খাইবারের যুদ্ধ নিয়ে কিছু ইতিহাস

by Rashed Hossain

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়

হজরত আলী (রাঃ) খাইবারের যুদ্ধে ইহুদীদের দুর্গের দরজা ভেঙ্গে তার ঢাল বানিয়েছিলেন, পরে নাকি ৪০ জন মানুষ ধরাধরি করে সেই দরজা মাটি থেকে উঠিয়েছিলো। ষাটের দশকে বরিশাল জিলা স্কুলে কোন ক্লাশে যেন আমাদের পাঠ্য বইতে পড়া এই কাহিনীটি মনের মধ্যে গেঁথেছিলো বহুদিন। ১৯৭৭ সনে সৌদি আরবে আসার পর অনেক সৌদিকে জিজ্ঞেস করেছি খাইবার কোথায়? দাম্মাম, রিয়াদের কেউ কোনো খবর দিতে পারলো না। যুদ্ধ সম্বন্ধে জানতে চাইলে দেখলাম তারা আমার চাইতেও কম জানে। রিয়াদের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের একটা অফিস তখন সমীচী এলাকাতে, খুঁজে পেতে অনেকক্ষণ লাগলো, কিন্তু লাভ হলো না, ওয়াল্লাহে মানাদ্রী, এস আল খায়বার, ওয়েন হারব? মা এন্দেনা হারব তাউ খুব সন্দেহের নজর দিয়ে অফিসারটি বললেন, আল্লার কসম আমি জানিনা, খাইবার কি, কোথায় যুদ্ধ? ইদার্নীং কোথাও যুদ্ধ হয়নি। পুলিশ না ডেকে বসে তাই ভয়ে ভেগে এলাম। খাইবারের দুর্গ আমার মাথায় রয়ে গেলো।

নবী করিম (সঃ) আল্লাহর হুকুমে মক্কা থেকে মদিনা হিজরত করে আসার পরও কুরাইশদের অত্যাচার আর ষড়যন্ত্র থেমে রইলনা। মদিনার তৎকালীন ধনী ইহুদী সম্প্রদায় একই দেশে থেকে, মুসলমানদের প্রতিবেশী হয়েও তাদের বিরুদ্ধে বাইরের শত্রুদের সহায়তা শুরু করলো গোপনে। এই ধরনের অত্যাচার যখন মুসলমানদের ওপর চলছিলো তখন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আয়াত নাজেল করলেন। যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদের যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হলো, কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে অবশ্যই সক্ষম। তাদের ঘরবাড়ি থেকে অন্যায়ভাবে বের করা হয়েছে শুধু এজন্যে যে তারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। আল্লাহ যদি মানবজাতির এক দলকে আর এক দল দিয়ে বাধা না দিতেন তা হলে বিধ্বস্ত হয়ে যেত (খ্রিস্টানদের ) মঠ ও গির্জা, ধ্বংস হয়ে যেতো (ইহুদিদের) ভোজনালয়, আর মসজিদ যেখানে আল্লাহর নাম বেশি করে স্মরণ করা হয়। আল্লাহ নিশ্চয়ই তাকে সাহায্য করেন যে তার (ধর্মকে) সাহায্য করে। আল্লাহ নিশ্চয়ই শক্তিমান, পরাক্রমশালী। (সুরা হজ, আয়াত ৩৯-৪০)।

আল্লাহর এই হুকুমের পর মুসলমানরা তলোয়ার উঠালো হাতে, কোনো দেশ দখলের জন্যে নয়, কাউকে ক্ষমতায় বসানোর জন্যে নয়, কোনো রাজনীতি বা মানুষ রচিত কোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠার জন্যে নয়, শুধু আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ এই কথার ওপর বিশ্বাস পৃথিবীর বুকে প্রোথিত করার জন্যে। শুরু হলো প্রথম লড়াই, — বদরে, প্রায় খালি হাতে, খালি পায়ে ৩১৩ জন মুসলমান, অভুক্ত রোজা রাখা, অন্যদিকে ১০০০ ট্রেইনড কোরাইশ অস্ত্রধারী সৈন্য। আল্লাহ বললেন, আর বদরের যুদ্ধে আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেছিলেন, তখন তোমরা ছিলে হীনবল। (সুরা আল – ই -ইমরান–১২৩) আমি তোমাকে সাহায্য করবো এক সহস্র ফেরেস্তা দিয়ে যারা একের পর এক আসবে (সুরা আনফাল–৯)। মুসলমানদের অভাবনীয় বিজয় দিলেন আল্লাহ। কিন্তু যারা অদৃশ্যে বিশ্বাসী হয়না, কোনো উদাহরণ, কোনো যুক্তি তাদের মনকে পরিবর্তন করতে পারে না।

