বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এর গুরুত্ব
১. আল্লাহর নামের আশ্রয়ে মুক্তি :- আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘ আলা তিনটি জিনিষকে মানুষের পরিত্রাণ,মুক্তি,বিজয় এবং সফলতার উপাদান হিসেবে গণ্য করেছেন।
সফলকাম হয়েছে সেই ব্যক্তি,যে ব্যক্তি নিজের জীবনকে পরিশুদ্ধ করেছে,আর স্বীয় প্রভূর নাম স্মরণ করে এবং নামাজ আদায় করে।(আল কোরআন সূরা আল্ আ‘ লা,আয়াত-১৪-১৫)
২. বিসমিল্লাহর বরকত :- আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন :
আমি বিসমিল্লাহ দ্বারা অন্যান্য নবীদের উপর মর্যাদাবান হয়েছি। (বিহারুল আনওয়ার,আল্লামা মাজলিসি,৮৬তম খণ্ড,পৃ.৬০,প্রকাশনায় আল ওফা,বৈরুত,লেবানন। )
৩. আনুগত্যের দ্বার উন্মোচন : ইমাম সাদেক (আ.) থেকে বর্ণিত-
অন্যায় অনাচারের দরজাসমূহকে ইস্তিয়াজা (আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম) দ্বারা বন্ধ করে দাও আর আনুগত্যের দ্বারসমূহকে তাসমিয়াহ (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) দ্বারা উন্মুক্ত করে দাও।
( বিহারুল আনওয়ার,আল্লামা মাজলিসি,৮৯তম খণ্ড,পৃ.২১৬,প্রকাশনায় আল ওফা,বৈরুত,লেবানন;মুসতাদরাকে ওয়াসায়েল,মুহাদ্দেস নুরী,৫ম খণ্ড,পৃ.৩০৪ প্রকাশনায় মুয়াস্সাসে আলে বাইত,কুম;আদ দাওয়াত,কুতুব উদ্দিন রাওয়ানদি,পৃ.-৫২ প্রকাশনায় মাদ্রসা ইমাম মাহদী (আ.) কুম ইরান।)
৪. প্রত্যেকটা গ্রন্থের চাবি : রাসূল (সা.) বলেছেন –
বিসমিল্লাহ প্রতিটি বইয়ের চাবি।( আদ দুররুল মানছুর,সূয়ুতি,১ম খণ্ড,পৃ.২৭,দারুল ফিকর,বৈরুত,লেবানন;মিজানুল হিকমাহ,রেই শাহরী,৪র্থ খণ্ড,পৃ.-৩৬৫,বাবে আসমাউল আল্লাহ।)
৫ . আল্লাহর মহিমান্বিত নামের নিকটবর্তী :ইমাম হাসান আসকারী ( আ .) বলেছেন – সত্য
চোখের কালো অংশের সাথে শুভ্র অংশের নিকটবর্তীতার চেয়েও বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম আল্লাহর মহান নামের অধিক নিকটবর্তী।( বিহারুল আনওয়ার,আল্লামা মাজলিসি,৭৫তম খণ্ড,পৃ.৩৭১,প্রকাশনায় আল ওফা,বৈরুত, লেবানন।)
৬. বিসমিল্লাহর পূর্বে ইস্তিয়াযা :- মহান আল্লাহ তা‘ আলা পবিত্র কোরআনে শয়তানের অনিষ্ঠ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় নেওয়ার ব্যাপারে বলেছেন যে,
“ فاذا قرأت فاستعذ بالله من الشيطان الرجيم ”
যখনই কোরআন তেলাওয়াত করবে অভিশপ্ত শয়তানের অনিষ্ঠ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করবে।( সূরা আন-নামল,আয়াত-৯৮।) কেননা আমরা আমাদের ইবাদত বন্দেগীতে শয়তানের অনিষ্ঠ থেকে নিরাপদ নই। ঐ অভিশপ্ত আমাদেরকে পথভ্রষ্ঠ এবং আমাদের ইবাদত বন্দেগীকে নষ্ট করে ফেলে। আমাদেরকে একাগ্রচিত্তে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী করা থেকে বিরত রাখে।‘ মুকতানিয়াতুদ দার’এর লেখক স্বীয় গ্রন্থে এভাবে বর্ণনা করেছেন,কেন বিসমিল্লাহর পূর্বে এবং তাকবীরের পরে ইস্তিয়াযা করবো ? উত্তরে বলেছেন : বাসমালাহর (আল্লাহর নাম নেয়ার) পূর্বে ইস্তিয়াযাকে (আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা) স্থান দেয়ার কারণ (تحليه ) সুন্দর বৈশিষ্টে সজ্জিত হওয়ার পূর্বে (تخليه ) গুনাহ থেকে মুক্ত ও পবিত্র হওয়াকে স্থান দেয়ার ন্যায়। মানুষ প্রথমে গোসল করবে এবং নোংরা ও ময়লা থেকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হবে তারপর সুন্দর এবং পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করবে এবং নিজেকে সুবাসিত করবে।
