আদালাত তথা ন্যায়পরায়ণতা ( উসূলে দ্বীন )

উসূলে দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত

by Syed Yesin Mehedi

কেন মহান আল্লাহর অন্য সকল বৈশিষ্ট্যের মধ্য থেকে ন্যায়পরায়ণতাকে উসুলে দ্বীনের অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে কেন সকল বৈশিষ্ট্যের মধ্য থেকে ন্যায়পরায়ণতাকে নির্বাচন করা হয়েছে? এই আলোচনায় সর্বপ্রথম এই বিষয়টিকে স্পষ্ট করতে হবে যে, আদালাত তথা ন্যায়পরায়ণতা আল্লাহর একটি বৈশিষ্ট্য হওয়া সত্ত্বেও কেন বিশিষ্ট আলেমগণের পক্ষ থেকে সেটাকে উসূলে দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে? মহান আল্লাহ আলিম (জ্ঞানী), কাদির (শক্তিশালী), আদিল (ন্যায়পরায়ণ, হাকিম (প্রজ্ঞাবান), রহমান (পরম করুণাময়), রহিম (অসীম পালু), ছিলেন (আযালি), সর্বদা থাকবেন (আবাদি), খালেক (সৃষ্টিকর্তা), রায়েক (রিযিকদাতা)। কেন এই সমস্ত বৈশিষ্ট্যের মধ্য থেকে শুধুমাত্র ন্যায়পরায়ণতাকে বেছে নেয়া হল এবং সেটাকে ৫টি উসূলে দ্বীনের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করা হল? এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব দেয়ার জন্য কয়েকটি বিষয়ের উপর দৃষ্টিপাত করতে হবে, যথাঃ ১। আদালতের গুরুত্ব এতটাই বেশী যে আল্লাহর অন্যান্য বৈশিষ্ট্য তার অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়। কেননা ব্যাপক অর্থে আদালাত তথা ন্যায়পরায়ণতা হচ্ছে প্রতিটি জিনিসকে তার নির্ধারিত ও উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করা। সুতরাং এই দৃষ্টিকোণ থেকে মহান আল্লাহর অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যেমন: হাকিম (প্রজ্ঞাবান), রহমান (পরম করুণাময়), রাহিম (অসীম দয়ালু), রায়েক (রিযিকদাতা) সবই তার অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়।

২। মায়াদ তথা কিয়ামতও আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতার উপর নির্ভরশীল। অনুরূপভাবে নবুয়াত ও ইমামতের বিষয়টিও আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।

৩। ইসলামের প্রথম যুগে আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতার বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়: আহলে সুন্নতের একদল যাদেরকে আশায়েরা বলা হত তারা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতাকে অস্বীকার করে বলত, আল্লাহর ক্ষেত্রে ন্য ও জুলুমের কোন অর্থ হয় না। গোটা বিশ্বজগত তাঁর সৃষ্টি এবং তাঁরই অধীন সুতরাং তিনি যা-ই করবেন তা-ই হচ্ছে আদালাত তথা ন্যায়পরাণতা। তার এমনকি স্থান ও কোতরে আকলিকে কি ভাল ও মন্দ) অস্বীকার ক এবং বলত আমাদেরকে বিবেক ভালমন্দ বুঝতে অক্ষম। তারা মনে করে, অত্যাচার করা যে খারাপ এবং সৎকাজ করা যে ভাল আমাদের বিবেক এটা বুঝতে অক্ষম। এধরণের অনেক ভ্রান্ত ধারণা তাদের মধ্যে বিদ্যমান ছিল। আহলে সুন্নতের অন্য একটি দল যাদেরকে মোতাযিলা বলা হত এবং ১২ ইমামে বিশ্বাসী শিয়ারা আল্লাহর আদালাত তথা ন্যায়পরায়ণতায় বিশ্বাস করত। এবং বলত মহান আল্লাহ কখনোই জুলুম করেন না। 4 মুসলকে আলাদা করার জন্য মুসলমানদেরকে আসা এবং ই আদলিয়া এ দু’ভাগে বিভক্ত করা হয়। আর শিয়ারা ছিল আনলিয়াদের মধ্যে। অর্থাৎ যারা মহান আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতায় বিশ্বাসী। শিয়ারা নিজেদেরকে অন্য সকল দল থেকে আলাদা করার জন্য ইমামতকেও উসুলে দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। সুতরাং, যেখানেই আমরা আদালাত ও ইমামতকে দেখতে পার সাথে সাথে বুঝতে পারব যে এটাই হচ্ছে ১২ ইমামে বিশ্বাসী শিয়া মুসলমানদের আকিদা ৪। ফুরুয়ে স্থান যেহেতু উসুলে দ্বীনের অধীনে, আর আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতার প্রভাব যেহেতু সমাজে সরাসরি পড়ে। আর মনুষ্য সমাজের গুরুত্বপূর্ণ যেহেতু সামাজিক ন্যায়পরায়ণতার উপর প্রতিষ্ঠিত, তাই ন্যায়পরায়ণতাকে উসুলে দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত করার দর্শন হচ্ছে সমাজে ন্যায়প্রতিষ্ঠা করা এবং সকল প্রকার অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা। যেভাবে আল্লাহর সত্ত্বাগত ও বৈশিষ্ট্যগত একত্ববাদ এবং অনুরূপভাবে ইবাদতের ক্ষেত্রে একত্ববাদ সমাজের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে তৌহিদে সারিকে শক্তিশালী করে তোলে।

ঠিক এভাবেই নবীগণ ও ইমামগণের নেতৃত্ব সত্য ও সঠিক নেতৃত্বকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে থাকে। সুতরাং, যেহেতু আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা সকলকিছুর উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে যা প্রমাণ করে যে, সমাজের সকল পর্যায়ে সামাজিক ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গোটা সৃষ্টিজগৎ ন্যায়ের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। সুতরাং মনুষ্যসমাজও ন্যায়পরায়ণতা ছাড়া টিকে থাকতে পারে না।

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