বেলায়েত বলতে ধর্মীয় বিশ্বাসে নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব করাকে বুঝায়। যা বৈপ্লবিক চিন্তা ও চেতনার উৎসমূল হিসেবে পরিগণিত এবং এর সঠিক গতিধারায় ইসলামের অনেক বিষয়াবলীর বিকাশ ঘটে। বেলায়েত এক অর্থে মহান আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত (কেননা, আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টিজগতের একমাত্র স্রষ্টা ও পালনকর্তা), অন্য অর্থে রাসুলের (সাঃ) সাথে সম্পর্কিত (কেননা, তিনি হলেন রেসালতের ধারক ও বাহক) এবং আরও এক অর্থে মাসুম ইমামগণের (আঃ) সাথে সংশ্লিষ্ট (কেননা, তাঁরা রেসালতের শাশ্বত বাণীকে যে কোন ধরনের বিকৃতি ও বিচ্যুতির হাত থেকে সংরক্ষণ করে তা মানুষের বাস্তব জীবনে প্রতিফলনের গুরুদায়িত্ব পালন করে থাকেন)। অতএব, বেলায়েত মানুষের মৌলিক চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা, মানুষ শয়তানের প্রতারণা, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, হতাশা ও বিচ্যুতির শিকার হয়ে মনুষ্যত্ববোধ হতে দূরে সরে যেতে পারে। যদি মানুষ এমনটি অনুভব না করে যে, এক মহাপরাক্রমশালী শক্তি তাকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে এবং এমনকি কঠিন বিপদসংকুল মুহূর্তেও সে তাকে পরিত্রাণ দান করবে; তবে সে যেকোন সময়ে জীবন যুদ্ধে পরাজয়ের শিকার হতে পারে। মানুষ এমন আত্মিক প্রশান্তি ও নিরাপত্তা কেবলমাত্র আল্লাহর বেলায়েতের (নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের) মাধ্যমে অনুভব করে থাকে এবং উক্ত অনুভব শক্তি তাকে অন্ধকারাচ্ছন্নতা হতে আলোর পথে ও সিরাতাল মুস্তাকিমের দিকে হেদায়েত দান করে। রাসুলের (সাঃ) বেলায়েত প্রসঙ্গে বলা যায় যে, মূলতঃ তাঁর বেলায়েত হচ্ছে এমনই এক সর্বোত্তম পথ যেটির শুরু ও শেষ উভয়দিকই পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটা এমনই এক পথ, যা অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও আলোকিত এবং তা মানুষকে আল্লাহর দিকে হেদায়েত দান করে। কেননা, আমরা জানি যে, রাসুলে খোদা (সাঃ) কখনও নিজ ইচ্ছায় কোন কথা বলেন না। বরং তিনি যা কিছু বলেন তা হচ্ছে সম্পূর্ণ ওহী নির্দেশিত। অতএব, তাঁর কথা, কাজ ও জীবনপদ্ধতি সবকিছুই মানবজাতিকে সৌভাগ্য ও কল্যাণের পথে আহ্বান জানায়। তাঁর আনীত দ্বীন হচ্ছে সর্বোত্তম ও পরিপূর্ণ এবং তা মানুষের যাবতীয় আধ্যাত্মিক ও পার্থিব চাহিদাসমূহ পুরণে সক্ষম। তাঁর প্রদত্ত নেতৃত্ব এতই অধিক সুমহান ও মর্যাদাসম্পন্ন যা চিন্তা ও চেতনার সুষ্ঠু বিকাশে সহায়তা দান করে। ইমামগণের (আঃ) বেলায়েত তথা নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব মূলতঃ ইমামগণ (আঃ) হচ্ছেন মানবজাতিকে আল্লাহর পথে আহ্বানকারী। তাঁরা আল্লাহ মনোনীত মাসুম পথপ্রদর্শক এবং যেকোন ধরনের ভুল-ভ্রান্তির উর্ধ্বে। মানবজাতির দায়িত্ব হচ্ছে তাঁদের আদেশ নিষেধ যথাযথভাবে মেনে চলা, যাতে করে (যা স্বয়ং খোদাপ্রদত্ত) তাঁদের অত্যুজ্জ্বল জ্যোতির আলোকে যে কোন ধরনের বিচ্যুতি থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করে ইসলামের সঠিক ও সত্য পথে হেদায়েতপ্রাপ্ত হওয়া যায়। রেসালত ও ইমামতের গতিধারায় বেলায়েতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অত্যধিক। যা