অনুরূপভাবে অবশ্যই প্রথমে শয়তানের অনিষ্ঠ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় নিব এবং তার ষড়যন্ত্র ও প্রতারণা থেকে নিরাপদ হব। অত:পর আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদতের ময়দানে পদার্পন করব।
অবশ্য এটা জেনে রাখা জরুরী যে,শয়তান এক নিকৃষ্ট ও দূর্গন্ধময় জিনিষ,খুব অল্প সংখ্যকই তার সাথে সংগ্রাম করে সফলতা লাভ করতে পারে। কেননা অধিকাংশ মানুষই শয়তানের সাথে সংগতিপূর্ণ এবং তার সহচর আর ইবাদত বন্দেগীর ক্ষেত্রে অত্যন্ত দূর্বল এবং অক্ষম।
৭. বিসমিল্লাহ্ লেখার প্রয়োজনীয়তা : ইমাম সাদেক(আ.)বলেছেন –
তোমরা তোমাদের লিখনীসমূহে বিসমিল্লাহ লিখা থেকে বিরত থেকো না। এমনকি একটি কবিতা হলেও।( মেশকাতুল আনওয়ার,তাবারসি,পৃ.-১৪৩,হাইদারিয়া প্রকাশনী,নাজাফ।)
৮. সর্বোত্তম লিপিতে সন্নিবেশিত করা ( লিপিবদ্ধ করা) : ইমাম সাদেক(আ.)বলেছেন-
অর্থাৎ“ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”কে সর্বোত্তম লিপিতে লিপিবদ্ধ কর,‘ বা’অক্ষরটিকে সম্প্রসারিত করোনা যেন‘ ছীন’কে সম্প্রসারিত ও লম্বিত করে লিখতে পার।( ওয়াসায়েলুস শীয়া,হুর আমেলী,১২ তম খণ্ড,পৃ.-১৩৬,প্রকাশনায় মুয়াস্সাসে আলে বাইত,কুম ইরান।)
৯. সবচেয়ে মহত্বপূর্ণ আয়াত : এক ব্যক্তি ইমাম রেযা(আ.)কে জিজ্ঞেস করল”
পবিত্র কোরআনের সবচেয়ে বেশী মর্যাদাবান আয়াত কোনটি ? ইমাম উত্তরে বললেন –“ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”।৯
১০. সমস্ত আসমানী কিতাব সমূহে “ বিসমিল্লাহর ” আবির্ভাব : ইমাম সাদেক(আ.)থেকে বর্ণিত হয়েছে –
আসমান থেকে এমন কোন কিতাব অবতীর্ণ হয়নি যার প্রথমে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম নেই।
১১. সূরা হামদের অংশবিশেষ : এক ব্যক্তি হযরত আলী(আ.)কে জিজ্ঞেস করল“আস সাবউল মাছানী” কি ? তিনি বললেন : সূরা হামদ,তিনি আরও বললেন সূরা হামদের সাতটি আয়াত রয়েছে“ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” তারই একটি আয়াত।১১
১২. ঈমানদার ব্যক্তির নিদর্শন : ইমাম হাসান আসকারী(আ.)থেকে বর্ণিত,
অর্থাৎ মুমিন ব্যক্তির আলামত চারটি। ( ১ ) রাত দিনে ফরজ ও নফল সহ ৫১ রাকাত নামাজ আদায় করা। ( ২ ) ডান হাতে আংটি পরিধান করা। ( ৩ ) নামাজের পর কপাল মাটিতে রেখে সেজদারত অবস্থায় “ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ” উচ্চস্বরে বলা। ( ৪ ) যিয়ারতে আরবাঈন পাঠ করা। ১২
১৩. হযরত ঈসা ( আ.) এর প্রথম শিক্ষা : ইমাম বাকের (আ.) থেকে বর্ণিত,হযরত ঈসা(আ.)জন্মগ্রহন করলেন,তিনি খুব দ্রুত বেড়ে উঠতে লাগলেন এমনকি সাত মাস বয়সে তার মা তার হাত ধরে শিক্ষকের নিকট নিয়ে গেলেন।
শিক্ষার শুরুতেই শিক্ষক বললেন,বল“ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”ঈসা (আ.) তা পূনরাবৃত্তি করলেন।
( বিহারুল আনওয়ার,আল্লামা মাজলিসি,২য় খণ্ড,পৃ.-৩১৬,প্রকাশনায় আল ওফা,বৈরুত, লেবানন।)