তাই কোরাইশদের আক্রমণ আর ইহুদিদের গোপন ষড়যন্ত্র থেমে রইলো না। একের পর এক যুদ্ধ চলতে লাগলো ওহুদের, খন্দকের বড় বড় যুদ্ধ ছাড়াও ছোট খাট যুদ্ধ প্রায়ই করতে হতো। ইহুদিদের সমস্যা ছিল দুটি, একটা হচ্ছে তাদের বাণিজ্যিক আধিপত্য, আর একটা ঈর্ষা, আরবদের থেকে কেন শেষ নবী হলো? খন্দকের যুদ্ধের বেইমানির পর তাদের নির্ধারিত ইহুদি বিচারক কর্তৃক শাস্তি প্রাপ্ত হওয়ার পর বাকি ইহুদিরা সব আশ্রয় নিল মদিনা থেকে ৯৩ মাইল দূরে খায়বার মরুদ্যানে। প্রচুর পানি, উর্বরা মাটি, তাদের টেকনোলজি, প্রচুর অর্থ খরচ করে বর্তমান ইসরাইলের মতো শক্তিশালী ছোট খাট একটা রাষ্ট্র বানালো তারা। ওদের স্টিল ইন্ডাস্ট্রি ছিল অনেক যেখানে আধুনিক অস্ত্র তৈরি হতো।
হোদায়বিয়ার অসম চুক্তিতে ইহুদিরা ধরে নিল, মুসলমানরা দুর্বল। তাই তারা ফাইন্যান্স করা শুরু করলো মদিনা আর খাইবারের মাঝখানে বেদুইন গোত্র গাত্ফানকে, যাতে তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চালায়। গাত্ফানরা প্রায়ই ঝামেলা করতো মুসলমানদের ওপর। একবার উট চরানো অবস্থায় হজরত আবু জর গিফারী (রাঃ)র ছেলে আর তার মাকে ধরে নিয়ে গেলো ওরা, ছেলেটাকে হত্যা করে গিফারী (রাঃ)-এর বিবি আর উট নিয়ে ওরা যখন ভেগে যাচ্ছিল তখন মুসলমানদের একটি দল তাদেরকে আটক করে এবং রিমান্ড জাতীয় অবস্থায় খাইবার এর ইহুদিদের ষড়যন্ত্রের কথা বলে দেয়। আল্লাহর নবী (সঃ) আল্লাহর হুকুমে খাইবার আক্রমণের পরিকল্পনা করেন। মাত্র ১৪০০ থেকে ১৮০০ মুসলিম সেনা সাথে ১০০ বা ২০০ ঘোড়া নিয়ে খাইবার অভিমুখে তিন দিনের যাত্রা শুরু হলো, –৬২৮ খ্রিস্টাব্দ মে মাস, ৭ মহররম। খাইবারে তখন ১০০০ ইহুদী সৈন্য সুরক্ষিত দুর্গে, তাদের কাছে নিজেদের তৈরি করা আধুনিক অস্ত্র শস্ত্র। ইতিমধ্যে গাত্ফান্দের ৪ হাজার সৈন্য ইহুদিদের সাথে যোগ দেয়ার জন্যে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু আলরাজি উপত্যকা মুসলমানরা দখল করেছে শুনে গাত্ফানরা নিজের এলাকায় ফিরে যায়। বলা হয়, তখন গাত্ফানদের কাফেলা আকাশ থেকে আওয়াজ শোনে যে তাদের বিপদ হবে যদি তারা খাইবার যায়, তাই নাকি তারা ফিরে আসে।