সর্বদা মানুষের চিন্তা-চেতনা ও আমলের পাশাপাশিই থাকে, ফলশ্রুতিতে মানুষ আলোকিত পথ এবং সর্বোত্তম ও সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে খোদামুখী হওয়ার সুযোগ পায়। সুতরাং, মানুষ যদি বেলায়েতের সাথে সুগভীর সম্পর্ক স্থাপনে সক্ষম হয়, তবে বিপথগামী ও বিচ্যুতি হতে পরিত্রাণ পাবে এবং সঠিক পথে হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে। সাথে সাথে বেলায়েতের অনুপম স্পর্শে মানুষের অস্তিত্বে এক অতুলনীয় ভক্তি ও ভালবাসার উন্মেষ ঘটবে, যা মানুষের হৃদয়ে পুঞ্জিভূত নানাবিধ ব্যথা-বেদনাকে হ্রাস করবে। অতএব, বেলায়েতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন মানুষের মাঝে নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের প্রয়োজনবোধের মানসিকতা সৃষ্টি করে এবং তাকে সকল ধরনের পথভ্রষ্টতা, হতাশা ও সন্দেহ প্রবণতা হতে নাযাত দেয়। এখন একটি প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক যে, কিভাবে আহলেবাইতের (আঃ) বেলায়েতকে (যা মূলতঃ আহলেবাইতের (আঃ) অনুসরণের মাধ্যমে অর্জিত হয়) আমাদের বাস্তব জীবনে কার্যকর করতে পারি? এখানে একটি বিষয় বিচার-বিশ্লেষণ করা খুবই জরুরী আর তা হচ্ছে : বেলায়েত কেবলমাত্র একটি আবেগ-আপ্লুত কোন বিষয় নয় যে, মানুষ তার মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বিশেষের প্রতি আবেগতাড়িত হয়ে তাকে ভক্তি ও শ্রদ্ধা করবে। যেমনভাবে প্রচলিত সাধারণ ভালবাসাতে মানুষ যখন কারও প্রতি আসক্ত হয়, তখন তার চিন্তাধারা এবং দায়িত্ব ও কর্তব্যকে ভুলে কেবলমাত্র বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যেই আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। তেমনভাবে রাসুল (সাঃ) ও মাসুম ইমামগণের (আঃ) প্রতি অনেকের ভক্তি ও ভালবাসা কেবলমাত্র তাদের ব্যক্তিত্বের মাঝেই সীমাবদ্ধ। এ ধরনের লোকেরা রাসুল (সাঃ) ও ইমামগণের (আঃ) মহিমান্বিত ফজিলত ও অনুপম ব্যক্তিত্বকে তাঁদের ব্যক্তি জীবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে। এমনকি রেসালতের সুমহান ফজিলতকে কেবলমাত্র রাসুলের (সাঃ) ব্যক্তি জীবনের সাথেই সংশ্লিষ্ট মনে করে। অনুরূপভাবে তাদের ধারণানুসারে ইমামত হচ্ছে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ পদ, যা ইমামের ফজিলত ও মর্যাদাকে বৃদ্ধি করে থাকে। এ ধরনের লোকেরা কখনও রেসালতের ধারাকে যা মূলতঃ রাসুল (সাঃ) ও ইমামগণকে (আঃ) এক মহিমান্বিত আসনে অধিষ্ঠিত করার সাথে সাথে রাসুলকে (সাঃ) আধ্যাত্মিকতা ও বিচক্ষণতার সর্বশীর্ষে সমাসীন এবং ইমামদের জন্য এক অতি পবিত্রতম দিগন্ত উন্মোচন করেছিল, সে দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে না। বস্তুতঃ এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই রাসুল (সাঃ) মানবজাতিকে আল্লাহ নির্দেশিত পথে হেদায়েত দান করেছেন। সাথে সাথে ইমামগণ (আঃ) ধারাবাহিকভাবে মানুষের বাস্তব জীবনে ইসলামের বিধানাবলীর যথাযথ বাস্তবায়নে মানবজাতিকে হেদায়েত ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। যাতে করে মুসলিম উম্মাহ যে কোন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজেদের নানাবিধ ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্বাবলী সম্পর্কে