সূরা সাফফের তাফসীর

নবী-রাসূলগণ (আ.) তাঁদের ঈপ্সিত লক্ষ্যে চূড়ান্ত বিজয়ী
এ যাবত আমরা সে সব আয়াতের তাফসীর নিয়ে আলোচনা করলাম, যে সব আয়াত ঐ সব লোকদের প্রতি ইশারা করে যারা রাসূলের (সা.) রেসালতকে অস্বীকার এবং ইসলামের প্রতি দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করেছিল। এছাড়া মহানবী (সা.) যে সব নিদর্শনের মাধ্যমে তাদেরকে ইসলামের পথে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তারা সেগুলোকে ‘যাদু’ হিসেবে অখ্যায়িত করে এবং সেগুলোকে আল্লাহর হেদায়েতের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। এখন আমরা অপর দু’টি আয়াতের তাফসীর তুলে ধরব, যে আয়াত দু’টিও অনুরূপ লোকদের সম্পর্কে বর্ণিত এবং তাদের কৃতকর্মের উপযুক্ত জবাব দেয়া হয়েছে। সর্বশক্তিমান আল্লাহ এ আয়াতে অকাট্যভাবে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তাদের সমস্ত চক্রান্ত নস্যাত হয়ে যাবে। তারা আল্লাহর বিধান ও ইসলামকে কোনঠাসা ও বাধাগ্রস্ত করতে যতই চেষ্টা করুক না কেন তা কখনও সফলতার মুখ দেখবে না। কেননা আল্লাহ তায়ালা সত্য ধর্মকে ইতিহাসের ধারানুযায়ী ও সৃষ্টিজগতের চিরাচরিত নিয়মানুযায়ী সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন। আমরা এ বিষয়টি ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় প্রত্যক্ষ করেছি। নবুয়্যতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে প্রশ্নাবলি উত্থাপিত হয় তা হচ্ছে- নবী-রাসূলগণ (আ.) শাশ্বত ও ইসলামি সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের হেদায়েত ও দিকনির্দেশনার মিশনে কি সফল হবেন? নবী-রাসূলগণ (আ.) তাঁদের নবুয়্যতের ধারাবাহিকতায় অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন কিনা? আল্লাহর বিধান চূড়ান্ত বিজয় লাভ করবে কিনা? নবুয়্যত প্রসঙ্গে এ আলোচ্য বিষয়গুলো উত্থাপিত হয়। যখন আমরা এ বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা ও বিশ্লেষণ করি, তখন এমন ফলাফলে পৌঁছায় যে, সৃষ্টিজগতের নিয়মসিদ্ধ প্রথা এবং নবী-রাসূলগণের (আ.) নবুয়্যতি মিশন, আসমানি কিতাব ও মানব জাতির ঈমান আনয়ন প্রভৃতি পরিশেষে -নির্দিষ্ট ও উপযুক্ত সময়ে- নির্ঘাত নবুয়্যতের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়িত হবে। অবশ্য ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় মানব জাতিকে উক্ত ঈপ্সিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে যে উপযুক্ত পরিবেশ ও প্রেক্ষাপটের প্রয়োজন তা পুরোপুরি বন্দোবস্ত না হওয়াতে সে লক্ষ্য বাস্তবায়ন কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে। কিন্তু উপযুক্ত সময়ে তা বাস্তবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত ও অবশ্যম্ভাবী। হয়তো কখনও দ্রুততার সাথে সে ঈপ্সিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে, আবার কখনও তা বিলম্বিতও হতে পারে। কিন্তু সে মিশন কখনও ব্যর্থ হবে না। নবী-রাসূলগণের (আ.) মিশন এমনই। এমনটি আদৌ সম্ভব নয় যে, রেসালতের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এ সৃষ্টি জগত ও মানবেতিহাসে বাস্তবায়ন ঘটবে না। আর এটা নবুয়্যত ও রেসালতের অন্যতম শিক্ষা। এ কারণে আপনারা লক্ষ্য করবেন যে, প্রত্যেক আসমানি ধর্মের আকিদার মধ্যে একটি প্রতিশ্রুত ভবিষ্যতের প্রতি বিশ্বাস রয়েছে। আমদের ধর্ম পবিত্র ইসলামেও প্রতিশ্রুত যুগ, আখিরুজ্জামান (শেষ জামানা) এবং প্রতিশ্রুত ইমাম মাহদীর (আ.) যুগের প্রতি বিশ্বাস রয়েছে। অনুরূপভাবে সব ধর্ম ও মতাদর্শের মধ্যেই এমন আকিদা বিদ্যমান। এটা সেই প্রতিশ্রুত যুগ যে যুগে নবী-রাসূলগণ (আ.) তাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পোঁছান। সুতরাং মুনাফিক, ধর্ম বিদ্বেষী ও খোদাদ্রোহীরা নবী-রাসূলগণের (আ.) সাথে যতই শত্রুতা ও বিরোধিতা করুক না কেন তা কোন কাজে আসবে না। তারা কখনও নিজেদের ফুৎকারে আল্লাহ কর্তৃক প্রজ্বলিত হেদায়েতের আলোকে নিভাতে পারবে না। অনুরূপভাবে তারা যতই চেষ্টা ও সাধনা করুক না কেন নবী-রাসূলগণের (আ.) লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে -যা মূলত স্বয়ং আল্লাহর ইচ্ছা- কখনও ব্যর্থ করতে সক্ষম নয়।

Related posts

সূরা সাফফের তাফসীর

সূরা সাফফের তাফসীর

সূরা সাফফের তাফসীর

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More