খাইবারে ৪টি দুর্গ ছিল। মুসলমানদের অতর্কিত আক্রমণে নাতাত আর শিক্ক এলাকার সব দুর্গ পতন হয়, বাকি রয়ে যায় আল কামুস দুর্গ। মুসলমানদের অবরোধের মধ্যেও ইহুদিরা রাতের আঁধারে কামুসে একত্রিত হয়। খাড়া পাহাড়ের ওপর এই দুর্গে হজরত আবু বকর প্রথমে, পরে হজরত ওমর (রাঃ) ব্যর্থ আক্রমণ চালান। তখন নবী (সঃ) বললেন কাল একজনকে আক্রমণে পাঠানো হবে যিনি আল্লাহ ও রসুলের প্রিয় এবং আল্লাহ ও রসুল তার প্রিয়, তিনি কেল্লা ফতেহ করবেন ইনশাল্লাহ। সকালবেলা সবাই লাইনে দাঁড়ান সেই ভাগ্যবান ব্যক্তি হওয়ার জন্যে, কারণ তারা জানতেন আল্লাহর নবীর কথা সব সময়ই সত্যি হয়। আলী (রাঃ) তার তাঁবুতে ছিলেন। কারণ তার চোখে ইনফেকশন হয়েছিল। নবী (সঃ) অসুস্থ আলী (রাঃ)কে ডেকে নিয়ে এলেন এবং তার হাতে দিলেন তার নিজের তরবারী জুলফিকার আর ইসলামের ঝান্ডা। বলা হয় নবী (সঃ)-এর দোয়াতে, তার থুথুতে তার চোখ সুস্থ হয়েছিল সঙ্গে সঙ্গে।

কামুস দুর্গের গেটে ইহুদিদের গলিয়াথ মারহাব এসে চ্যালেঞ্জ করলো আলী (রাঃ)কে। বিশাল দেহের অধিকারী, সব যোদ্ধার ত্রাস, পুরো শরীর বর্ম দিয়ে ঢাকা, মাথায় কঠিন ইস্পাতের হেলমেট, তার ওপরে বসানো বিশাল এক হিরক খন্ড, আলো প্রতিফলন হয়ে প্রতিদ্ব›দ্বীর দৃষ্টি ঝলসে দেয়। তার একহাতে বিশাল দু ধারী তলোয়ার আর এক হাতে ত্রিশুল জাতীয় বর্শা, এগুলি মুসলমানরা কখনো দেখেনি। যুদ্ধের রীতি অনুযায়ী মৌখিক হুমকি ধমকি শেষে প্রথম ত্রিশুলের আঘাত প্রতিহত করতে যেয়ে আলী (রাঃ) মাটিতে পড়ে যান, তার ঢাল কেটে যায়। দ্বিতীয় আঘাত করেন আলী (রাঃ), লাফ দিয়ে হাই জাম্পের মতো শুন্যে উঠে এক কোপে ইস্পাতের হেলমেট হয়ে দাঁত পর্যন্ত কেটে দু ভাগ হয়ে যায় মারহাব। বলা হয় আলী তখন দুর্গের দরজা কব্জা সহ খুলে ফেলেন এবং ছুড়ে মারেন নিচে যা একটি ব্রিজের মত হয়ে যায় যা দিয়ে মুসলমানরা খাদ অতিক্রম করে আক্রমণ করে প্রধান দুর্গে, এবং ইহুদিদের এলাকা খায়বার মুসলমানরা দখলে নেয়। পুরো যুদ্ধে ১৯জন মুসলমান শহীদ হন আর ৯৩ জন ইহুদি প্রাণ হারায়। নবী (সঃ) আলী (রাঃ)কে উপাধি দিলেন আল্লাহর সিংহ। আসাদুল্লাহ। আধুনিক ঐতিহাসিক মার্গুলীয়ুথ বলেন, আলীর তরবারির এক কোপ মুসলমানদের জন্যে প্রথম প্রাচুর্যের দ্বার খুলে দেয়। হযরত আয়েশা বলেছিলেন, খাইবার বিজয়ের পরে এত জিজিয়া আসতো যে আমরা প্রথমবারের মতো পেট পুরে খেজুর খেতে পারতাম। আজকাল ইহুদিদের ওয়েব সাইটে ইসলামিক এই যুদ্ধের কাহিনীকে অস্বীকার করা হয়, তাদের মতে একজন ইহুদি রাজাকার কামুস দুর্গে ঢোকার গোপন সুড়ঙ্গের দরজা খুলে দিয়ে ইহুদিদের হারিয়ে দেন। আর ভারী দরজা ৪০ জন উঠিয়েছিল বলে যে বিষাদ সিন্ধুর মতো কাহিনী চালু আছে-তা শিয়াদের বই এর। সুন্নিরা বলে ৪ জন সেই দরজা উঠিয়েছিলেন।

