ইমাম জাফর সাদিক (আ.)’র শাহাদাত উপলক্ষে খুলনায় কাসরে হোসাইনী ইমামবাড়ীতে শোক মজলিস

by Syed Yesin Mehedi

 ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (সোমবার), বাদ মাগরিব শোক মজলিসের সূচনা হয় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও মর্সিয়া পাঠ-এর মাধ্যমে|
মজলিসে ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহিম খলিল রাজাভী বক্তব্য রাখেন| তিনি বলেন, ইমামতের ধারার ষষ্ঠ ইমাম জাফর সাদিক (আ.) ১৪৮ হিজরিতে পবিত্র মদীনায় জন্মগ্রহণ করেন| তিনি ৩৪ বছর ইমামতের দায়িত্ব পালন করেন|
ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর পিতার নাম ছিল ইমাম মুহাম্মাদ আল বাকের (আ.) ও মাতার নাম ছিল হযরত ফারওয়া|
ইমামের কুনিয়া ছিল আবু আবদুল্লাহ| কোনো কোনো সূত্রে তাঁর কুনিয়া আবু ইসমাইল (যেহেতু তাঁর বড় ছেলের নাম ছিল ইসমাইল) ও আবু মূসা (তাঁর জীবিত পুত্র মূসা কাযিম) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে|
ইমাম জাফর সাদিক যেই ইজতেহাদের শিক্ষা দিয়েছেন সেটা আজও চলমান ও জীবিত|
ইমামের ইজতেহাদ ও শিক্ষার মধ্যে হারাম ও হালালের সুস্পষ্ট ধারাবাহিক বিষয়গুলো চিহ্নিত ও তালিকাভূক্ত হয়েছে যা রাসুলের শরীয়তের ভিত্তিতে নির্ধারিত| ইমামের ফিকাহ ও শিক্ষা কোরআন এবং হাদিসের আলোকে সকল যুগোপযোগী শরয়ী এবং সামাজিক সমস্যার সমাধান দিয়েছে| ইমামের ইজতেহাদ ও শিক্ষার কারণেই মানুষ রাসুলের সঠিক দ্বীন সম্পর্কে জানতে পেরেছেন এবং যারা ইমামের সম্পৃক্ততা থেকে দূরে সরে গিয়েছেন তারা যুগে যুগে পথভ্রষ্টতা ছাড়া কিছুই চায়নি|
উমাইয়্যাদের দুর্বলতার কারণে ইমাম জাফর সাদিক (আ.) শিক্ষাদান ও সামাজিক কর্মকাণ্ড করার জন্য অপেক্ষাকৃত অধিক সুযোগ লাভ করেন| ইমামদের সময়ে এমনি খুবই দুর্লভ বিষয় ছিল| আর তাই আহলে বাইতের অধিকাংশ হাদিস ইমাম জাফর সাদিক (আ.) হতে বর্ণিত হয়েছে|
শেইখ সাদুক আবু বাসির থেকে রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি ইমাম জাফর সাদিক (আ.)’এর স্ত্রী উম্মে হুমাইদা’র সমীপে তাঁকে সান্তনা প্রদানের জন্য উপস্থিত হই| তখন তিনি আমাকে বলেন: হে আবু মোহাম্মাদ যদি তুমি ইমাম (আ.)কে মৃত্যুবরণকালিন সময়ে দেখতে তাহলে তুমি বুঝতে যে তার কিরূপ অবস্থা হয়েছিল| একবার তিনি চোখ মেলে বলেন আমার সকল আত্মিয় ¯^জনকে আমার কাছে আসতে বল| সুতরাং আমি তাঁর সকল আত্মিয় ¯^জনকে তার কাছে একত্রিত করি| অতঃপর তিনি সকলের দিকে একবার দৃষ্টি ফিরিয়ে বলেন যারা নামাজকে গুরুত্ব সহকারে আদায় করবে না আমি তাদেরকে শাফাআত করবো না|
আব্বাসিয় খলিফা মনসুর দাওয়ানেকি ইমাম জাফর সাদিক (আ.)কে হত্যা করার জন্য মদিনা থেকে ইরাকে পাঁচ বার জোরপূর্বক তলব করে কিন্তু বিভিন্ন কারণে আর তাঁকে হত্যা করতে পারেনি|
ইমাম জাফর সাদিক (আ.)’র শাহাদতের পিছনে যে খলিফা মনসুরের ষড়যন্ত্র ছিল এতে কোন সন্দেহ নেই| কেননা সে বিভিন্ন সময়ে বলতো যে, জাফর সাদিক (আ.) হচ্ছেন তার গলায় বিধে থাকা হাড়ের ন্যায়| অবশেষে খলিফা মনসুর মদিনার গভর্ণরকে নির্দেশ দান করে যে, সে যেন ইমাম (আ.)কে বিষ দ্বারা হত্যা করে| আর তাই সে ইমাম (আ.)কে বিষাক্ত আঙ্গুর খাওয়ায় যার কারণে তিনি শাহাদত বরণ করেন| মাসউদি বলেন যে, তার শাহাদতের পরে তাঁকে তাঁর পূর্বপুরুষদের কবরের পাশে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়|
ইমাম জাফর সাদেক (আ.)-এর তাবুত খুলনা কাসরে হোসাইনী ইমামবাড়ীর সামনে কয়েকবার প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইমামবাড়ীতে প্রবেশ করে| এই শোকসভার আয়োজনে মুসলমানদের ¯^ত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইমাম জাফর সাদেক (আ.)-এর আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও মানবতার বার্তার প্রতি তাঁদের ভালোবাসার বহি:প্রকাশ| মজলিসের শেষে জিয়ারত, দোয়া ইমামে জামান (আ.) এবং তাবারুক বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে|

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