আমাদের নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থার গতি-প্রকৃতি

ড. এম. এ. কাইউম

by Syed Yesin Mehedi

সূচনা: শিক্ষা একটি জাতির সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান ও প্রকৃতি তার মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক গতিশীলতা, মূল্যবোধের বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষার পরবর্তী স্তর হিসেবে নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এ স্তরে শিক্ষার্থীরা শৈশব থেকে কৈশোরে এবং কৈশোর থেকে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের প্রস্তুতির দিকে অগ্রসর হয়। ফলে এ সময়ের শিক্ষা শুধু পাঠ্যজ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ব্যক্তিত্ব, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও কর্মদক্ষতা গঠনেরও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
বাংলাদেশে নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংস্কার, নীতি পরিবর্তন, পাঠ্যক্রমের পুনর্গঠন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছে। একদিকে শিক্ষায় প্রবেশাধিকার ও অংশগ্রহণ বেড়েছে, অন্যদিকে শিক্ষার গুণগত মান, বৈষম্য, ঝরে পড়া, মুখস্থনির্ভরতা, শিক্ষকস্বল্পতা ও মূল্যায়নসংক্রান্ত নানা চ্যালেঞ্জ এখনও বিদ্যমান। তাই বাংলাদেশের নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থার গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা সময়োপযোগী ও জরুরি।
নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার ধারণা ও কাঠামো: বাংলাদেশের প্রচলিত শিক্ষাকাঠামোতে প্রাথমিক শিক্ষার পর মাধ্যমিক স্তর শুরু হয়। সাধারণভাবে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিকে নিম্নমাধ্যমিক এবং নবম ও দশম শ্রেণিকে মাধ্যমিক স্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দশম শ্রেণির শেষে শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (ঝঝঈ) বা সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এরপর উচ্চমাধ্যমিক স্তর এবং পরবর্তী পর্যায়ে উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়।
এই স্তরের শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনায় সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি মাদ্রাসা, কারিগরি ও অন্যান্য ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানে ভূমিকা রাখে। ফলে বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষা একদিকে বহুধারাভিত্তিক, অন্যদিকে একটি অভিন্ন জাতীয় শিক্ষাদর্শ ও নির্ধারিত শিখনফল অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত।
শিক্ষাব্যবস্থার গতি-প্রকৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্য: বাংলাদেশের নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর ক্রমবর্ধমান বিস্তার। অতীতে মাধ্যমিক শিক্ষা মূলত শহর ও তুলনামূলক সচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশি সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বিদ্যালয়ের বিস্তার ঘটেছে। মেয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে মাধ্যমিক শিক্ষায় সামাজিক অন্তর্ভুক্তির পরিধি প্রসারিত হয়েছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো শিক্ষার উদ্দেশ্যে পরিবর্তন। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় পরীক্ষায় ভালো ফলাফল ও পাঠ্যবই ভিত্তিক জ্ঞান অর্জনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। বর্তমান শিক্ষাচিন্তায় জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ, সৃজনশীলতা, সহযোগিতা, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার এবং জীবনমুখী দক্ষতা অর্জনের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ স্তরের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো শিক্ষার্থীদের কৈশোরকালীন বিকাশ। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। ফলে তাদের শিক্ষায় শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান নয়, নৈতিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতা, সামাজিক মূল্যবোধ, নাগরিকত্ব এবং নিরাপদ আচরণ সম্পর্কিত শিক্ষারও প্রয়োজন রয়েছে।
