অর্থাৎ আল্লাহ পরকালে তাদের এমন বেহেশতে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে সৌন্দর্যমণ্ডিত নদীসমূহ প্রবাহিত থাকবে| শুধু তাই নয়, বরং এ ˆবশিষ্ট্যের লোকদেরকে আল্লাহ তায়ালা স্থায়ীভাবে বেহেশতে বসবাসেরও ব্যবস্থা করবেন, কুরআনের ভাষায়- ‘পবিত্র গৃহসমূহে চিরস্থায়ী বেহেশতসমূহের মধ্যে|’ অর্থাৎ পরকালে তাদের আবাসস্থল হবে চিরস্থায়ী বেহেশতের পবিত্র গৃহসমূহে| হযরত আল্লামা তাবাতাবায়ী ¯ তাফসীর গ্রন্থ আল মীযানে এ আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তার পুরস্কার হিসেবে চিরস্থায়ী বেহেশত দান করবেন| এমন বেহেশত যেখানে কোন ধরনের খুঁত ও সমস্যার লেশমাত্র নেই এবং সেখানে শুধুমাত্র তাদেরই আবাস হবে যাদের সমস্ত গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন| সুতরাং ‘তিনি তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন’ আয়াতের এ অংশের অর্থ হচ্ছে আল্লাহ মানুষের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করবেন এবং এর পর আলোচ্য আয়াতের শেষাংশে বলা হচ্ছে- এটাই মহাসাফল্য| অর্থাৎ মানুষের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করার পর তাকে এমন বেহেশতে প্রবেশ করানো তার জন্য সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে গণ্য| সফলতা অনেক ধরনের আছে| পৃথিবীতে মানুষ একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে সে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যায়; যখন সে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তখন বলা হয় যে, সে সফলতা অর্জন করেছে| উদাহরণ¯স্বরুপ, কেউ ধন-সম্পদ অর্জন করতে চায়, কেউ পদ মর্যাদার দিকে ধাবিত হয়, কেউ ক্ষমতা লাভ করতে চায়, কেউ খ্যাতি অর্জন করতে চায় অথবা কেউ তুলনামূলক ছোট কিছু অর্জন করতে চায়| আবার কেউ নিজের নিত্যদিনের আহারের পিছনে ছুটে চলে যাতে তার ক্ষুধা নিবারণ করতে পারে| এ পৃথিবীতে সবাই স্ব স্ব লক্ষ্যের দিকে ছুটে চলেছে; কারও লক্ষ্য ক্ষুদ্র আবার কারও লক্ষ্য বিস্তৃত ও মহৎ| এগুলোর কোনটি শতভাগ পার্থিব ও বস্তুগত, আবার কারও লক্ষ্য এত নগণ্য নয় যে, তা শুধু পার্থিব বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বরং তা পার্থিব ও অপার্থিব (আধ্যাত্মিক) বিষয়ের মধ্যে মিশ্রিত; যেমন- ইলম বা জ্ঞান| জ্ঞানের মধ্যে যেমন পার্থিব বিষয় রয়েছে তেমনভাবে এর মধ্যে অপার্থিব বিষয়ও বিদ্যমান| মনে করুন, কেউ কেউ এ পৃথিবীতে কৃচ্ছসাধনা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের চর্চা করে, তারা শরয়ী (শরিয়তসম্মত) কৃচ্ছসাধনা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের চর্চায় নিজেদের ব্রত করার মাধ্যমে উচ্চ আধ্যাত্মিক মাকাম ও পর্যায়ে পৌঁছান| চূড়ান্ত পরিণতিতে প্রত্যেকেরই কোন না কোন সাফল্যের প্রতি লক্ষ্য ও দৃষ্টি রয়েছে যাতে উপনীত হওয়ার জন্য সে সব ধরনের চেষ্টা-প্রচেষ্টা ও সাধনা অব্যাহত রাখে| আর এটা কি সঠিক যে, যখন সে উক্ত লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তখন সে সফল হয়েছে? কিন্তু সব সফলতার শীর্ষে এক বিশেষ সফলতা রয়েছে; যে সাফল্যের কাছে অন্য যে কোন সাফল্য ঐচ্ছিক ও তুলনামূলক কম গুরুত্ব হিসেবে বিবেচিত| আর সে সাফল্য হচ্ছে এটাই যে, যদি কোন মানুষ আল্লাহর দরবারে ¯ গুনাহসমূহ ক্ষমা করিয়ে নিতে পারে এবং বেহেশতে ¯ স্থায়ী আবাসের নিশ্চয়তা লাভে সক্ষম হয়| এমন সাফল্য হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম সাফল্য; যা কেবলমাত্র মহান আল্লাহর পথে জিহাদ এবং জান (প্রাণ) ও মাল (ধন-সম্পদ) উৎসর্গ করার মাধ্যমে অর্জিত হয়| তাই তো কুরআনে বলা হয়েছে, এটাই মহাসাফল্য|
12
