ইমাম মাহদী (আ.) -এর অন্তর্ধান সম্পর্কিত কিছু রেওয়ায়াত

আমাদের ঐ সকল শিয়ারা সৌভাগ্যবান যারা ইমাম মাহদী (আ.)-এর অদৃশ্যকালে আমাদের ইমামতের প্রতি অবিচল থাকবে এবং আমাদের বন্ধুদেরকে ভালবাসবে আর আমাদের শত্রুদের সাথে শত্রুতা পোষণ করবে। আল্লাহর শপথ! তারা কিয়ামতের দিন আমাদের সাথেই থাকবে।
শেখ সাদুক তার কামালুদ্দিন গ্রন্থে ইমাম মুসা কাজিম (আ.) থেকে ইমাম মাহদী (আ.) -এর অন্তর্ধান সম্পর্কে ৬টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাদিসটি হচ্ছে হিশাম ইবনে হাকাম ইমাম কাজিম (আ.) থেকে যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন; যথা:
১। আলী ইবনে জাফর ইমাম মুসা কাজিম (আ.) থেকে বর্ণনা করেছেন: সপ্তম ইমামের পঞ্চম বংশধর যখন গাইবাতে বা অদৃশ্যে থাকবে তখন তোমরা তোমাদের দ্বীনের প্রতি সতর্ক থেকো এবং কেউ যেন তোমাদের দ্বীনকে নষ্ট না করতে পারে। হে আমার সন্তানরা! যুগের ইমামকে বাধ্যতামূলক অদৃশ্যে থাকতে হবে। তখন তোমরা যেন অধৈর্য হয়ে পড়বে না। কেননা এর চেয়ে উত্তম ধর্ম আর নেই। কেননা তোমার বাবারা যদি এর চেয়ে উত্তম ধর্ম খুঁজে পেতেন তাহলে সেই ধর্মই গ্রহণ করতেন। আমি বললাম: হে আমার মাওলা, সপ্তম ইমামের পঞ্চম বংশধর কে? ইমাম বললেন: হে আমার সন্তানরা, তোমাদের বুদ্ধিমত্তা তা বুঝতে অক্ষম এবং তোমাদের চিন্তা তাকে অনুধাবন করতে পারবে না, কিন্তু যদি থাক তাহলে তাকে দেখতে পাবে।
২। আব্বাস ইবনে আমের কাসবানী বলেন: ইমাম মুসা কাজিম (আ.)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলতেন: ইমাম মাহদী (আ.) এখনো জন্মগ্রহণ করেন নি।
৩। আলী ইবনে জাফর বলেন: ইমাম মুসা কাজিম (আ.)-কে বললাম: মহান আল্লাহ এই আয়াতে কি বলতে চাচ্ছেন:
قُلْ أَرَأَیْتُمْ إِنْ أَصْبَحَ ماؤُکُمْ غَوْراً فَمَنْ یَأْتِیکُمْ بِماءٍ مَعِین
ইমাম বললেন: যখন তোমাদের ইমাম গাইবাতে থাকবে এবং তাকে তোমরা দেখতে পাবে না তখন তোমরা কি করবে?
৪। দাউদ ইবনে কাছির রাক্কি বলেন: ইমাম মুসা কাজিম (আ.)-এর কাছে প্রশ্ন করলাম, সাহেবুল আমর বা জামানার ইমাম (আ.) কে? তিনি বলেন: তিনি হচ্ছেন একা, তিনি অদৃশ্যে থাকবেন এবং তিনি তার পিতামহের (ইমাম হুসাইন (আ.) -এর) শত্রুর প্রতিশোধ নিবেন।
৫। ইউনুস ইবনে আব্দুর রহমান বলেন: একদা আমি ইমাম মুসা কাজিম (আ.)-এর খেদমতে পৌঁছে বললাম: হে আল্লাহর রাসূলের সন্তান আপনি কি কায়েমে আলে মোহাম্মাদ? ইমাম জবাবে বললেন: আমিও কায়েমে আলে মোহাম্মাদ কিন্তু যিনি বিশ্বকে সব ধরনের অন্যায় থেকে মুক্ত করে শান্তিতে পরিপূর্ণ করবেন তিনি হচ্ছেন আমার পঞ্চম বংশধর তথা ইমাম মাহদী (আ.)। তিনি দীর্ঘ অন্তর্ধানে থাকবেন তখন অনেকেই পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে আবার অনেকেই সত্য পথে অবিচল থাকবে।
অত:পর বলেন: আমাদের ঐ সকল শিয়ারা সৌভাগ্যবান যারা ইমাম মাহদী (আ.)-এর অদৃশ্যকালে আমাদের ইমামতের প্রতি অবিচল থাকবে এবং আমাদের বন্ধুদেরকে ভালবাসবে আর আমাদের শত্রুদের সাথে শত্রুতা পোষণ করবে। আল্লাহর শপথ! তারা কিয়ামতের দিন আমাদের সাথেই থাকবে।
৬। মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ আযদী বলেন: আমি ইমাম মুসা কাজিম (আ.)-এর কাছে এই আয়াতের তাফসীর সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম: وَ أَسْبَغَ عَلَیْکُمْ نِعَمَهُ ظاهِرَةً وَ باطِنَةً
ইমাম (আ.) বললেন: জাহেরি বা প্রকাশ্য নেয়ামত হচ্ছে ইমামের উপস্থিতি আর বাতেনি বা অপ্রকাশ্য নেয়ামত হচ্ছে ইমামের অদৃশ্য অবস্থা। আমি আবার জানতে চাইলাম ইমামদের মধ্যে কি কেউ আছে যিনি অদৃশ্যে থাকবেন? ইমাম বললেন: হ্যাঁ তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকবেন কিন্তু তার স্মরণ সর্বদা জনগণের সাথেই থাকবে আর তিনি হচ্ছেন দ্বাদশ ইমাম হযরত মাহদী (আ.)। মহান আল্লাহ তার জন্য সকল কঠিনকে সহজ করে দিবেন, সকল অসাধ্যকে সাধ্য করে দিবেন, সকল দূরত্বকে নিকটবর্তী করবেন এবং তার মাধ্যমে সকল জালিমও অত্যাচারীদেরকে ধ্বংস করবেন। মহান আল্লাহ তার মাধ্যমে সকল অবাধ্য শয়তানকে ধ্বংস করবেন, তিনি হচ্ছেন খাতুনে জান্নাত হযরত মা ফাতিমা (আ.)-এর সন্তান। তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকবেন এবং তার অদৃশ্য থাকা অবস্থায় তার নাম উচ্চারণ করা ঠিক নয়। পৃথিবী অন্যায় অবিচারে ভরে যাওয়ার পর মহান আল্লাহ তার মাধ্যমে দুনিয়াকে ন্যায় নীতিতে পরিপূর্ণ করবেন।
শেখ সাদুক (রহ.) বলেন: আমি এই হাদিসটি শুধুমাত্র আহমাদ ইবনে যিয়াদ ইবনে জাফর হামাদানীর কাছ থেকে শুনেছি। যখন আমরা হজ্জ থেকে ফিরে আসছিলাম তখন তার কাছে আমি এই হাদিসটি শুনেছিলাম

Related posts

প্রতিবেশীর অধিকার: সামাজিক সম্প্রীতি

পরোপকার ও সহমর্মিতা: মানবিকতার মূল ভিত্তি ও ঈমানের দাবি

নম্রতা ও বিনয়: আত্মিক প্রশান্তির চাবিকাঠি

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More