ইমাম হাদির (আ.) শৈশবের একটি ঘটনা রয়েছে। মোতাসেম যখন ২১৮ হিজরিতে ইমাম জাওয়াদকে মদীনা থেকে বাগদাদ নিয়ে আসে, ইমাম হাদি তখন ৬ বছরের ছিলেন এবং পরিবারের সাথে তিনি মদীনায় থেকে যান। ইমাম জাওয়াদকে বাগদাদে আনার পর মোতাসেম ইমামের পরিবার সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারে যে, ইমামের ৬ বছরের একটি ছেলে আছে যার নাম আলী ইবনে মুহাম্মাদ। মোতাসেম তার এক নিকটের লোককে নির্দেশ দিল তুমি মদীনায় গিয়ে ইমাম হাদিকে আহলে বাইতের কোন এক শত্রুর হাতে তুলে দিয়ে আসবে। যাতে সেই ব্যক্তি ইমাম হাদিকে আহলে বাইতের শত্রু এবং আব্বাসীয় খলিফার ভক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। সে মদীনায় গিয়ে আব্বাসীয়দের ভক্ত আহলে বাইতের চরম শত্রু এক লোককে পেল যার নাম ছিল আল জুনাইদি। খলিফার চর জুনাইদিকে বলল: আমি এই শিশুকে তোমার কাছে রেখে যাচ্ছি তুমি কাউকে তার সাথে দেখা করতে দেবে না এবং তাকে আমরা যেভাবে বলব সেভাবে শিক্ষা দেবে। জুনাইদি নামের এই ব্যক্তি ইতিহাসে পরিচিত এক কুখ্যাত নাম। ইমাম হাদি তখন মাত্র ৬ বছর বয়সের হলেও খলিফার আদেশ অমান্য করার কোন উপায় কারও ছিল না।
কিছুদির পর খলিফার লোকেরা জুনাইদিকে দেখল এবং প্রশ্ন করল কি খবর তোমার কাছে যে শিশুটিকে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য পাঠালাম তা কেমন চলছে। সে বলল: বাচ্চা? তাকে কি বাচ্চা বলা যায়? আমি তাকে একটি শিক্ষা দিলে সে আমাকে হাজারটা শিক্ষা দেয়, যা আমি কখনোই জানতাম না। এরা কোথায় লেখাপড়া করে শিক্ষা গ্রহণ করেছে? তার কক্ষে প্রবেশ করতে চাইলে আমি তাকে বলি, তুমি একটি বড় সূরা পড়ে কক্ষে প্রবেশ কর। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেন, কি সূরা পড়ব? আমি বলি, এই ধর সূরা আলে ইমরান। তিনি সম্পূর্ণ সূরা পাঠ করার পর তার জটিল বিষয়সমূহ আমার জন্য ব্যাখ্যা ও তাফসীর করেন। তাঁরা অনেক বড় আলেম, কুরআনের হাফেজ এবং কুরআনের তাভিল ও তাফসীর জানেন। এই শিশু বাহ্যিকভাবে শিশু হলেও তিনি একজন আল্লাহর অলি। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:
আমরা তাকে শিশুকালে হিকমত তথা প্রজ্ঞা দান করেছি। ( মারিয়াম- ১২ )
এভাবে আরও কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর সেই আহলে বাইতের দুশমন একজন নিবেদিত শিয়াতে পরিণত হয়ে যায়।
ফজর/ ইয়াসিন