সদা সচেতন থাকতে পারে। অতএব, রাসুলের (সাঃ) বেলায়েত ও ইমামগণের (আঃ) বেলায়েত (যা মূলতঃ রাসুলের (সাঃ) বেলায়েতের ধারা থেকে উৎসারিত) তাঁদের মহিমান্বিত ফজিলত ও মর্যাদার বিকাশ ঘটায়। প্রকৃতপক্ষে রাসুল (সাঃ) ও ইমামগণের (আঃ) সাথে সম্পর্ক যা সার্বিক অনুসরণ ও ভক্তিপোষণের মৌলনীতি হিসেবে বিবেচিত, তা ইসলামের সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতেই গড়ে উঠা বাঞ্ছনীয়। যাতে করে ইসলামের বেঁধে দেওয়া চৌহদ্দির মাঝেই সকল ধরনের অনুকরণ, অনুসরণ ও ভালবাসার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। তাহলে সেক্ষেত্রে কোন ধরনের বাড়াবাড়ির সম্ভবনা থাকে না এবং একজন মানুষকে কখনও স্রষ্টার পর্যায়ে বিবেচনা করা হবে না, পবিত্র কোরআনের অনেক আয়াতে রাসুলকে (সাঃ) একজন মানব হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং কিছু সহজাত দূর্বলতা যা তাঁর ইসমাত (পাপশূণ্যতা) ও নবুয়্যতের সাথে কোনরূপ বৈপরীত্যের সৃষ্টি করে না, সে সম্পর্কে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ইসলামের স্বার্থে ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) বলেছেন : আমাদেরকে এবং ইসলামের নির্দেশানুসারে অনুকরণ ও অনুসরণ করবে। উপরোক্ত হাদীসটির মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে রাসুলে খোদা (সাঃ) ও ইমামগণের (আঃ) প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা অবশ্যই ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে হতে হবে এবং এক্ষেত্রে কখনও ইসলামের বেঁধে দেওয়া পরিসীমা অতিক্রম সমীচীন নয়। যেহেতু তাঁরা হচ্ছেন ইসলামের মর্মবাণী ও মূল্যবোধের প্রতিচ্ছবি। সেহেতু তাঁদের সাথে আমাদের সংশ্লিষ্টতা ইসলামের সাথে সংশ্লিষ্টতার অনুরূপ হওয়া বাঞ্ছনীয়। অতএব, ইসলাম ও আহলেবাইতকে (আঃ) কখনও ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিতে বিবেচনা করা উচিত নয়। সাথে সাথে আহলেবাইতের (আঃ) প্রতি ভক্তি ও ভালবাসাপোষণের ক্ষেত্রেও কখনও ইসলামের মূলনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। পূর্বে আলোচিত প্রশ্নের ধারাবাহিকতায় এখন আরও একটি বিষয় উত্থাপিত হওয়া স্বাভাবিক যে, বর্তমান বিশ্বে কিভাবে আমরা নিজেদের জীবনে আহলেবাইতের (আঃ) বেলায়েতকে বাস্তবায়িত করতে পারি? আমরা কী কেবলমাত্র তাদের জন্ম দিবসসমূহে আনন্দ উৎসব এবং শাহাদত দিবসসমূহে শোকানুষ্ঠান উদযাপনকে যথেষ্ট মনে করতে পারি আমরা কী শুধুমাত্র তাঁদের ফজিলত ও মর্যাদা বর্ণনাতেই ব্যস্ত থাকব কেবলমাত্র আবেগময় পরিবেশে তাঁদের প্রতি ভক্তিপোষণকেই যথেষ্ট মনে করব? প্রকৃতপক্ষে পবিত্র আহলেবাইতের (আঃ) সাথে সম্পর্কের ধরণ কি কখনও এমনটি হওয়া উচিত? আমার বিশ্বাসানুসারে ইসলামের হুকুম আহকামের প্রতি যথাযথ বিশ্বাস ও আমলের মাধ্যমে আমাদের জীবনে আহলেবাইতের (আঃ) বেলায়েতে বাস্তবায়ন সম্ভব। বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে আমাদের অত্যাবশ্যকীয় কর্তব্য হচ্ছে, যে সমস্ত সাম্রাজ্যবাদীরা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে চিন্তা ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে লিপ্ত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা। সাথে