যে সব কারণে রিজিক বৃদ্ধি পায়

 

1️⃣ তাকওয়া বা খোদা ভীরুতা
নৈতিক গুণাবলীর মধ্যে তাকওয়াকে একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসাবে বিবেচনা করা হয় যা একজন মানুষকে উচ্চ আধ্যাত্মিকতার স্তরে পৌঁছে দেয়। তাকওয়ার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল রিযিক বৃদ্ধি করে।
রিযিক বৃদ্ধিতে তাকওয়ার প্রভাব সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে:
ۙ وَمَنۡ يَّـتَّـقِ اللّٰهَ يَجۡعَلْ لَّهٗ مَخۡرَجًا ۙ‏ ٢ وَّيَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَيۡثُ لَا يَحۡتَسِبُ ؕ
যে কেউ আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য (সমস্যা থেকে উদ্ধার পাওয়ার) কোন না কোন পথ বের করে দিবেন। আর তাকে রিযক দিবেন (এমন উৎস) থেকে যা সে ধারণাও করতে পারে না।
(সুরা তালাক ২-৩ নম্বর আয়াত।)

2️⃣ দান করা
পবিত্র কোরআনে অনেক ক্ষেত্রেই “রিযিক” শব্দটি “أَنْفِقُوا” বা “أَنْفَقُو” শব্দের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে এবং রিযিক বৃদ্ধিতে দান করার দুর্দান্ত প্রভাব রয়েছে। যে ব্যক্তি সর্বশক্তিমান আল্লাহর পথে কিছু ব্যয় করে সে আসলে তার নাফসের উপর বিজয় লাভ করেছে ।
আর নাফসের উপর বিজয় লাভ করা আধ্যাত্মিকতার উচ্চস্তরে পৌঁছানোর একটি অন্যতম উপায়।
পবিত্র কুরআনে রিযিক বৃদ্ধিতে দানের প্রভাব সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ
قُلْ‏ إِنَ‏ رَبِّی‏ یَبْسُطُ الرِّزْقَ‏ لِمَنْ‏ یَشاءُ مِنْ عِبادِهِ وَ یَقْدِرُ لَهُ وَ ما أَنْفَقْتُمْ مِنْ شَیْ‏ءٍ فَهُوَ یُخْلِفُهُ وَ هُوَ خَیْرُ الرَّازِقین
আপনি বলে দিনঃ আমার পালনকর্তা যাকে ইচ্ছা তার রিজিককে প্রশস্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা তার রিজিককে সংকীর্ণ করে দেন। এবং [তাঁর পথে] যা কিছু ব্যয় করবে, তিনি তা প্রদান করেন [তদাস্থান পূরণ করে দেন]; এবং তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা!
(সুরা সাবা ৩৯ নম্বর আয়াত)
3️⃣ পরিবারের সাথে উত্তম আচরণ
পরিবারের সাথে উত্তম আচরণ হলো একটি সুন্দর গুণ যা ইমামদের (আঃ) সকলের মধ্যেই এই সুন্দর আচরণের গুণটি ছিল। মাসুমগন (আঃ) থেকে প্রাপ্ত রেওয়ায়েত অনুসারে, এই উত্তম আচরণ মুলক বৈশিষ্ট্যটি রিজিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি অন্যতম কারণ হিসাবে বিবেচনা করেছেন ।
জীবিকা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উত্তম আচরণের প্রভাব সম্পর্কে
ইমাম সাদিক (আ.) বলেন:

(যে ব্যক্তি তার পরিবারের প্রতি উত্তম বা অধিক সদ্ব্যবহার করবে, তার রিজিক বা জীবিকা বৃদ্ধি পাবে)
(বিহারুল আনোয়ার ৭১তম খণ্ড, ১০৪ নম্বর পৃষ্ঠা।)

4️⃣ ইস্তেগফার বা পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা
গুনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করা ও অনুতাপ্ত হওয়া এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলী যার প্রতি কুরআন ও হাদিসহ ধর্মীয় সূত্রে আলোচনা করা হয়েছে এবং এর প্রয়োজনীয়তা ও রিজিক ত্বরান্বিত হওয়াও বুদ্ধিবৃত্তিক দিকনির্দেশনার বিষয় বলে হযরত আলী (আ.) বলেছেনঃ
الِاسْتِغْفَارُ یَزِیدُ فِی‏ الرِّزْق
তোমরা সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর ইসস্তেফারের দ্বারা ক্ষমা করা কর এবং রিজিক বৃদ্ধি কর।।

Related posts

ইসলামি শিষ্টাচার: ছোটদের স্নেহ ও বড়দের প্রতি সম্মান

ইমাম রেযা’র (আ.) জ্ঞানপূর্ণ ব্যক্তিত্ব

প্রতিবেশীর অধিকার: সামাজিক সম্প্রীতি

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More