পাঠ্যক্রম ও শিক্ষণ-পদ্ধতির পরিবর্তন: বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থায় সময়ের সঙ্গে পাঠ্যক্রমের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। আধুনিক শিক্ষাদর্শ অনুযায়ী শিক্ষার্থীকে শুধু তথ্যের গ্রহীতা হিসেবে না দেখে সক্রিয় শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পভিত্তিক কাজ, দলগত কার্যক্রম, আলোচনা, উপস্থাপনা, অনুসন্ধানমূলক শিক্ষা এবং বাস্তব জীবনের সমস্যার সঙ্গে পাঠের সংযোগ স্থাপনের মতো পদ্ধতি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বাস্তবে নতুন শিক্ষাদর্শ ও শ্রেণিকক্ষের প্রচলিত চর্চার মধ্যে একটি ব্যবধান রয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ে এখনো শিক্ষককেন্দ্রিক পাঠদান, গাইডবইনির্ভর প্রস্তুতি এবং পরীক্ষায় নম্বর পাওয়ার উপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেখা যায়। বড় শ্রেণিকক্ষ, সীমিত অবকাঠামো, শিক্ষক প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত শিক্ষাসামগ্রীর অভাব নতুন পদ্ধতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
মূল্যায়ন পদ্ধতির গতি-প্রকৃতি: মাধ্যমিক শিক্ষায় মূল্যায়ন দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয়। পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার্থীর পরবর্তী শিক্ষাজীবন, পরিবার ও সামাজিক অবস্থানের উপরও প্রভাব ফেলে। ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রিক মানসিকতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
বর্তমান শিক্ষাচিন্তায় মূল্যায়নকে শুধু চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীর ধারাবাহিক শিখন, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও প্রয়োগক্ষমতা যাচাইয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থী কী মুখস্থ করেছে তার পরিবর্তে সে কী বুঝেছে, কীভাবে প্রয়োগ করতে পারে এবং নতুন পরিস্থিতিতে কীভাবে সমস্যা সমাধান করতে পারে তা বিবেচনা করা।
তবে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনলেই প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায় না। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, মূল্যায়নের নির্ভরযোগ্য কাঠামো, পর্যাপ্ত সময়, উপযুক্ত শিক্ষাসামগ্রী এবং অভিভাবক-শিক্ষার্থীর মানসিক প্রস্তুতি -সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক: শিক্ষাব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। একজন দক্ষ শিক্ষক শিক্ষার্থীর জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি তার চিন্তাশক্তি, নৈতিকতা ও আত্মবিশ্বাস বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষককে একই সঙ্গে বিষয়বিশেষজ্ঞ, পরামর্শদাতা, প্রেরণাদাতা এবং শিক্ষার্থীর বিকাশের সহায়ক হিসেবে কাজ করতে হয়।
কিন্তু শিক্ষকসংখ্যার ঘাটতি, অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব, শ্রেণিকক্ষের চাপ এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব অনেক সময় শিক্ষকের কার্যকর ভূমিকা পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ব্যক্তিগত ও সামাজিক বৈচিত্র‍্য রয়েছে। অর্থনৈতিক অবস্থা, পারিবারিক পরিবেশ, প্রযুক্তির সুযোগ, শহর-গ্রামের পার্থক্য এবং অভিভাবকের শিক্ষাগত অবস্থান তাদের শেখার অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করে।
প্রযুক্তির প্রভাব: একবিংশ শতাব্দীতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি শিক্ষার প্রকৃতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। কম্পিউটার, স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং অনলাইন শিক্ষাসামগ্রী শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের সুযোগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ (করোনা) মহামারির সময় অনলাইন ও দূরশিক্ষার গুরুত্ব নতুনভাবে স্পষ্ট হয়।
তবে ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ সবার জন্য সমান নয়। শহর ও গ্রামের মধ্যে ইন্টারনেট সুবিধা, ডিভাইসের প্রাপ্যতা ও ডিজিটাল দক্ষতার পার্থক্য রয়েছে। ফলে প্রযুক্তি যেমন শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করতে পারে, তেমনি যথাযথ নীতি ও অবকাঠামো না থাকলে নতুন ধরনের বৈষম্যও সৃষ্টি করতে পারে।
প্রধান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জসমূহ: বাংলাদেশের নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থার অগ্রগতি সত্ত্বেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা রয়ে গেছে।
প্রথমত, শিক্ষার গুণগত মান একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও ভর্তি বাড়লেও সব শিক্ষার্থী সমানভাবে কার্যকর শিখনফল অর্জন করছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে প্রভাব ফেলে। দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয়, পারিবারিক কাজ, প্রযুক্তির সীমিত সুযোগ কিংবা দ্রুত কর্মজীবনে প্রবেশের চাপের মুখোমুখি হতে পারে।
