আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণগুলো কি কি?

আল্লাহর রহমতের ধারণা এবং তার ব্যাপকতা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে বলতে হয় যে তাঁর রহমত দুই ধরনের -একটি সাধারণ এবং অন্যটি বিশেষ। এছাড়া এটি  বিবেচনা করতে হবে যে আল্লাহর রহমত সব সময় এবং সর্বত্র প্রতিটি ঘটনা এবং সমস্ত মানুষের জন্য আল্লাহর গোপন জ্ঞান এবং গোপনীয়তার উপর ভিত্তি করে বিস্তৃতি লাভ করে। অতএব যে ক্ষেত্রে আল্লাহর রহমত কারও কাছ থেকে তুলে নেওয়া হয় বা কেউ তাঁর রহমতের ছায়ায় অন্তর্ভুক্ত হয় তা আলাদা বৈশিষ্ট বহন করে। এছাড়া কেউ সঠিকভাবে এবং সম্পূর্ণরূপে জানে না কোন ক্ষেত্রে আল্লাহর রহমত একজন ব্যক্তির কাছ থেকে তুলে নেয়া হয় এবং কোন ক্ষেত্রে তা নেওয়া হয় না; বিশেষ করে সাধারণ রহমত (রহমত রহমানিয়াহ) এতই ব্যাপক এবং সাধারণ যে প্রতিটি ঘটনা, এমনকি নাস্তিক এবং খোদাভীরুরাও আল্লাহও অনুগ্রহের ছায়ায় থাকে। অতএব খোদায়ী রহমত, বিশেষত আল্লাহর সাধারন রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঘটনাগুলো সম্পূর্ণভাবে এবং সঠিকভাবে চিহ্নিত করা কখনই সম্ভব হবে না।

এই প্রসঙ্গে কিছু হাদিস দেখায় যে কিছু পরিস্থিতিতে আল্লাহর রহমত মানুষের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হতে পারে। যেমন ইসলামি ঐতিহ্যে আছে যে, মানুষের প্রতি দয়া না দেখানোর ফলে আল্লাহর রহমত কেড়ে নেওয়া হয়: মিন লা ইয়ারহাম নাস লা রাহমাহ আল্লাহ: অর্থাৎ যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না সে আল্লাহর রহমত পাবে না। প্রাণী ও অন্যান্য প্রাণীর প্রতি দয়া না দেখানোর বিষয়েও এ বিষয়টি বলা হয়েছে।

এটি ছিল আল্লাহ সাধারণ করুণা বা রহমত সম্পর্কে। সৃষ্টিকর্তার বিশেষ রহমতের বিষয়ে যা কেবলমাত্র বিশ্বাসী ও ধার্মিকদের জন্য দেওয়া হয়  এটা স্বাভাবিক যে যতক্ষণ পর্যন্ত একজন ব্যক্তি ইমান, তাকওয়া, সৎকর্ম এবং অন্যান্য ভালো অবস্থার অধিকারী হবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর বিশেষ রহমত তার জন্য মন্জুর  করা হবে এবং এটা যে কারণেই হোক না কেন। একজন ব্যক্তি তার ঈমান ও তাকওয়া থেকে বঞ্চিত হলে তাকে রহমত থেকেও বঞ্চিত করা হবে।

সূত্র : পার্সটুডে

Related posts

ইসলামি শিষ্টাচার: ছোটদের স্নেহ ও বড়দের প্রতি সম্মান

ইমাম রেযা’র (আ.) জ্ঞানপূর্ণ ব্যক্তিত্ব

প্রতিবেশীর অধিকার: সামাজিক সম্প্রীতি

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More