একটি নৈতিক দায়িত্ব

অনুবাদ: মোঃ হোসাইন কাদীর গাজী

আমরা কি আমাদের ঘুমন্ত বিবেককে জাগ্রত করতে পারি না? কতই-না ভালো হয় যদি প্রত্যেক শহরে, গ্রামে এবং সমাজে দরিদ্র ও অভাবীদের জন্য একটি করে ফ্রী মেহমানখানা (অতিথিশালা) প্রতিষ্ঠা করা হয়। উদাহরণ স্বরূপ যদি একলক্ষ মানুষ একদিনে এক তুমান (ইরানী মুদ্রা) করে অভাবীদের উদ্দেশ্যে ব্যয় করে তাহলে তা কতোগুলো অভাবী লোকের মধ্যে সরবরাহ করা যাবে!

পূর্বের যুগে বেদুইন আরব এবং ইরাকের গ্রামাঞ্চলে এমনকি নাজাফ ও কারবালার মধ্যেও এক ফারসাখ দূরত্বে (কমবেশি হতে পারে) একটি করে মেহমানখানা থাকতো। যেখানে যিয়ারতকারী এবং পথযাত্রীদের খাদ্য ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করে দেওয়া হতো। এমনকি তারা যদি সেখানে একবেলা খাবার না খেতো তাহলে সেবকরা দুঃখ পেতো।
প্রত্যেকে তাদের সাধ্য অনুযায়ী সেবা দেওয়ার চেষ্টা করতো। কেউ ভেড়া জবাই করতো, কেউ বা মোরগ-মুরগী … ইত্যাদি। আমরা পুণ্যবান পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত প্রায় সমস্ত রীতিই হারিয়ে ফেলেছি। আমরা টাকা পয়সা, ধনসম্পত্তি এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিজ অর্জনের কথা চিন্তা করতে করতে ইনফাক করা (দান করা) প্রায় ভূলে-ই গিয়েছি।

একজন ব্যক্তি বলেছিলেন: বসরার নিকটবর্তী একটি গ্রামে একটি মেহমানখানা আছে। তার বাবা ও চাচা সেখানে মেহমানদের উদ্দেশ্যে খরচ করার জন্য প্রতিবছর একশত বালতি যব আলাদা করে রাখেন। যদি আশি বালতি যব অর্জিত হয় তাহলে তারা বিশ বালতি যব সংযুক্ত করেন। যদিও সেগুলো ধার হিসেবে দেন। যদি মাংস অথবা খোরমা অথবা দই অথবা মাখন পাওয়া যায় তাহলে তার সাথে সংযুক্ত করা হয়।

আমি নিজেও এমন দুটি মেহমানখানায় গিয়েছিলাম। একটি মেহমানখানার মালিক আলেম ব্যক্তি ছিলেন। অন্যটির মালিক অবশ্য আলেম ছিলেন না আর উক্ত মেহমানখানার অবস্থাও প্রথমটির মতো ভালো ছিলো না। সেখানে আব্দুল্লাহ নামে একটি বালক ছিলো।

যদি সমস্ত ইসলামী দেশে এইরকম মেহমানখানা থাকে তাহলে কি তাদের মধ্যে কমিউনিস্ট চিন্তাধারা প্রবেশ করতে পারে? আর যদি (সঠিকভাবে) খুমস ও যাকাত দেওয়া হতো তাহলে কি মুসলমানদের অবস্থা এইরকম থাকতো? কখনোই না।

রেওয়ায়েতে এসেছে যে,
“انّه لو کان العدل، ما احتاج هاشمی ولا مطّلبی الی صدقه”

অর্থাৎ: যদি ন্যায়পরায়ণতা থাকতো তাহলে কোনো হাশেমী এবং মুত্তালিবের বংশকে যাকাত নিতে হতো না।
কয়েকজন আরব মোল্লাদের কাছ থেকে শুনেছি যে: কখনো কখনো এমন পরিস্থিতিও হয় যে, একব্যক্তি এই মেহমানখানায় একবছর অবস্থান করে থাকে। কেউ কেউ এতোটা বিনয়ী বা লজ্জাবান যে, অনেক দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত থাকার পরেও তা প্রকাশ করতে পারে না। এই ধরণের প্রতিবেশী এবং সহকর্মীদের যত্ন নেওয়া এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেওয়া কি আমাদের দায়িত্ব নয়? অবশ্যই এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তথ্যসূত্র: দার মাহযারে বাহজাত, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা: ১৯ ###

Related posts

ইসলামি শিষ্টাচার: ছোটদের স্নেহ ও বড়দের প্রতি সম্মান

ইমাম রেযা’র (আ.) জ্ঞানপূর্ণ ব্যক্তিত্ব

প্রতিবেশীর অধিকার: সামাজিক সম্প্রীতি

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More