ইমামের ইবাদত

by Syed Yesin Mehedi

ইমাম মুসা কাযেমের বিশেষ খোদা পরিচিতি ,মহান প্রভুর প্রতি ,তাঁর সত্তাগত জ্যোতির প্রতি তাঁর আত্মিক আকর্ষণ যা পবিত্র ইমামগণের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি সকল কিছুই তাঁকে প্রেমময় ইবাদত ও উপাসনার দিকে ধাবিত করেছিল । তিনি  ইবাদতকে সৃষ্টির উদ্দেশ্য বলে মনে করতেন ,যেরূপ মহান আল্লাহ বলেছেন : সামাজিক কর্মকাণ্ডের অবসরে তিনি কিছুকেই এর সমকক্ষ বলে মনে করতেন না । যখন হারুনের নির্দেশক্রমে তিনি কারারুদ্ধ হয়েছিলেন ,তখন বলেছিলেন :

প্রভু হে! কতদিন তোমার নিকট চেয়েছি আমাকে (কেবল মাত্র) তোমার ইবাদতের জন্য অবসর দাও । এমন আমার প্রার্থনা তুমি গ্রহণ করেছ ,সুতরাং এজন্য তোমার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি ।( হায়াতুল ইমাম ,১ম খণ্ড ,পৃ. ১৪০ ,এরশাদ ,মুফিদ ,পৃ. ২৮১)

এ উক্তিটি কারাগারে আসার পূর্ব পর্যন্ত সামাজাকি কর্মকাণ্ডে ইমামের অপরিসীম ব্যস্ততার প্রমাণবহ ।

যখন ,ইমাম রাবির কারাগারে ছিলেন ,হারুন কখনো কখনো ইমামের কারাগারের ছাদে আসত এবং কারাভ্যন্তরে উঁকি দিয়ে দেখত । যতবারই তাকাত ,প্রত্যেকবারই দেখত একগুচ্ছ জামা কাপড়ের মত কারাগারের এককোণে পড়ে আছে এবং সেখান থেকে স্থানান্তরিত হচ্ছে না । একবার জিজ্ঞাসা করেছিল ঐ পোশাকগুলো কার ?

রাবি বলল : পোশাক নয় ,তিনি মুসা ইবনে জা  ফর (আ.) যিনি অধিকাংশ সময়ই প্রভুর ইবাদতের মধ্যে কাটান ও সিজদাবনত হয়ে মাটিতে চুম্বন করেন ।

হারুন বলল : প্রকৃতই তিনি বনি হাশেমের ইবাদতকারীদের অন্তর্ভূক্ত ।

রাবি জিজ্ঞাসা করল : তবে কেন কারাগারে তার উপর কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়ে থাকেন ।

হারুন বলল : হায়! এছাড়াতো আমার কোন উপায় নেই!! (হায়াতুল ইমাম মুসা ইবনে জাফর ,১ম খণ্ড ,পৃ. ১৪০ ,এরশাদ ,মুফিদ ,পৃ. ২৮১ )

একবার হারুন ভরা শশী এক দাসীকে তাঁর সম্মানে পাঠিয়েছিল । আর এর আড়ালে এ কুমন্ত্রণা ছিল যে ,যদি ইমাম ঐ দাসীর প্রতি আকৃষ্ট হন ,তবে তা হবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের উত্তম হাতিয়ার । ইমাম ঐ নারীর আনয়নকারীকে বললেন : তোমরা এ উপহারের প্রতি প্রলুব্ধ এবং এ গুলোই তোমাদের দম্ভ ,এ উপঢৌকন ও এগুলোর মত কিছুই আমার প্রয়োজন নেই । হারুন (আল্লাহর অভিশম্পাত তার উপর) ক্রুদ্ধ হলো এবং ইমামকে এ কথা বলার নির্দেশ দিল যে ,আমরা আপনার খুশীমত আপনাকে কারাবন্দী করিনি । (অর্থাৎ এ দাসীর কারাগারে থাকাটাও আপনার ইচ্ছার উপর নির্ভর করে না । )

কালাতিপাত হয়নি ,ইমাম ও ঐ দাসীর সম্পর্কের ব্যাপারে সংবাদদাতা গুপ্তচররা হারুনকে সংবাদ দিল যে ,ঐ তরুণী অধিকাংশ সময়ই সেজাদাবনত থাকে । হারুন বলল : আল্লাহর শপথ! মুসা ইবনে জা  ফর (আ.) ঐ নারীকে যাদু করেছে .. ।

দাসীকে নিয়ে আসার পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ,সে ইমামের সুনাম ব্যতীত কিছুই বলে নি ।

হারুন ঐ দাসীকে নিজেদের নিকট আটক রাখার জন্যে তার প্রহরীদেরকে নির্দেশ দিল যাতে সে কারো নিকট এ ব্যাপারে কিছু না বলতে পারে । ঐ দাসী অনবরত ইবাদতে মশগুল থাকত এবং ইমামের শাহাদাতের কিছু দিন পূর্বে পৃথিবী থেকে বিদায় গ্রহণ করেছিল । (হায়াতুল ইমাম মুসা ইবনে জাফর ,১ম খণ্ড ,পৃ. ১৪০ ,এরশাদ ,মুফিদ ,পৃ. ২৮১ )

ইমাম এ দোয়াটি প্রায়ই পড়তেন :

প্রভু হে! আমি তোমার কাছে সহজ মৃত্যু কামনা করি ,আর কামনা করি বিচার দিবসে সহজ হিসাব । ( এরশাদ ,মুফিদ ,পৃ. ২৭৭ )

ইমাম মুসা কাযেম (আ.) এত সুন্দর ও সুললিত কন্ঠে কোরআন পড়তেন যে ,যে কেউ তাঁর কোরআন পাঠ শুনত ,ক্রন্দন করত । মদীনার অধিবাসীরা তাঁকে  যাইনুল মুতাহাজ্জেদীন  অর্থাৎ রাত্রি জাগরণকারীদের সৌন্দর্য উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন ।

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