জ্ঞানীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং আলাভীদের প্রাধান্য দেয়া

সংকলন : ইয়াসিন মেহদী

by Syed Yesin Mehedi

নিঃসন্দেহে রাসূলুল্লাহর (সা.) সন্তানাদি ও বংশধারার সম্মান ও মর্যাদা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। স্বয়ং নবী নন্দিনী ফাতেমা যাহরাও (আ.) মসজিদুন্নববীতে প্রদত্ত ঐতিহাসিক খুতবাতে এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। প্রত্যেক মর্যাদাবান ব্যক্তিত্বের সম্মান ও মর্যাদা তার ওফাতের পরও তার সন্তানাদির ক্ষেত্রে বহাল থাকে। কিন্তু তদুপরি একজন আলাভী (সাইয়েদ) বংশোদ্ভূত নয় এমন পন্ডিত ব্যক্তি যদি যোগ্যতার সাথে ইসলাম ও শিয়া মাযহাবের প্রতিরক্ষায় আত্মনিয়োগ করে এবং এ উপায়ে মানুষের ঈমান ও আকিদাকে সুরক্ষায় সক্ষম হয়; তবে সে নিঃসন্দেহে এমন বৈশিষ্ট্য শুন্য আলাভী বংশোদ্ভূত ব্যক্তি অপেক্ষা শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। ইমাম হাসান আসকারী (আ.) বলেন: শিয়া মাযহাবের অনুসারী এক ফিকাহবিদ নাসেবী ও আহলে বাইতের (আ.) বিরোধীদের সাথে মুনাযিরায় সফলতা অর্জনে সক্ষম হয়; সে আমার পিতা ইমাম হাদীর (আ.) নিকট আসলে তিনি তাকে বিশেষ সম্মানের সাথে নিজের পাশে বসান। এ ফিকাহবিদের প্রতি ইমামের (আ.) বিশেষ সম্মান আলাভীদের এমনকি আব্বাসীয়দের বিস্মত করে। তারা ভাবছিল যে, কেন ইমাম (আ.) তাদেরকে উপেক্ষা করে এ ব্যক্তিকে এমন বিশেষ সম্মানে ভূষিত করছেন। ফলে তারা আপত্তির সুরে জিজ্ঞাসা বলল যে, আলাভী বংশোদ্ভূত নয় এমন ব্যক্তিকে আলাভীদের উপর প্রাধান্য দানের হেতু কি? ইমাম হাদী (আ.) বলেন: তোমরা কি চাও পবিত্র কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে তোমাদের জবাব দিব? সকলেই বলল: অবশ্যই। অতঃপর ইমাম (আ.) নিম্নের আয়াতটি তেলাওয়াত করেন, “হে ঈমানদারগণ! যখন তোমাদের বলা হয়: বৈঠকে স্থান প্রশস্ত করে দাও, তখন তোমরা (অপরের জন্য) স্থান প্রশস্ত করে দাও। তাহলে আল্লাহ তোমাদের জন্য স্থান প্রশস্ত করে দিবেন এবং যখন বলা হয়: তোমরা উঠে যাও, উঠে যেও। (আর যদি এমনটি কর তাহলে) তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদের মর্যাদাকে উন্নীত করবেন। আল্লাহ তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত। “১ উপরোক্ত আয়াতটিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে; যথা: ১. যখন কেউ কোন বৈঠকে প্রবেশ করে, তখন অন্যদের উচিত তার বসার সুযোগ দেয়া। ২. যখন বলা হয় যে, উঠে যাও এবং বৈঠক ত্যাগ কর; তখন উঠে যাওয়া উচিত। কেননা হয়তো সদ্য আগত ব্যক্তি পথের ক্লান্তির কারণে অন্যদের তুলনায় বেশি বসার প্রয়োজন অনুভব করে। “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদের মর্যাদাকে উন্নীত করবেন।” অর্থাৎ মু’মিন ও জ্ঞানী ব্যক্তিরা বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী এবং এমন সম্মানজনক অবস্থানের কারণে তারা অন্যদের তুলনায় অধিক মর্যাদাপূর্ণ আসনে সমাসীন। দশম ইমাম হযরত ইমাম হাদীর (আ.) আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও জ্ঞানগর্ভ মুনাযিরা রয়েছে। কিন্তু কলেবর বৃদ্ধি হবে বিধায় তা বর্ণনা থেকে বিরত থাকছি।

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