(১) শুরুতে হায়েয নির্ণয়ের মাপকাঠি :
প্রথমতঃ মাপকাঠি হল ওয়াক্তীয়া হিসেবের মাসিকের প্রতি রুজু করা। যদি উক্ত মেয়াদকালের মধ্যেই তার রক্ত আসে কিম্বা সে মেয়াদকালের দুয়েকদিন আগে বা পরে আসে তাহলে এক্ষেত্রে রক্ত আসা মাত্রই হায়েয হবে। এমনকি যদি হায়েযের লক্ষণসমূহ বিদ্যমান নাও থাকে।
দ্বিতীয়তঃ যদি ওয়াক্তীয়অ হিসেবের মাসিকের অধিকারিনী না হয় (অর্থাৎ অপর চার প্রকারের আদাদীয়া, মুবতাদিয়া, মুযতারিবা, নাসিয়া-এগুলোর মধ্যে কোন একটি হয়ে থাকে) সেক্ষেত্রে উক্ত রক্তের বৈশিষ্ট্য ও লক্ষণসমূহের প্রতি রুজু করা আবশ্যক। যদি তাতে হায়েযের বৈশিষ্ট্যাবলী বিদ্যমান থাকে তাহলে প্রথম দিন থেকেই হায়েয ধার্য করতে হবে। আর যদি বিদ্যমান না থাকে তাহলে তিন দিন পর্যন্ত মুস্তাহাযার জন্য যা করণীয় এবং ঋতুবতী মহিলার জন্য যেগুলো বর্জনীয় উভয়টি পালন করবে। তারপর যদি তিনদিন বা তার বেশি রক্ত আসা অব্যাহত থাকে তাহলে হায়েয ধার্য হবে যদি না শুরু থেকেই নিশ্চিত থাকে যে তিন দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে যাতে হায়েয নির্ধারণ করে নিতে পারে। (উরওয়াতুল উছকা, পৃঃ ৩২৩, মাঃ ১৫, তাহীরুল উসীলা, খঃ ১, পৃঃ ৪৫, মাঃ ১৩)
স্মর্তব্য :
১। যে মহিলা তার নির্দ্দিষ্ট ঋতুকালের ভিত্তিতে কিম্বা লক্ষণসমূহের ভিত্তিতে রক্তকে হায়েয ধার্য করেছে এবং ইবাদত করা থেকে দুরে থেকেছে যদি তার তিন দিনের কম রক্ত আসে তাহলে তার বর্জনকৃত ইবাদতগুলোর কাযা আদায় করতে হবে। (তাহরীর, পৃঃ ১, মাঃ ১৩)
২। যার নিদ্দিষ্ট ঋতুকাল নেই অপরদিকে রক্তের মধ্যে হায়েযের লক্ষণসমূহও দেখা যায় না (যার উচিত হল ৩ দিন যাবত এহতিয়অত করা) তার রক্ত আসা যদি তিনদিন ছাড়িয়ে যায় এবং দশদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকে তাহলে তিন দিন পর থেকে সে কেবল হায়েয ব্যক্তির করণীয়গুলো পালন করবে। মুস্তাহাযার করণীয় পালন করার কোন প্রয়োজন তার নেই। যদিও উত্তম হল এহতিয়াতকে বর্জন না করা। (তাহরীরুল উসীলা, খঃ ১, পৃঃ ৪৫, মাঃ ১৩)
৩। প্রশ্ন : কোন মহিলা যদি হায়েসের সময় এমন রক্ত দেখতে পায় যার মধ্যে হায়েযের লক্ষণসমূহ বিদ্যমান নেই। অতঃপর দুই ঘন্টা কিম্বা একদিন পরে তার রক্তে হায়েযের লক্ষণসমূহ দেখা দেয় এমতাবস্থায় তার প্রথম রক্তটি কি হায়েযের নাকি হায়েযের না?
উত্তর : যদি অবিচ্ছিন্ন ও সংযুক্ত হয়ে থাকে তাহলে হায়েয। (ইস্তিফতা)
সুত্রঃ আহকামে মুমিনাত বই থেকে সংগ্রহীত
