প্রত্যেক সম্মানিত কাজের ভিতরে ইখলাস রয়েছে। এটি একটি মনোভাব যা শুরু হয় গ্রহণ (ক্ববুল হওয়া) দিয়ে এবং শেষ হয় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সন্তুষ্টি দিয়ে। অতএব যার কাজ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা গ্রহণ করেন এবং যার উপরে তিনি সন্তুষ্ট সে হচ্ছে মুখলেস ব্যক্তি , তার কাজের পরিমাণ খুব কম হওয়া সত্ত্বেও। যার কাজ গৃহীত হয় না সে মুখলেস নয় , তার কাজের পরিমাণ বেশী হওয়া সত্ত্বেও। যেভাবে আমরা দেখি আদম (আ.) ও ইবলিস (তার উপর লানত)-এর মাঝে কী ঘটেছিলো ।
ক্ববুল হওয়ার নিদর্শন হচ্ছে সত্যবাদিতা এবং সঠিকতার উপস্থিতি- যা আশা করা হয় সবকিছু ব্যয় করার পর , প্রত্যেক নড়াচড়া ও স্থিরতায় সঠিক সচেতনতা বজায় রেখে । তার যা আছে তা ধরে রাখতে মুখলেস ব্যক্তির সত্তা নিয়োজিত থাকে এবং তার জীবন ব্যয় হয় তার যা আছে তা গুছিয়ে নিতে এবং জ্ঞান ও কাজ এবং কর্মী ও কর্মের মধ্যে ঐক্য আনতে। যদি সে তা অর্জন করে থাকে তাহলে সে সব অর্জন করেছে এবং যদি সে তা হারায় তাহলে সে সব হারায় ; এবং তা বাস্তবায়িত হয় শিরকহীনতার (তারযিহ) অর্থকে পবিত্র করার মাধ্যমে। যেমন প্রথম ইমাম বলেছেনঃ‘‘ যারা কাজ করে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে তারা ছাড়া যারা ইবাদাত করে ; যারা ইবাদাত করে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে তারা ছাড়া যারা জানে ; যারা জানে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে তারা ছাড়া যারা সত্যবাদী ; যারা সত্যবাদী তারা ধ্বংস হয়ে যাবে তারা ছাড়া যারা মুখলেস (আন্তরিক) ; যারা মুখলেস তারা ধ্বংস হয়ে যাবে তারা ছাড়া যারা মুত্তাক্বী (সতর্ক) ; যারা মুত্তাক্বী তারা ধ্বংস হয়ে যাবে তারা ছাড়া যারা নিশ্চিত (ইয়াক্বীন) হয়েছে ; এবং যারা নিশ্চিত হয়েছে তারা সুমহান চরিত্রের ; যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেনঃ ‘‘ এবং তোমার রবের দাসত্ব করো ঐ পর্যন্ত যখন তোমার ইয়াক্বীন এসে যাবে।’’ (সূরা হিজরঃ ৯৯)
একদম নীচের ইখলাস হলো যখন বান্দাহ নিজের উপর চাপ প্রয়োগ করে যতটুকু তার পক্ষে সম্ভব এবং এরপর সে তার কাজের কোন মূল্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে আছে বলে মনে করে না যার কারণে সে তার রবকে তার কাজের পুরস্কার দিতে বলবে তার জ্ঞান অনুযায়ী , কারণ যদি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাকে দাসত্বের (উবুদিয়াহ) সব দায়িত্ব পালন করতে বলেন তখন সে তা করতে পারবে না। মুখলেস ব্যক্তির সর্বনিম্ন মাক্বাম হলো এ পৃথিবীতে সব অন্যায় কাজ থেকে নিরাপত্তা এবং আগুন থেকে রক্ষা পাওয়া এবং পরবর্তী পৃথিবীতে জান্নাত পাওয়া।