মানুষরা যে যাই বলুন আর ভাবুন খাইবার নিয়ে আল্লাহ তার ওয়াদা পূরণ করেছেন, আল্লাহ এই যুদ্ধ সম্মন্ধে বলেন, আল্লাহ তোমাদের প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন তোমরা যুদ্ধে লভ্য বিপুল সম্পদের অধিকারী হবে। (সুরা ফাত্হ, আয়াত ২০) পরের আয়াতে মুসলমানদের ভবিষ্যত নিয়ে বলেন,- আল্লাহ তোমাদের জন্যে আরো (বহু ধনসম্পদ) নির্ধারিত করে রেখেছেন যা এখনো তোমাদের অধিকারে আসেনি, যা আল্লাহর কাছে রাখা আছে। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান। বর্তমান পৃথিবীর মুসলমান হিসাবে জন্মগ্রহণ করা জাতীরা যখন আল্লাহর ডেফিনেসন অনুযায়ী মুসলমান হবে তখন তারা আল্লাহর সহায়তা পাবে, না হয় এখনকার মতো বিতর্কিত থাকবে।

খাইবারের যুদ্ধ আরো কয়েকটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। নবী (সঃ)কে ইহুদি নারী জয়নাব বিষ মেশানো মাংস খাইয়েছিলো তা এই যুদ্ধের পরে ওখানেই ঘটে। হজরত আলী (রাঃ)-এর ভাই জাফর বিন আবি তালিব ১৪ বছর এক্জাইলে থেকে আবিসিনিয়া থেকে সোজা খাইবার আসেন। নবী (সঃ) তাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, বুঝতে পারছি না কোনটা বেশি আনন্দের,– খাইবার বিজয় নাকি তোমাকে ফিরে পাওয়া।

খাইবার যুদ্ধের ওপর সালমান বিন আকওয়া বর্ণিত একটি হাদীস বর্তমান পৃথিবীর ঘটনাবলির প্রেক্ষিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আমার ভাই আমের খাইবারের যুদ্ধে নবী (সঃ)-এর পাশে কঠিনভাবে যুদ্ধ করছিলেন, তখন দুর্ঘটনাক্রমে তার নিজের তলোয়ারের আঘাতে তার নিজের মৃত্যু হয়। অনেক সাহাবা সন্দেহ পোষণ করলেন, উনি কি আত্মঘাতী নাকি শহীদ? সালমান বলেন, খাইবার যুদ্ধের পর আমরা মদিনা ফিরে গেলে নবী (সঃ)-এর সামনে আল্লাহর প্রশংসামূলক একটি কবিতা পড়ি। তখন হুজুর (সঃ) বললেন, কে লিখেছে এই সুন্দর কবিতা? বললাম, আমার ভাই, আমের। আরো বললাম, হুজুর, অনেকে তাকে আত্মঘাতীভাবে তাই তার জন্যে দোয়া করে কথা বলেন। নবী (সঃ) বললেন, উনি মারা গেছেন আল্লাহর একজন উপাসনাকারী এবং সৈনিক হিসাবে। আল্লাহ তার প্রতি দয়া করুন। সহিহ মুসলিমে এই ব্যাপারে বলা হয়েছে, নবী (সঃ) তার দু আঙ্গুল একত্র করে বলেছিলেন, তার জন্যে দুটো পুরস্কার, একটি আল্লাহর উপাসনাকারী হিসাবে, আর একটি আল্লাহর রাহে যুদ্ধ করার জন্যে। বর্তমানে যারা মুসলমানদের আত্মঘাতী হতে বলেন তারা কি এই হাদিস সম্মন্ধে অবগত আছেন?

