উদারতা

উদারতা হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রকৃতির একটি অংশ এবং বিশ্বাসের খুঁটি। একজন ব্যক্তি বিশ্বাসী হতে পারে না যদি না সে উদার হয়। অবশ্যই আরো যা থাকতে হবে তা হলো নিশ্চিত বিশ্বাস (ইয়াক্বীন) এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা (হিম্মাহ) , কারণ উদারতা হলো ইয়াক্বীন-এর একটি রশ্মি। প্রচেষ্টা তার জন্য সহজ যে তার উদ্দেশ্য জানে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ‘‘ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বন্ধু প্রকৃতিগতভাবেই উদার। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে প্রিয় প্রত্যেক ব্যক্তিকে উদারতা দান করা হয়েছে যাদের এ পৃথিবী থেকে সামান্য আছে । উদারতার একটি নিদর্শন হচ্ছে এ পৃথিবীর সম্পদ এবং কে এর মালিক , বিশ্বাসী অথবা অবিশ্বাসী , অনুগত অথবা বিদ্রোহী এবং উচ্চ মর্যাদার বা নিম্ন শ্রেণীর এসব সম্পর্কে আগ্রহের অভাব। উদার ব্যক্তি অন্যদের খাওয়ায় যখন সে নিজে ক্ষুধার্ত থাকে , সে অন্যদের পোষাক দান করে যখন সে নিজে খালি গা থাকে , সে অন্যদের দেয় অথচ সে অন্যদের থেকে উপহার নিতে অস্বীকার করে। সে এর মাধ্যমে উপকৃত হয় এবং তার উদারতার মাধ্যমে সে অন্যদের ঋণী করে না। যদি সে সমস্ত পৃথিবীর মালিক হতো সে নিজেকে এর ভেতরে একজন বিদেশী হিসেবে দেখতো। যদি সে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার জন্য এক ঘন্টার ভেতর এর পুরোটাই ব্যয় করে ফেলতো তবুও তা তার জন্য আফসোসের কারণ হতো না।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ‘‘ উদার ব্যক্তি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকটবর্তী , জনগণের নিকটবর্তী , জান্নাতের নিকটবর্তী এবং আগুন থেকে অনেক দূরে। অন্যদিকে কৃপণ ব্যক্তি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছ থেকে দূরে , জনগণের কাছ থেকে দূরে , জান্নাত থেকে দূরে এবং আগুনের কাছে। একমাত্র ঐ ব্যক্তিকে উদার বলা যায় যে নিজেকে ব্যয় করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে জানতে এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার জন্যে , যদি এমনও হয় তা একটি রুটি ও পানির মাধ্যমে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেনঃ‘‘ যে ব্যক্তি উদার সে উদার ঐ বিষয়ে যার মালিক সে নিজে এবং এর মাধ্যমে সে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার চেহারা (পূর্ণ দৃষ্টি) আশা করে। আর যে ব্যক্তি উদার হওয়ার ভান করে এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে , সে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার শাস্তি এবং ক্রোধ লাভকারী। সে সব মানুষের মধ্যে নিজের প্রতি সবচেয়ে কৃপণ , তাই অন্যদের প্রতি সে কেমন হবে , যখন সে তার নিজের কামনা বাসনার অনুসরণ করে এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার আদেশের বিরোধিতা করে ?, যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেনঃ

) و َلَيَحْمِلُنَّ أَثْقَالَهُمْ وَأَثْقَالًا مَّعَ أَثْقَالِهِمْ(

‘‘ অতি অবশ্যই তারা বহন করবে তাদের নিজেদের বোঝা এবং অন্য বোঝাগুলোও তাদের নিজেদের বোঝার সাথে।’’ (সূরা আনকাবুতঃ ১৩)

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ‘‘ আদমের সন্তান চীৎকার করে বলে ,‘‘ আমার সম্পত্তি! আমার সম্পত্তি! আমার সম্পদ! আমার সম্পদ!’’ হে হতভাগা , কোথায় ছিলে তুমি যখন ছিলো সাম্রাজ্য অথচ তোমার অস্তিত্ব ছিলো না ? তুমি যা খাও ও পান কর অথবা যে পোষাক তুমি পড় ও তা ব্যবহারের মাধ্যমে ছিঁড়ে শেষ কর অথবা যা তুমি দান কর এবং যা তুমি টিকিয়ে রাখ তার চেয়ে বেশী কিছু কি আছে ? হয় তোমাকে এর মাধ্যমে দয়া করা হচ্ছে অথবা তোমাকে এর জন্য শাস্তি দেয়া হবে। অতএব তোমার বুদ্ধি ব্যবহার করো এবং বুঝে নাও যে তোমার জন্য উচিত নয় নিজের সম্পত্তির চাইতে অন্যের সম্পত্তি বেশী ভালোবাসা।

বিশ্বাসীদের আমীর ইমাম আলী (আ.) বলেছেনঃ‘‘ তুমি ইতোমধ্যে যা দিয়েছো তা তাদের জন্য নিদিষ্ট ছিলো যারা এখন তার মালিক ; তুমি যা ধরে রেখেছো তা হলো তাদের জন্য যারা এর উত্তরাধিকারী হবে এবং তোমার এখন যা আছে এর উপর তোমার কোন ক্ষমতা নেই শুধু এর কারণে দাম্ভিক হওয়া ছাড়া। কত চেষ্টাইনা তুমি কর এ পৃথিবী পাওয়ার জন্য , কৃতিত্ব দাবী করার জন্য! তুমি কি চাও নিজেকে দরিদ্র করতে এবং অন্যদের ধনী করতে ?’’

Related posts

প্রতিবেশীর অধিকার: সামাজিক সম্প্রীতি

পরোপকার ও সহমর্মিতা: মানবিকতার মূল ভিত্তি ও ঈমানের দাবি

নম্রতা ও বিনয়: আত্মিক প্রশান্তির চাবিকাঠি

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More