ্বীন, সঠিক পথ ও ঐশী সরল পথ – সমস্ত মানবীয় ধর্ম ও মানুষের তৈরি সব ব্যবস্থার উপর প্রাধান্য লাভ করবে| যা মূলত মিথ্যা, কিংবা যা এক সময় সত্য ছিল কিন্তু পরবর্তীতে বিকৃতি ও পরিবর্তনের মাধ্যমে অসত্যে পরিণত হয়েছে তার সব কিছুর উপরই আল্লাহর দ্বীন বিজয়ী হবে| অর্থাৎ সব মানব সংস্কৃতি, সব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, সব শাসনপদ্ধতি এবং সব ভুল জীবনধারা শেষ পর্যন্ত আল্লাহর দ্বীনের কাছে পরাজিত হবে| কিছুদিন হয়তো এগুলো তাদের অনুসারীদের প্রচেষ্টা ও সত্যপন্থীদের দুর্বলতার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতে পারে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহর দ্বীন পুরো পৃথিবীজুড়ে বিস্তার লাভ করবে এবং সব মানুষ এর সুফল ভোগ করবে, -এটাই এই আয়াতের মূল বক্তব্য|
এখানে যে এক প্রশ্ন উত্থাপিত হয় তা হচ্ছে এই যে, কীভাবে আল্লাহর দ্বীন পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হবে? তা কি শক্তি, রাজনৈতিক বা সামরিক ক্ষমতার মাধ্যমে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে?
নিশ্চয়ই এমনটি হবে না| কোনো ধর্ম বা মতবাদকে শক্তি ও তলোয়ারের জোরে মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো কৃতিত্ব নয়| একটি ভ্রান্ত মতবাদ হয়তো জোর করে মানুষের জীবনে চাপিয়ে দেওয়া যেতে পারে; যেমন এক সময় মার্কসবাদী চিন্তাধারা ও কমিউনিস্ট জীবনব্যবস্থা কিছু দেশ ও জাতির উপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল| কিন্তু আল্লাহর দ্বীন এভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে চায় না| এটি মানুষের অন্তরে স্থান করে নেয়; আর অন্তরে জোর করে কিছু চাপিয়ে দেওয়া যায় না| মানুষের হৃদয়কে বুঝতে হবে, গ্রহণ করতে হবে এবংস্বতঃস্ফূর্তভাবে সেই বিশ্বাস ও আদর্শ মেনে নিতে হবে| তখনই সে এর প্রকৃত সুফল ভোগ করতে পারবে| জোর বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নয়; ইসলাম কখনই এমন কিছু চায়নি|

Related posts

ইসলামি শিষ্টাচার: ছোটদের স্নেহ ও বড়দের প্রতি সম্মান

ইমাম রেযা’র (আ.) জ্ঞানপূর্ণ ব্যক্তিত্ব

প্রতিবেশীর অধিকার: সামাজিক সম্প্রীতি

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More