সাথে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের আদেশ-নিষেধ সম্পূর্ণরূপে মেনে চলা। আর এটাই হচ্ছে রাসুল (সাঃ) ও ইমামগণের (আঃ) প্রতি আনুগত্য পোষণের সর্বোত্তম পথ। কেননা, তাঁরা সর্বক্ষেত্রে ইসলাম ও মুসলমানদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব ও প্রাধান্য দিয়েছেন। আর তাঁদের মিশনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মানুষদেরকে খোদামুখী করা, কোন ব্যক্তি বিশেষের প্রতি সম্পৃক্ত করা নয়। তাঁরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন মানুষদেরকে ইসলামের সুমহান শিক্ষায় এমনভাবে দীক্ষিত করতে যাতে করে মানুষের সমস্ত সত্ত। জুড়ে একমাত্র মহান আল্লাহর ভক্তি ও ভালবাসাতে পরিপূর্ণ থাকে। সুতরাং, উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট হয় যে, রাসুলে খোদা (সাঃ) এ কারণে সর্বোত্তম ফজিলতের অধিকারী যে, তিনি হলেন আল্লাহ তা’য়ালার প্রেরিত সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল। আর আহলেবাইতের (আঃ) সদস্যগণ এজন্যেই অপরিসীম ফজিলত ও সম্মানের অধিকারী যে, তাঁরা হচ্ছেন মহান আল্লাহর মনোনিত ওলী-আওলীয়া। যদি এমন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমরা রাসুলে খোদা (সাঃ) ও তাঁর আহলেবাইতকে (আঃ) স্মরণ করি, তবে কখনও এক মুহূর্তের জন্যেও আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল হব না। আর যদি আহলেবাইতের (আঃ) নির্দেশিত পথে জীবনধারণ করি, তবে কখনও ইসলামের আদর্শ হতে বিচ্যুতির শিকার হব না। কেননা, জীবনের সার্বিক গতিধারায় বেলায়েতের পথটি, ইসলামের বাইরের কোন পথ নয়। অবশ্য, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আহলেবাইতের (আঃ) রেখে যাওয়া অতিব গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক সম্পদ (হাদীস ও রেওয়ায়েতসমূহ) যথেষ্ট তথ্য- প্রমাণের ভিত্তিতে অত্যন্ত সূ্ক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ভাবে বিশ্লেষণ করা খুবই জরুরী। কেননা, হয়তো বা অনেক স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থের নিমিত্তে আহলেবাইতের (আঃ) নামে নানাবিধ জাল ও ভিত্তিহীন হাদীস প্রচার করতে পারে। স্বয়ং মাসুম ইমামগণ (আঃ) এ বিষয়ে অত্যধিক গুরুত্বারোপ করেছেন এবং আমাদেরকে তাঁদের নামে প্রচারিত হাদীসসমূহকে পবিত্র কোরআনের সাথে মিলিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন : যদি বর্ণিত হাদীসসমূহ পবিত্র কোরআনের পরিপন্থী হয়ে থাকে, তবে তা আদৌ আমাদের হাদীস নয় এবং যা কিছু কোরআনের পরিপন্থী তা অবশ্যই বর্জনীয়। হ্যাঁ, পবিত্র কোরআন হচ্ছে মহান আল্লাহর প্রেরিত আসমানী গ্রন্থ এবং কোনরূপ মিথ্যা সেটাকে আদৌ স্পর্শ করতে পারবে না। তা কখনও বিন্দুমাত্র বিকৃতির শিকার হয়নি এবং আজ অবধি কোন বিকৃতিকারী এ মহাগ্রন্থের একটি অক্ষরেরও পরিবর্তন ও পরিবর্ধনে সক্ষম হয়নি। আর এ কারণে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ্ তর্কাতীতভাবে এক কোরআনে বিশ্বাসী এবং কোন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর কাছে ভিন্নরূপ কোরআনের অস্তিত্ব পাওয়া যাবে না। বলা বাহুল্য, এক ও অভিন্ন আল্লাহ্, রাসুল (সাঃ) ও দ্বীন ইসলাম ছাড়াও আল কোরআনও মুসলিম উম্মাহর ইসলামী ঐক্যের অন্যতম ভিত্তিস্বরূপ ।
873
আগের পোস্ট
