উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণকারী মু’মিনগণ, যেমন আপনারা, যাঁরা আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করেন এবং আল্লাহর পথে চেষ্টা-প্রচেষ্টারত অবস্থায় রয়েছেন, আপনারা যদি আপনাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন অব্যাহত রাখেন, অন্য সব মানুষের ন্যায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন তথা দৈনন্দিন কর্ম-ব্যস্ততার মধ্যে থাকেন আর আপনাদের পরিবার-পরিজন রয়েছে, সন্তানাদি আছে, বন্ধু ও আপনজন রয়েছে, শত্রুও রয়েছে; এ সব ক্ষেত্রে আপনি আল্লাহকে হাজির-নাজির মনে করেন তথা আল্লাহকে স্বরণে রেখে যাবতীয় কার্যক্রম ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কগুলো পরিচালনা করেন, এক্ষেত্রে আপনি সর্বদা সাবধানতা অবলম্বন করেন যাতে কোনো ধরনের আল্লাহর নাফরমানি না হয় এবং কোনো কার্যক্রমে যাতে আল্লাহর আদেশাবলির ব্যত্যয় না ঘটে; এগুলো হচ্ছে একজন মু’মিনের বৈশিষ্ট্য। একজন মু’মিন নিয়মিত নামায আদায় করে, রোযা পালন করে, যাকাত আদায় করে, জিহাদ করে, আমর বিল মারুফ তথা ন্যায় কাজের প্রতি উপদেশ ও নাহি আনিল মুনকার তথা অন্যায় কাজে বাধা দান করে এবং এমন আরও অসংখ্য ভাল ও উত্তম কাজ সম্পন্ন করে। অবশ্য কখনও কখনও ভুল-ভ্রান্তিও করে এবং ভুলের বশবর্তী হয়ে ছোট-খাটো মন্দ কাজেও জড়িয়ে পড়ে; মু’মিন ব্যক্তি কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে মন্দ ও খোদাদ্রোহী কাজে লিপ্ত হয় না, বরং ভুলবশত যদি কখনও এমন কাজে জড়িয়ে পড়ে তবে বুঝে উঠার সাথে সাথে তা থেকে বিরত থাকে ও অনুতপ্ত হয়। পক্ষান্তরে কাফির গোষ্ঠী, এ পার্থিব দুনিয়ার চাকচিক্যে মোহাচ্ছন্নরা, আমেরিকা ও সাম্জ্যরাবাদী অপশক্তিগুলো, পৃথিবীর জালিম সরকারগুলো, দ্বিমুখী মানসিকতার লোকেরা এবং অদূরদর্শী ও বিবেকহীন জনগোষ্ঠী যাদের সংখ্যা শত শত কোটির কাছাকাছি তারা শুধু নিজেদের পার্থিব স্বার্থ চরিতার্থের নিমিত্তে বিভোর রয়েছে অবশ্য তাদের অনেকেই অজ্ঞ, তারা জানে না তাদের করণীয় কী তাদেরও অভিন্ন বিষয়াদি রয়েছে তথা তাদের বন্ধু-বান্ধব, সন্তানাদি, স্ত্রী, ব্যবসা-বাণিজ্য, কাজকর্ম প্রভৃতি। কিন্তু তাদের এ সবকিছুই শুধু পার্থিব চাহিদা ও দুনিয়াবি স্বার্থ হাসিলের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে থাকে; ঐশ্বরিক ও পারলৌকিক কোনো উদ্দেশ্য তাদের মধ্যে নেই। আল্লাহর প্রতি তাদের কোনো বিশ্বাস নেই। তারা আল্লাহর সুবিচার, কিয়ামত, নবী-রাসূল, নবুয়্যত, হাশর ও বিচার দিবসের প্রতি বিশ্বাস পোষণ করে না। এ ধরনের লোকদের দু’টি শ্রেণি রয়েছে; প্রত্যেকটি নিজ নিজ পদ্ধতি ও মাপকাঠিতে কার্যক্রম পরিচালনা করে। অবশ্য এ দু’টি শ্রেণির মধ্যেও অনেক পরিধি ও সীমা-পরিসীমা রয়েছে। অর্থাৎ যেমন মু’মিন শ্রেণির মধ্যেও কিছু অংশ রয়েছে যারা শতভাগ মু’মিন ও ঈমানদার। আবার কিছু আছে যারা ঈমানের দিক থেকে দুর্বল। তাদের মধ্যেও কিছু আছে যারা তুলনামুলক আরও দুর্বল। এভাবে ঈমানের দিক থেকে সর্বনিম্ন স্তরের লোকও আছে। কাফিরদের শ্রেণিও অনুরূপ। তাদের মধ্যে এমন নিকৃষ্ট ব্যক্তি আছে যারা ঈমানদার ও ভাল মানুষদের হত্যা ও নিধন করে আল্লাহর আনুগত্যের পথকে রুদ্ধ করতে চায়; যেমন: বিশে^র পুঁজিবাদ ও তাগুত গোষ্ঠী, যেসব সরকারপ্রধান ও জাতিসমূহ আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার করে না এবং খোদাদ্রোহী আচরণ করে। আবার তাদের মধ্যে এমন লোক আছে যাদের মধ্যে ঈমানহীনতা, খোদাদ্রোহীতা ও বর্বরতার মাত্রা কিছুটা কম; আবার কারও কারও মধ্যে এমন নিকৃষ্ট বৈশিষ্ট্য তুলনামূলকভাবে আরও কম। এভাবে কাফিরদের মধ্যে একটি শ্রেণি আছে যারা বর্বর ও হিংস্র নয়; তাদের মূল দোষ হচ্ছে তারা আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করে না। তারা শুধু নিজেদের স্বার্থ ও ফায়দা হাসিল করতে চায়। এ শ্রেণির মধ্যেও অনুরূপ অবস্থা বিদ্যমান তথা নিকৃষ্টের সর্বনিম্ন অবস্থা থেকে তুলনামূলক কম নিকৃষ্ট লোক রয়েছে। কিন্তু যদি একটু বিশ্লেষণ করা হয় তাহলে দেখা যাবে যে, উক্ত দু’টি শ্রেণির সব লোকই স্ব স্ব পদ্ধতিতে কাজ করে থাকে এবং তারা প্রত্যেকেই ধারণা করে যে, তারা সফল ও লাভবান। একটি গোষ্ঠী ধারণা করে যে, ধন-সম্পদ ও পুঁজিবাদের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করেছে; যেমন: সমগ্র বাজারের নিয়ন্ত্রণ হাতের মুঠোয় নিয়ে নিয়েছি এবং সমস্ত ফায়দা হাসিল করেছি। আবার একটি গোষ্ঠী মনে করে ধন-সম্পদ না থাকায় তারা ভালই আছে; তারা কোনো ধরনের ঝুট-ঝামেলা ছাড়াই সুখে-শান্তিতে দিন অতিবাহিত করতে পারছে। তারা আরও মনে করে যে, মানুষ যখন ধন ও প্রাচুর্য ছাড়া জীবনযাপন করবে তখন ঝামেলামুক্ত থাকতে পারবে।
2
আগের পোস্ট
