আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব 

by Syed Yesin Mehedi
 আত্মশুদ্ধি কী এবং কেন এটি ইবাদতের আগে জরুরি, সেই সম্পর্কে ইমামদের (আঃ) শিক্ষা। নফস (আত্মা)-কে নিয়ন্ত্রণ করে খারাপ চিন্তা থেকে রক্ষা করার ব্যবহারিক উপায় নিয়ে আলোচনা।
ইসলামী আধ্যাত্মিকতা (ইরফান) অনুযায়ী, একজন মুমিনের জীবনে সবচেয়ে বড় সংগ্রাম হলো তার ‘নফস’ (আত্মা বা প্রবৃত্তি)-এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম। এই সংগ্রামকে বলা হয় ‘জিহাদে আকবর’ (সর্বশ্রেষ্ঠ সংগ্রাম)। নফসকে পরিশুদ্ধ করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘তাযকিয়াতুন-নফস’ বা আত্মশুদ্ধি। এর অর্থ হলো মনকে হিংসা, অহংকার, লোভ, এবং কুচিন্তা থেকে মুক্ত করে তাকে আল্লাহর ভালোবাসা ও নৈতিক গুণাবলী দ্বারা সজ্জিত করা।তাযকিয়া ছাড়া কোনো ইবাদতই পূর্ণতা পায় না। পবিত্র কুরআন আমাদের শিখিয়েছে যে, যারা আত্মশুদ্ধি অর্জন করেছে, তারাই সফল:

“সে-ই সফলকাম হবে, যে নিজেকে পবিত্র করেছে।”

— সূরা আশ-শামস (৯১:৯)

তাযকিয়াতুন-নফস কেন জরুরি?

ইবাদতের আগে আত্মশুদ্ধি জরুরি, কারণ একটি কলুষিত মন আল্লাহর দিকে সম্পূর্ণরূপে মনোনিবেশ করতে পারে না।
খারাপ চিন্তা থেকে মুক্তি
খারাপ চিন্তা বা ‘খাওয়াতীর’ হলো শয়তান বা নফসের প্ররোচনা, যা মুমিনের হৃদয়ে প্রবেশ করে। আহলে বাইত (আঃ) শিখিয়েছেন যে, এই চিন্তাগুলোকে শুরুতেই দমন করতে হবে।

খারাপ চিন্তা থেকে মনকে রক্ষা করার উপায়:
 আশ্রয় প্রার্থনা: শয়তানের ওয়াসওয়াসা (কুমন্ত্রণা) অনুভব করলে, ‘আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম’ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি) বলা।
যিকির (আল্লাহর স্মরণ): যখনই খারাপ চিন্তা আসে, তখনই ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ অথবা ‘সুবহানাল্লাহ’ যিকির করে মনকে অন্যদিকে ঘোরানো।
কুরআনের তেলাওয়াত: পবিত্র কুরআন পাঠ করা মনকে আলোকিত করে এবং খারাপ চিন্তা দূর করে।

আহলে বাইত (আঃ)-এর শিক্ষায় তাযকিয়ার উপায়

আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (আঃ) তাযকিয়া অর্জনের জন্য আত্ম-পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন:
“যে ব্যক্তি তার নফসকে চিনতে পারল, সে তার রবকে চিনতে পারল।”
ইমাম সাজ্জাদ (আঃ) তাঁর দোয়ার মাধ্যমে শিখিয়েছেন যে, তাযকিয়া অর্জনের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া আবশ্যক। আমাদের উচিত, সব সময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা যেন তিনি আমাদের নফসকে পবিত্র করে দেন।তাযকিয়াতুন-নফস হলো একজন মুমিনের জীবনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আত্মশুদ্ধির মাধ্যমেই আমরা আমাদের হৃদয়কে আল্লাহর ভালোবাসার জন্য প্রস্তুত করতে পারি। আহলে বাইত (আঃ)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, নিয়মিত যিকির, ইস্তেগফার ও আত্মসমালোচনার মাধ্যমে আমরা আমাদের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে শান্ত আত্মা (‘নফসে মুতমায়িন্না’)-এর মর্যাদা লাভ করতে পারি।

ফজর/সংকলন : ইয়াসিন মেহদী ( ইফাজ )

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