খাইবার বিজয়

 আল-মদিনা আল-মুনাওয়ারাতে, ইসলামের সেনাবাহিনী ইহুদি খাইবারের দুর্গগুলোর দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। খাইবারের ইহুদিরা সর্বদা ইসলামের আলো নিভিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করত। তারা সর্বদা আরব গোত্রগুলোকে নতুন মুসলিম রাষ্ট্র ধ্বংস করার জন্য মদীনায় আক্রমণ করতে উৎসাহিত করছিল। তাই, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (দ.) ইহুদিদের হুমকি উপড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন যাতে মানুষজন শান্তিতে বসবাস করতে পারে। মুসলিম বাহিনী সেখানকার শত্রুকে অবাক করে দেওয়ার জন্য ‘গাতফান’ গোত্র ও খাইবারের দুর্গগুলোকে যোগসাজশকারী রাস্তায় পৌঁছেছিল। মুসলিম সেনাবাহিনীতে যোদ্ধার সংখ্যা ছিল ১৪০০। তাদের সাথে ২০০ ঘোড়সওয়ার ছিল। মুসলিম মহিলারাও যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। মুসলমানরা দুর্গগুলোর দিকে অগ্রসর হয়। ভোরবেলায় তারা ইহুদিদের অবাক করে দিয়ে তাদের পুরোপুরিভাবে অবরোধ করে। কিছু সাহাবী ইহুদিদের বিরুদ্ধে শক্ত আক্রমণ শুরু করেছিল। তবে হামলা বিফলে যায় কারণ ইহুদিরা প্রচুর তীর নিয়ে তাদের মোকাবিলা করে। ইহুদিরা রাসূল (দ.) এবং তাঁর সৈন্যদের নিয়ে কটাক্ষ করেছিল। অতঃপর, রাসূল (দ.) বললেন- “আগামীকাল ইসলামের পতাকা এমন এক ব্যক্তির হাতে দেব যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (দ.)-কে ভালবাসে; আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাকে ভালবাসেন।” সকালে কিছু সাহাবী ইচ্ছাপোষণ করেছিলেন যে তাদের হাতে ইসলামের পতাকা দেওয়া হবে। কিন্তু রাসূল (দ.) হযরত জাফর ইবনে আবু তালিবের ভাই হযরত আলীকে ইসলামের পতাকা তুলে দিলেন। হযরত আলী পতাকাটি শক্তভাবে নাড়া দিয়ে ইহুদিদের দুর্গগুলোর দিকে এগিয়ে গেলেন। হযরত আলী ইবনে আবু তালিব যখন ইহুদিদের বীর মারহাবকে হত্যা করলেন, তখন তারা ভয় অনুভব করেছিল। দ্রুত, মুসলমানরা একে একে খাইবারের দুর্গগুলো দখল করল। রাসূল (দ.) ও মুসলমানরা খুশিতে ফেটে পড়ল। তারপর, তারা তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে জয়ের জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে।ইতোমধ্যে, জাফর ইবনে আবু তালিবের নেতৃত্বে হাবাসা’র মুহাজিররা এসে পৌঁছে। রাসূল (দ.)-এর খুশি দ্বিগুণ হয়। সুতরাং, তিনি উজ্জ্বল হাসি দিয়ে বললেন- “আমি জানি না কোন ঘটনাটি বেশি আনন্দদায়ক- জাফরের আগমন নাকি খাইবারের বিজয়!” আমাদের রাসূল (দ.) তাঁর চাচাতো ভাই হযরত জাফর ইবনে আবু তালিবকে জড়িয়ে ধরে তাঁর কপালে চুমু খেয়ে বললেন- “নিশ্চয়ই জাফর ও তার বন্ধুরা দুটি হিজরত করেছে- হাবশায় একটি হিজরত ও আল-মদিনা আল- মুনাওয়ারাতে আরেকটি হিজরত।

Related posts

কারবালা ইতিহাস: সত্য-মিথ্যার বিভেদ প্রাচীর

জ্ঞান ও প্রজ্ঞার আলোকবর্তিকা: ইমাম মুহাম্মদ আল-বাকির (আ.)-এর জীবন ও শাহাদাত

পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য: জান্নাত লাভের সহজ পথ

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More