তৃতীয়ত, শিক্ষার্থী ঝরে পড়া এখনো উদ্বেগের বিষয়। বিশেষত আর্থিক সংকট, বাল্যবিবাহ, পারিবারিক দায়িত্ব, বিদ্যালয়ের দূরত্ব এবং শিক্ষার প্রতি অনাগ্রহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঝরে পড়ার কারণ হতে পারে।
চতুর্থত, শহর ও গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, শিক্ষকপ্রাপ্যতা ও শিক্ষাসামগ্রীর ক্ষেত্রে পার্থক্য দেখা যায়। এই বৈষম্য কমানো না গেলে শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়ন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
পঞ্চমত, পরীক্ষাকেন্দ্রিক সংস্কৃতি শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা ও অনুসন্ধিৎসাকে অনেক সময় সীমিত করে। নম্বর ও ফলাফলের উপর অতিরিক্ত গুরুত্ব শিক্ষাকে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পরিবর্তে পরীক্ষায় সাফল্যের প্রতিযোগিতায় পরিণত করতে পারে।
ষষ্ঠত, আজকাল শিক্ষাদান কার্যটি অধিকাংশ শিক্ষকের ক্ষেত্রেই অর্থ উপার্জনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের ক্লাসটাইমে কোনোরকম ক্লাস করিয়েই কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের বাউন্ডারির ভিতরেই এবং ক্লাসটাইমের বাইরে একই শিক্ষক দ্বারা, সকল ছাত্র-ছাত্রীকে বাধ্যতামূলকভাবে কোচিং ক্লাসে বসিয়ে পাঠদান করা হচ্ছে। আর এর বিনিময়ে প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর নিকট হতে নির্দিষ্ট পরিমাণে মাসিক বেতন নেয়া হচ্ছে যা মাসের শেষে সকল শিক্ষকের মধ্যে ভাগ করে নেয়া হয়। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, কোনো ছাত্র-ছাত্রী কোচিং করতে না চাইলে তাকে পরীক্ষায় নম্বর কম দেয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে। আর এই বিষয়টিই একদিকে বহু অভিভাবকের জন্যে বোঝা এবং অপরদিকে বহু ছাত্র-ছাত্রীর ঝরে পড়ার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে! এ থেকে শিক্ষাব্যবস্থাকে বের করে আনতে না পারলে আমাদের জন্যে এক সমূহ বিপদ অপেক্ষা করছে।
সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা: বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা যথেষ্ট বিস্তৃত। জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ হওয়ায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য এই স্তরের শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, কারিগরি দক্ষতা, ভাষা, উদ্যোক্তা শিক্ষা, আর্থিক সচেতনতা এবং জীবনদক্ষতার সঙ্গে মাধ্যমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা গেলে তা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ক্ষেত্রে কয়েকটি পদক্ষেপ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, শিক্ষার মান নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের মান উন্নত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সুবিধার বৈষম্য কমাতে হবে। তৃতীয়ত, মুখস্থনির্ভরতার পরিবর্তে ধারণাভিত্তিক ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করতে হবে। চতুর্থত, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, নৈতিকতা, নাগরিকত্ব ও জীবনদক্ষতার বিষয়গুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। পঞ্চমত, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর সামাজিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।
উপসংহার: বাংলাদেশের নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা একটি পরিবর্তনশীল ও ক্রমবিকাশমান ব্যবস্থা। এর গতি-প্রকৃতিতে একদিকে রয়েছে শিক্ষার বিস্তার, প্রযুক্তির ব্যবহার, পাঠ্যক্রম সংস্কার, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার প্রসার এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রচেষ্টা; অন্যদিকে রয়েছে শিক্ষার গুণগত মান, বৈষম্য, শিক্ষকস্বল্পতা, ঝরে পড়া, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং পরীক্ষাকেন্দ্রিকতার মত চ্যালেঞ্জ।
তাই মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নকে কেবল নতুন পাঠ্যবই বা নতুন পরীক্ষা পদ্ধতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবার, বিদ্যালয়, প্রশাসন এবং বৃহত্তর সমাজ -সব পক্ষের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। শিক্ষাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন মানুষ তৈরি করা যারা জ্ঞানসম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি যুক্তিবাদী, সৃজনশীল, নৈতিক, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সমাজে অবদান রাখতে পারে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে পরিকল্পিত সংস্কার ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ উন্নয়নের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