এই হলো খাইবারের দুর্গের কাহিনী। ১৯৮১ সনে দুর্ঘটনা ক্রমে খুঁজে পাই প্রথম। মদিনা থেকে তাবুক যাওয়ার পথে নির্জন রাস্তার পাশে আরবিতে খাইবার লেখা একটি পেট্রোল পাম্প দেখে গাড়ি থামালাম। কেউ কিছু জানে না। পাশের মরুভূমিতে কিছু দুরে বেদুইন তাঁবু দেখে গাড়ি নিয়ে পৌঁছলাম। দেখি বুড়ো মাছি তাড়াচ্ছে, সালাম দিয়ে বসলাম। আমার কথা শুনে বুঝতে পারল, কি চাই আমি। আউয়াল মাররা হাসসাল্তু ওয়াহাদ ইয়াবগা শুফ কিলা – জীবনে প্রথম একজনের সাথে দেখা হলো যে খাইবারের কেল্লা দেখতে চায়। উটের দুধ খাইয়ে ছেলেকে দিয়ে পাঠিয়ে দিলো আমার সাথে। রাস্তা বললে ভুল হবে, পাথর বালি জঙ্গল এর মধ্য দিয়ে পৌঁছলাম, দেখলাম মন ভরে, কোনো মানুষ আসেনা-স্থানীয় দু একজন ছাড়া। অবাক লাগলো এত বড় গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক প্রতিষ্ঠান, এভাবে পড়ে আছে !

১৯৯৭ সনে ইরানের প্রেসিডেন্ট রাফসানজানি সৌদি আরবে ভিজিট করতে এসে আবদার ধরলেন উনি খাইবার দুর্গ দেখবেন। দেখানো হলো। ২০১৪ সনে আমার দেখা মাদায়েন সালেহর গল্প লিখেছি আপনাদের জন্যে। এবার তার পর আবার গিয়েছিলাম খাইবার। এখন ৬ ট্রাক হাই ওয়ে-মদিনা থেকে। রাস্তা ভরা রোড সাইন। বিশাল শহর এখন। পেট্রল পাম্পের বাংলাদেশীকে জিজ্ঞেস করতেই রাস্তা দেখিয়ে দিলো। এসফলটেড রাস্তা দিয়ে পৌঁছে গেলাম। পুরনো খাইবার এর সব কিছু, সব দুর্গ খুঁজে বের করা হয়েছে, এখন এটি একটি টুরিস্ট শহর। প্রথম ছবিতে দেখছেন পাহাড়ের ওপর আল কামুস দুর্গ। দ্বিতীয়টিতে খাইবারের পুরনো কুয়া যাতে এখনো পানি আছে। তৃতীয়টিতে আমার ছবির পেছনে খাইবারের আদি জনপদের ঘরবাড়ি।

শুহাদাদের কবরের চিহ্ন নেই, কিন্তু জায়গাটা চিহ্নিত, যেয়ে চিৎকার করে বললাম, খাইবারের যুদ্ধের শহীদ সাহাবাগণ (রাঃ), আমি বাংলাদেশের সবার তরফ থেকে আপনাদের কাছে সবার সালাম পৌছালাম, — আসসালামু আলাইকুম। মনে হলো দিক বিদিক প্রকম্পিত করে অযুত কণ্ঠের স্বর্গীয় এক ধ্বনি প্রতিধ্বনি কন্দরে কন্দরে বেজে উঠলো ভালবাসার মুর্ছনায়,— ওয়াআলাইকুম সালাম, বাংলাদেশ।

তথ্য-ড. আরিফুর রহমান।######

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