কাজের উপর সংকল্পের অগ্রাধিকার

স্বয়ং কাজের উপর কাজের সংকল্পের যে প্রাধান্য রয়েছে তা এই যে, কাজ বাস্তবায়নে কখনও কখনও লোক দেখানো ও প্রশংসা কুড়ানোর জন্যে উপস্থাপন করা হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু সংকল্প যা এক অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং কোনো বাহ্যিক প্রভাব নেই, লোক দেখান এবং তদনুরূপ কোনো কিছুর সুযোগ এতে নেই। কাজের উপর সংকল্পের অন্য প্রাধান্য এই যে, সর্বদা ও সব জায়গায় সম্ভবত নির্দিষ্ট কোনো শর্ত অন্বেষন করে না; কিন্তু একটি কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শর্তাবলির প্রয়োজন ও একাধিক সম্ভাবনা রয়েছে।
হাদীসসমূহে “মান্ বালাগা” নামে একটি শিরোনাম রয়েছে। এ শ্রেণীর হাদীসসমূহ বলে: যদি কেউ কাউকে বলতে শুনে যে, অমুক কাজে পুরস্কার রয়েছে এবং সেই কাজটি সে বাস্তবায়ন করে, তাহলে মহান আল্লাহ তাকে সেই কাজের পুরস্কার দান করবেন – যদিও সেই হাদীসটি সঠিক নাও হয়ে থাকে। কারণ যেহেতু সে বিশুদ্ধ সংকল্পের সঙ্গে সেই হাদীসের প্রতি আমল করেছে।
সংকল্পের স্তরসমূহ
১. কখনও কখনও আল্লাহর ক্রোধের ভীতি অথবা তার করুণার লোভ মানুষকে কোনো কাজের প্রতি বাধ্য করে, যেমনভাবে কুরআন বলে: “উদ্’ঊহু খাওফান ওয়া ত্বামাআ।”( সূরা: আ’রাফ, ৫৬তম আয়াত )

অর্থাৎ তোমরা আল্লাহকে সর্বাবস্থায় আহব্বান কর; কি ভীতি অবস্থায় কি প্রত্যাশায়। অন্য স্থানে বলে: “ইয়াদঊনানা রাগাবান ওয়া রাহাবা।( সূরা: আম্বিয়া, ৯০তম আয়াত )

অর্থাৎ তারা আমাদেরকে প্রত্যাশা অথবা ভীত অবস্থায় আহব্বান করে।
২. উচ্চতর পর্যায় এই যে, মানুষ মহান আল্লাহর করুণার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নিমিত্তে কোনো কাজ সম্পাদন করে, যদিও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো পুরস্কার কিংবা শাস্তি না থাকে। যেমনভাবে হযরত আলী (আ.) বলেন: “লাও লাম ইয়াতাওয়্যাদিল্লাহু আলা মা’সিয়াতিহি লাকানা ইয়াজিবু আল্লা ইউ’সা শুকরান লিনি’মাতিহ্।” অর্থাৎ যদি মহান আল্লাহ মানুষের পাপের ফলে শাস্তির প্রতিশ্রুতি না দিতেন তথাপি তাঁর নিয়ামতসমূহের নাফরমানী না করে কৃতজ্ঞতা জানানো মানুষের জন্যে আবশ্যক হত।
৩. উচ্চতর পর্যায়, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন হচ্ছে এই যে, মানুষ বেহেশতের কোনো আশা কিংবা নরকের কোনো ভয় ছাড়াই আল্লাহর ইবাদত করে; কারণ তাঁকেই একমাত্র ইবাদত ও দাসত্বের উপযুক্ত মনে করে।
৪. সর্বোচ্চ পর্যায় এই যে, আল্লাহর প্রতি প্রেম মানুষকে কোনো কাজের প্রতি উৎসাহিত করে, যেমনভাবে আলী (আ.) আল্লাহর সাক্ষাৎ ও মৃত্যুর প্রতি স্বীয় ভালবাসাকে, মাতৃস্তন্যের প্রতি শিশুর ভালবাসা থেকে অধিক মনে করেন।
ইমাম মুজতাবার (আ.) সন্তান হযরত ক্বাশেম কারবালাতে বলেন: আল্লাহর রাস্তায় মৃত্যুবরণ আমার জন্যে মধুর চেয়ে অধিক মিষ্টি।

Related posts

প্রতিবেশীর অধিকার: সামাজিক সম্প্রীতি

পরোপকার ও সহমর্মিতা: মানবিকতার মূল ভিত্তি ও ঈমানের দাবি

নম্রতা ও বিনয়: আত্মিক প্রশান্তির চাবিকাঠি

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More