ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা অপশক্তির ঘৃণ্য সামরিক আগ্রাসনের পরিকল্পনা এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী, খুলনা-এর উদ্যোগে ৩১শে জানুয়ারী ২০২৬ইং সকাল ১১ ঘটিকায় খুলনা পিকচার প্যালেস মোড়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদসভার আয়োজন করা হয়। এই মানববন্ধনে আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী সহ ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র, জামিয়্যাতে মুহিব্বীনে আহলে বায়েত বাংলাদেশ এবং সম্মিলিত ওলামায়ে কেরাম, খুলনা, বাংলাদেশ-এর বিপুল সংখক সাধারণ মানুষ ও আলেম ওলামা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী সভাপতি হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলীল রাজাভী। তিনি বলেন, আমরা হকের পক্ষে এবং বাতিলের বিপক্ষে রয়েছি। যদি হকের পক্ষে আমরা জীবন উৎসর্গ করতে চাই তাহলে আমরা জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত আছি। তিনি আরও বলেন, ইসলামী বিপ্লবের নেতা ইমাম খোমেনি (রহ.) বলেছেন, আমাদের এই বিপ্লব মাজলুমের পক্ষে এবং জালিমের বিপক্ষে অবস্থান নিবে। ইরানের প্রতি মার্কিন আগ্রাসন শুধুমাত্র মানবাধিকার লঙ্ঘন না বরং এটি পুরো পৃথিবীকেই হুমকির মুখে ফেলেছে। আমেরিকা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সঙ্কট তথা নয়া-উপনিবেশ সৃষ্টি করার মাধ্যমে সারা দুনিয়াকে শোষণ করে যাচ্ছে। এমন বর্বরোচিত ঘটনার পরেও জাতিসংঘ সহ বিশ্বমানবতার ফেরিওয়ালারা নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে।
সভায় বক্তারা যুদ্ধ-অবরোধ ও হুমকির রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন বন্ধ ও বিশ্বের জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানান। এছাড়া মানববন্ধন থেকে আরো বক্তব্য রাখেন, সম্মিলিত ওলামা কেরামের সভাপতি আলহাজ্ব মাও. ইব্রাহীম ফায়জুল্লাহ, তালিমুল মিল্লাত রাহমাতিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাও. নাজমুস সউদ, খান বাহাদুর আহসানুল্লাহ কলেজের সাবেক অধ্যাপক মাও. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবি এ্যাড. রুহুল আমিন সিদ্দিকী, হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ রেজা আলী যায়দী, হুজ্জাতুল ইসলাম ড. এম.এ. কাইউম, হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন প্রমুখ
সম্মিলিত ওলামা কেরামের সভাপতি আলহাজ্ব মাও. ইব্রাহীম ফায়জুল্লাহ সাহেব তার আলোচনায় বলেন, জালেম এবং ষড়যন্ত্রকারী প্রেতাত্মা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমি জাতিসংঘের কোন আইন-ই মানি না। আমি যেটা করবো সেটাই আইন। সেই আমেরিকা ইসলামের গৌরব ঐতিহ্য ইরানের উপর হাত বাড়িয়েছে ইরানকে ধ্বংস করার জন্য যে ইরান মজলুম ফিলিস্তিনের পাশে সর্বদায় সহযোগিতা করে আসছে।
তালিমুল মিল্লাত রাহমাতিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাও. নাজমুস সউদ,তার আলোচনায় বলেন,আমেরিকা ও ইসরাইল অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সঙ্কট তথা নয়া উপনিবেশ সৃষ্টি করার মাধ্যমে সারা দুনিয়া মুসলিম জাতিকে শোষণ করে যাচ্ছে। এমন বর্বরোচিত ঘটনার পরও জাতিসংঘসহ বিশ্বমানবতা নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে। ইরানের অপরাধ তারা মজলুমের পাশে সর্বদায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় সেটা আমেরিকা-ইসরাইল মেনে নিতে পারে না।
খান বাহাদুর আহসানুল্লাহ কলেজের সাবেক অধ্যাপক মাও. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী,বলেন – বিশ্বের শয়তান আমেরিকা ইরানের চারপাশে আব্রাহাম লিংকন জাহাজ পাঠিয়েছে কিন্তু ইরান মাথানত করে নাই এবং করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে।
সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবি এ্যাড. রুহুল আমিন সিদ্দিকী,তার আলোচনায় , বলেন শাহ এর সন্তান পাহলভী আমেরিকায় বসে ইরানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। সেই ইরানকে ধ্বংস করার জন্য মার্কিন সরকার আবরাহাম লিংকন জাহাজ নিয়ে ওমান সাগরে পৌছায়।
হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ রেজা আলী যায়দী বলেন, আমেরিকা এবং ইহুদীবাদীরা লক্ষ লক্ষ ডলার খরচ করে ইরানের অভ্যান্তরে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। ইরানের প্রতি মার্কিন আগ্রাসন শুধুমাত্র মানবাধিকার লঙ্ঘন না বরং এটা পুরো পৃথিবীকেই হুমকির মুখে ফেলেছে।
হুজ্জাতুল ইসলাম ড. এম.এ. কাইউম তার আলোচনায় বলেন, বলেন, ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতীক হিসেবে যদি দেখানো হয়ে থাকে তাহলে একমাত্র ইরান রয়েছে। সেখানে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় বসে আছেন সৈয়দ আলী খামেনী (হা.)। তিনি একজন বড় মারজায়ে তাকলিদ। তিনি অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে ন্যায়-অন্যায়ের ব্যাপারে নিরীক্ষণ করেন। বিশ্বের দালাল আমেরিকা তার নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য মধ্যপ্রাচ্য তেল সমৃদ্ধ অঞ্চল বা দেশকে দখল করে তেল সম্পদকে লুটে নেওয়া তার উদ্দেশ্য।
হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুগের ফেরাউন। আমেরিকা-ইসরাইল যে জালেম সেকথা সবাই বিশ্বাস করে। ইসলামী দেশসমূহ তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস পায় না। একমাত্র ইরানী জাতি আমেরিকা-ইসরাইলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানীর সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল।